নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২১, ২৪ মহররম ১৪৩৬
গ্যাসের দুর্গন্ধে রোগবালাই বাড়ছে
টেংরাটিলার আশপাশে মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস উদগীরণ : বিস্ফোরণ আতঙ্ক
সুনামগঞ্জ থেকে অরুন চক্রবর্তী
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের আশপাশে এখন মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস উদগীরণ শুরু হয়েছে। নরম মাটি, আশপাশের পুকুর, খাল, বিল-ঝিল, বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটে বুদবুদ আকারে বের হওয়া গ্যাসের চাপ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার একটি ও রোববার আরো দুটি পরিবারকে দুর্ঘটনার আশংকায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত দুদিন ধরে গ্যাসফিল্ডের আশপাশের অন্তত দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় নতুন নতুন স্থানে গ্যাস উদগীরণ শুরু হলে বিস্ফোরণ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এখন সর্বত্র। প্রতিটি ঘরের ভেতর চৌকাঠের নীচ ও রান্নারচুলা দিয়ে গ্যাস বের হতে থাকায় মারাত্নক ঝুঁকির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন এলাকার লোকজন। গ্যাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় বিপদজ্জনক এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে গ্যাস ফিল্ডে নাইকোর শুধু মাত্র নিরাপত্তা প্রহরী ব্যতিত বর্তমানে বিশেষজ্ঞ কেউ নেই এখানে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম থাকেন রাজধানী ঢাকায়। তার ব্যক্তিগত মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, বর্তমানে গ্যাস ফিল্ডে নেই। গ্যাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বুদ বুদের মাত্রাও বেড়েছে। এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, পুরো এলাকায় বুদ বুদ তীব্র আকার ধারণ করায় বর্তমানে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টেংরাটিলাসহ কয়েকটি গ্রামের সব ক'টি টিউবওয়েলের পানি এখন গ্যাসযুক্ত হয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস বাতাসের সাথে মিশে গিয়ে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে টেংরাটিলায়। নতুন করে টেংরামাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র রাস্তায় মারাত্নক ভাবে গ্যাস উদগীরণ হওয়ার ফলে ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে। গ্যাসের ক্ষতিকারক দুর্গন্ধে এলাকার শিশু-নারী বৃদ্ধরা নানা রোগবালাইয়ের শিকার হয়ে পড়ছেন ওই এলাকার অন্তত ৬ শতাধিক পরিবারের লোকজন। সর্দি-কাশি, জ্বর,নিউমোনিয়াসহ শ্বাস কষ্ট রোগের প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে মারাত্নক ভাবে। গ্যাস উদগীরণ তীব্র আকার ধারণ করায় ইতোমধ্যে পেট্রোবাংলা বাপেঙ্ কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র পরিদর্শন করে এলকাবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ব্যাপক হারে ঘরের ভেতর বুদ বুদ বের হতে থাকলে একটি বসত ঘর পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। আরো ৬টি পরিবারকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এখন টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেংরাটিলা বাজারসহ অসংখ্য বাড়ীঘর।টেংরামাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানান, দুটি বিদ্যালয়সহ একমাত্র যাতায়াত সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত দুদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে নতুন নতুন স্থানে বুদবুদ বের হতে থাকায় এবং গ্যাস উদগীরণের প্রচন্ড শব্দে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকে নরম মাটি এখন দেবে যেতে শুরু করেছে। টেংরাটিলা গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ঘরের ভেতরে বাইরে এখন তীব্রভাবে বুদবুদ বের হচ্ছে। গ্যাস উদগীরণের শব্দে রাতে ঘুমানো যায়না। শিশুরা ঘুমথেকে আঁতকে ওঠছে। দুই দিনে শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেছে আমার। চোখ দিয়ে অনর্গল পানি ঝরছে। গ্যাসের গন্ধে ঘরে থাকা যায়না। কামাল হোসেন বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা এসে আমাদের বসত ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন তবে কোথায় যাব তা বলেননি। ঘরের ভেতরের সব জায়গায় মারাত্নক ভাবে বুদবুদ বের হওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি পরিবার নিয়ে।

বয়োবৃদ্ধ ছকিনা বেগম (৬০) সাংবাদিকদের দেখে হাউ মাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, রাতে গ্যাসের শব্দে ঘুমাতে পারিনা। রান্না বান্না করতে না পেরে অনাহারে অর্ধাহারে পরিবার নিয়ে কোনো রকম আছি। আমাদের দেখার কেউ নেই। ২০০৫ সালে দু'বার বিস্ফোরণের ফলে সব হারিয়ে কোনো রকম ভিটে মাটিতে মাথা গুঁজে আছি এখনো। গ্যাস উদগীরণের কারণে গাছপালা কিছুই আমাদের বসতভিটায়।

Fatal error: Uncaught exception 'PDOException' with message 'SQLSTATE[HY000]: General error: 26 file is encrypted or is not a database' in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php:7 Stack trace: #0 /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php(7): PDO->query('Update newsHitC...') #1 /home/janata/public_html/lib/index.php(135): require('/home/janata/pu...') #2 /home/janata/public_html/web/details.php(10): lib->newsHitCount() #3 /home/janata/public_html/web/index.php(28): include('/home/janata/pu...') #4 /home/janata/public_html/index.php(15): include('/home/janata/pu...') #5 {main} thrown in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php on line 7