নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২১, ২৪ মহররম ১৪৩৬
সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সেবা
বিড়ম্বনায় ব্যবহারকারী ও সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান
আবু জাফর
টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ ২টি সিন্ডিকেটের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় দেশ্যব্যাপী কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সমপ্রসারিত হচ্ছে না দ্রুতগতির আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। ফলে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন ব্যবহারকারি ও ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে গণভবনে ইন্টারনেট সেবা দানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আইসপি এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্যে আরো কয়েকটি এনটিটিএন লাইসেন্স দেয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ওইসময় মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকি সরাসরি বর্তমান ২টি কোম্পানির পক্ষ নিয়ে প্রস্তাবটি উপেক্ষা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্যবধি আর কাউকে এনটিটিএন লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে না। সুত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি থেকে দেশব্যাপী ইন্টারনেট ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য এনটিটিএন লাইসেন্স পেয়েছে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান। তারা সারাদেশে অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটি তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেরা লাইন না বসিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির নেটওয়ার্ক লিজ নিয়ে সেই পুরনো প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। ওইসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করছে যে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই লাইসেন্স পাচ্ছে না। অথচ যতবেশি প্রতিযোগী থাকবে, তত দ্রুত নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ ও গ্রাহকরা তুলনামূলক অনেক কম মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারবে। অথচ বর্তমান লাইসেন্সপ্রাপ্ত ২টি কোম্পানি লাইসেন্সের গাইডলাইন অনুযায়ী দেশব্যাপী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন না করে সরকারি ৩টি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল, পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক কম মূল্যে ভাড়া নিয়েছে। তারা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর ও অন্যান্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট উচ্চ মূল্যে ভাড়া দিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করে নিজেরা এই ব্যাবসা পরিচালনার জন্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যা এই লাইসেন্স এর গাইডলাইনের পরিপন্থী। তাদের এই মনোপলি ব্যাবসা টিকিয়ে রাখার জন্যেই যেন অন্য কোনও যোগ্য কোম্পানি এই লাইসেন্স নিতে না পারে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সমপ্রতি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশনের সবর্োচ্চ প্লাটফর্ম আটিইউ'র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কাউন্সিল মেম্বার নির্বাচিত হয়েছে। পরপর দ্বিতীয় বারের জন্যে এই সন্মান বাংলাদেশের জন্যে বড় প্রাপ্তি। তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে আগামি ২০২১ সালের ভিতরে দেশের ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৩৫ ভাগকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আশা হবে এবং শতকরা ৭০ ভাগ থাকবে মোবাইল নেটওয়াকের্র মধ্যে। এই লক্ষ্য পুরণের জন্যে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন লাইনের ব্যাকবোন স্থাপনের আর কোনো বিকল্প নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রডব্যান্ডকেই এখন উন্নয়নের নতুন জিয়ন কাঠি হিসাবে দেখা হয়। আর নতুন মানদ- যেহেতু প্রযুক্তিনির্ভর তাই রাজনৈতিক ও ভৌগলিক সীমা অতিক্রম করে সহজেই আন্তর্জাতিক রূপ নিয়ে ফেলে। উন্নয়নশীল দেশও এমন সব প্রযুক্তির সুপার ইনফরমেশন হাইওয়েতে প্রবেশ করতে পারে যার অধিকাংশই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট না থাকার ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। ফলে অনেক বিখ্যাত অর্থনিতিবিদ ব্রডব্যান্ডকে বিশ্ব উন্নয়নের মাপকাঠি হিসাবে ধরছে। সূত্র জানায়, এনটিটিএন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ এতই প্রভাবশালী যে অনেক ক্ষেত্রে অনুমতির তোয়াক্কা না করেই দেশের বিভিন্নস্থানে অনেক অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে। তারা বিটিআরসি বা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশও মানছে না। তাদের বিরুদ্ধে আরো বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তারা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে অপারেটরদের ফাইবার অপটিক লাইন ভাড়া করে এনটিটিএন লাইসেন্সের নাম করে আবার ওই মোবাইল অপারেটরদেরকে ব্যান্ডউইথ ভাড়া প্রদান করছে। মোবাইল অপারেটররা এই ব্যাপারে অনেকদিন ধরে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করে আসলেও অজানা কারণে কোনও সুরাহা হচ্ছে না।

জানা যায়, সামিট কমিউনিকেশনের সাথে রবি এঙ্টিা দেশব্যাপী ৯০০ লিঙ্ক স্থাপনের জন্যে অনেক পুর্বে একটি চুক্তি করে। চুক্তির তারিখ থেকে ৪ মাসের ভিতরে লিঙ্ক স্থাপনের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তারা ব্যার্থ হয়। পরবর্তিতে আরও ১ মাস মেয়াদ বাড়ালেও আজও চুক্তি অনুযায়ী ৫০ ভাগ কাজও সম্পাদন করতে পারেনি। একই অবস্থা ফাইবারএটহোমের ক্ষেত্রেও। তারা টেলিটকের সঙ্গে নেটওয়ার্ক স্থাপনের চুক্তি করেও কাজ শেষ করতে পারছে না। তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা জানান, ইন্টারনেট দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক। যা আমাদের জাতীয় অর্থনিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। হিউম্যান সিভিলাইজেশনের প্রতিটি সেক্টর এখন অপটিক্যাল ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক মাধ্যম ছাড়া কোনভাবেই এগোতে পারবে না। আর এই যোগাযোগ মাধ্যমের প্রাণ হল ব্রডব্যন্ড। বিটিআরসি থেকে আরও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে দেশব্যাপী ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য এনটিটিএন লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করা হলেও অজানা কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। অথচ এনটিটিএন লাইসেন্স হচ্ছে একটি ওপেন পদ্ধতির অনুমোদন যা যেকোনো সময় নেয়া যায়। ১সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনটিটিএন লাইসেন্সের সুপারিশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয়া হলে দেশব্যাপি দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর ব্যাবহারের মুল্যও অনেক কম হবে। এতে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পের সঠিক রূপায়ন সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, দেশে ইন্টারনেট সেবার মান বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। দিনে দিনে এর সংখ্যা আরও বাড়ছে। ইন্টারনেট সেবার মান বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় আরও যেসব পদক্ষেপ নেয়ার দরকার তার সবই নেয়া হবে। দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হবে।

Fatal error: Uncaught exception 'PDOException' with message 'SQLSTATE[HY000]: General error: 26 file is encrypted or is not a database' in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php:7 Stack trace: #0 /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php(7): PDO->query('Update newsHitC...') #1 /home/janata/public_html/lib/index.php(135): require('/home/janata/pu...') #2 /home/janata/public_html/web/details.php(10): lib->newsHitCount() #3 /home/janata/public_html/web/index.php(28): include('/home/janata/pu...') #4 /home/janata/public_html/index.php(15): include('/home/janata/pu...') #5 {main} thrown in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php on line 7