নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, ২৬ সফর ১৪৩৮
আজও তুমি
ফারজানা মিতু
রঞ্জু, এই রঞ্জু। পেছন থেকে ভেসে আসে খুব চেনা গলায় ডাক। রঞ্জু ফিরে তাকায়। সামনে এসে চশমার ফাঁক দিয়ে গভীরভাবে দেখে। তনু?

চিনতে পেরেছ তাহলে?

কি যে বলো, সময় হারিয়েছে বলে কি সবই হারিয়েছে?

হারায়নি? তনু চোখের কোণে জমা অশ্রুবিন্দু একটু লুকানোর চেষ্টায় অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে একটু হাসবার চেষ্টা করে। তারপর কী করছ আজকাল?

তেমন কিছু না। একটা ইউনিভার্সিটিতে আছি।

বাহ্! ভালোই তো। তোমার কথা তোমার ছাত্রছাত্রীরা কি শোনে?

রঞ্জু একটু হাসে। শুনবে না কেন? সবাই কি তোমার মতো বেয়াড়া নাকি?

আমি বুঝি বেয়াড়া ছিলাম?

ছিলেই তো। কিছুই শুনতে চাইতে না। নাশতা খেতে বললে, বলতে খিদা নেই। ঘুমাতে যেতে বলতে ঘুম আসছে না। আমি বুঝে পেতাম না সকাল এগারটায় কীভাবে খিদে না লাগে আর রাত একটায় ঘুম কীভাবে না আসে?

বুঝবে কী করে? তুমি চাইতে সবকিছু অক্ষরে অক্ষরে তোমাকে বুঝিয়ে দিই আর আমি চাইতাম তুমি আমার না বলা প্রতিটা কথা চোখ বন্ধ করে পড়ে নাও।

রঞ্জু আবারও তনুর চোখের দিকে তাকায়। চলো কোথাও বসি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবে কথা হয় না। চলো ঢাকা ইউনিভার্সিটির দিকে যাই। যাবে?

চলো যাই।

রিকশা ডাকব?

হম।

রিকশায় উঠে, অনেকক্ষণ কারো মুখে কোনো কথা থাকে না। দুজনের মনে তখন সেই ফেলে আসা দিনগুলো উঁকি মেরে যায়। আগে রিকশায় উঠে রঞ্জু পেছনে হাত রেখে বসত। খুব কাছাকাছি রিকশায় বসে দুজনের কত খুনসুটি, বৃষ্টিতে জুবুথুবু হয়ে বসা। কোথায় হারিয়ে গেল সব? আজ এত কাছে বসেও কোথায় যেন অনেক দূরত্ব।

বিকেলের এই সময়ে অন্যদিন অনেক লোকজন থাকলেও আজকে এখনো কিছুটা নীরব। ডাস ক্যান্টিন সেই আগের মতোই আছে তাই না রঞ্জু?

হম। অনেক দিন পর এলে? আমার মাঝে মাঝে আসা হয়।

নাহ্। আমার আসা হয় না। বড়লোকের বউদের কি এসব জায়গায় মানায়?

বড়লোকের বউ বুঝি? কী করে তোমার কর্তা?

ব্যবসায়ী। দেশে-বিদেশে ঘুরেই ওর সময় চলে যায়।

বাহ্! ভালোই আছ তাহলে।

হে ভালোই থাকি সেটাই তো চেয়েছিলে। যাওয়ার সময় এই অজুহাতেই তো চলে গিয়েছিলে আমি তাহলে নাকি ভালো থাকব।

ভালো কি নেই তুমি?

অনেক ভালো আছি।

তাহলে এখন স্বীকার করছ আমি ঠিক কাজই করেছিলাম। তনু কিছু না বলে উড়ে যাওয়া একটা পাখির দিকে তাকিয়ে থাকে। আর রঞ্জু তাকিয়ে থাকে তনুর দিকে। এই সাত বছরে খুব একটা বদলায়নি তনু। শুধু রঙটা একটু চাপা হয়েছে আর একটু মেদ জমেছে পেটের কাছে। তার পরও এ মেয়েটির দিকে এখনো তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।

কী দেখছ এমন করে? তনু রঞ্জুর দিকে না তাকিয়েই জিজ্ঞেস করে।

রঞ্জু হেসে ওঠে। এখনো আগের মতো করে বুঝতে পারো তাই না?

হম পারি। মনে মনে বলে তুমি বদলালেও আমি তো বদলাইনি রঞ্জু।

কী ভাবছ তনু?

নাহ্ কিছু না। তুমি বিয়ে করেছ রঞ্জু?

হে করেছি।

কেমন হয়েছে তোমার বউ? অনেক সুন্দর নিশ্চয়ই? তোমার তো সুন্দর ছাড়া বিয়ে করার কথা না। আমার চেয়ে ভালো কাউকে পাবে বলেই তো চলে গেলে তাই না?

রঞ্জু হাসে। আমার কোনো উপায় ছিল না তনু। বিশ্বাস করো উপায় থাকলে আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যেতাম না। খুব অসহায় বোধ করছিলাম।

কী বিশ্বাস করব রঞ্জু? তোমাকে নাকি তোমার প্রেমকে? সত্যি যদি আমাকে চাইতে, তাহলে উপায় নেই এ কথাটা বলতে না। যা কিছুই হোক, হাত ছেড়ে দিতে না। একবারও ভাবোনি আমার কথা, একবারও মনে হয়নি তোমার কাছে যেটা ভালো মনে হয়েছে, সেটা আমার জন্য সত্যিই ভালো কিনা। জানো রঞ্জু, আজও ঘুম ভাঙার পর মনে হয় তোমার সঙ্গে আজকে দেখা হবে। মনে হয় যে কোনো সময় আমার হাতের মোবাইলে তোমার নাম্বার থেকে ফোন আসবে। বারান্দায় দাঁড়ালে মনে হয়, দেখব নিচেই তুমি দাঁড়িয়ে আছ। তনুর গলার স্বর ভিজে আসে। মাথা নিচু করে ফেলে। রঞ্জুর খুব ইচ্ছে হয় তনুর চোখের পানি মুছিয়ে দেয়ার কিন্তু পারে না। জানে আর কখনো চাইলেও পারবে না। তনু একটা কথা জিজ্ঞেস করি, সত্যি করে বলবে?

বলো।

তোমার বর কি আমার মতোই ভালোবাসে তোমাকে? আমি যেভাবে বাসতাম।

না বাসে না, তবে যতটাই বাসে, আমাকে ছেড়ে যাবে না তোমার মতো।

রঞ্জুর চোখ জ্বালা করে ওঠে। তুমিও কি বাসো?

বাসাই কি উচিত না রঞ্জু?

রঞ্জু কোনো কথা না বলে চুপ করে থাকে।

তোমার বউয়ের কথা বলো। আমাকে যেভাবে স্পর্শ করতে সেভাবেই কি করো? সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কি বেলি ফুল কিনে নিয়ে যাও? তোমার বউ কি আমার মতোই বেলি ফুল পছন্দ করে রঞ্জু?

আহ্ তনু, প্লিজ। থাক না এসব কথা।

কেন রঞ্জু, অপরাধবোধ? নাকি লজ্জা? কোনটা?

রঞ্জু ছলছল চোখে তাকায়। যদি বলি সবই, বিশ্বাস করবে?

নাহ্! আমি তোমাকে আর বিশ্বাস করি না।

রঞ্জু গভীর নিঃশ্বাস ফেলে, বিশ্বাস না হয় করো না, ভালোবাসা? নাকি সেটাও না?

এটা জেনে তুমি কী করবে রঞ্জু? তারচেয়ে এই ভালো না জেনে থাকা।

না জেনে থাকতে চাইলেই কি মন সেটা মানবে তনু? বাসায় ফিরে মনে হবে না কেন সবকিছু জানতে চাইলাম না?

এটা একসময় মনে হতো, এখন আর হয় না। এখন নিজেকে এই বলে বোঝাই, তুমি যাবে বলেই এসেছিলে। যাও রঞ্জু, বাসায় যাও। আমার কাছে আর কিছু নেই তোমার। আমারও আজ কিছুই বাকি নেই তোমার থেকে নেবার। তনু হাতের ঘড়ির দিকে তাকায়।

কি যেতে হবে তনু?

তনু হাসে। যেতে যেহেতু হবেই, চলে যাওয়াই কি ভালো না? যত সময় যাবে, কষ্টগুলো ডানা ঝাপটাবে আবার। তুমি যাবে না?

যাব, আগে তুমি যাও। খুব লোভ হচ্ছে তোমাকে আগের মতো আবারও চলে যেতে দেখতে। তুমি আগে চলে যাওয়ার সময় আমি তাকিয়ে দেখতাম আর অপেক্ষায় থাকতাম এই বুঝি তুমি ফিরে তাকাবে। তুমি কখনো তাকাতে, কখনো না।

রঞ্জু একটা অনুরোধ রাখবে? আজকে আমি চলে যাওয়ার সময় তুমি তাকিয়ে দেখবে না, কারণ আজকে আমার বারবার ইচ্ছে হবে তোমাকে ফিরে দেখবার কিন্তু তুমি তাকিয়ে থাকলে সেটা আমি পারব না। তখন আমার ইচ্ছে হবে না চলে যাওয়ার। তনু উঠে দাঁড়ায়। এক এক করে পা ফেলে খুব আস্তে হেঁটে যেতে থাকে, প্রচ- ইচ্ছে করে ফিরে তাকানোর কিন্তু তার পরও তাকায় না। তনু জানে রঞ্জু আজকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকবে না, তনুর অনুরোধ রাখবে কিন্তু তনু তার পরও ফিরে তাকাবে না। তনু যেমন ফিরে দেখবে না, তেমনি তনু চায় না রঞ্জুও দেখুক। এতক্ষণ পাশাপাশি থাকার যে স্মৃতি, সেটাই শেষ স্মৃতি হয়ে থাক। রঞ্জু আমি তোমাকে মিথ্যে বলেছি, আমি আমার স্বামীকে একটা দিনের জন্যও ভালোবাসতে পারিনি তাই ছেড়ে চলে এসেছি অনেক আগেই।

রঞ্জু কথা রেখেছে, ফিরে তাকায়নি। তাকালেও দেখতে পেত না ঠিকমতো। রঞ্জুর চোখ ভরা পানি। তনু, বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে ছাড়া ভালো নেই, থাকাও হবে না। তোমার জন্য তোমাকে ছেড়ে এসেছি, নিজের জন্য নয়। তনু তোমাকে বলা হলো না, আমি আজও তুমি ছাড়া আর কারো হাত ধরতে পারিনি। আমার সবকিছু মানে আজও তুমি। আজও বেলি ফুটলে তোমার নাম করে কিনি। সেটা কাউকে দেয়ার জন্য নয়। প্রতি বৈশাখে আমার ঘর ভরে যায় বাসি বেলির গন্ধে। যদি পারো কখনো এসে দেখো। রঞ্জু চোখ মুছে উঠে দাঁড়ায়, হাঁটতে থাকে তনুর উল্টো পথ ধরে। যে পথে ওদের দুজনের আর কখনো দেখা হবে না।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ১৫
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩২২৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.