নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৭ জুন ২০১৭, ৩ আষাঢ় ১৪২৪, ২১ রমজান ১৪৩৮
ডালের দামে চাল কিনি
রাজু আহমেদ
উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যৌথভাবে কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরেও কাতারের অভ্যন্তরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যে নজীর সৃষ্টি হয়নি, তারচেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে চারপাশে বন্ধুঘেরা বাংলাদেশ। নবম সংসদ নির্বাচনে যে দল নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ টাকায় জনগণকে চাল খাওয়ানোর স্বপ্ন দেখিয়ে সরকার গঠনের মওকা পেয়েছিল তারা তাদের প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে যাওয়ায় গরিবের খাদ্য সর্বনিম্ন মানের চাল তথা মোটা চালও কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। অন্যান্য প্রায় সব চালের দাম ৭০ টাকার ঘরে। সন্দেহ নাই, বর্তমান সরকারের আমলে জীবনযাত্রার মান বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে।

কাজেই ব্যয় বৃদ্ধির প্রশ্ন স্বাভাবিক। তবে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, সরকার জনগণের আয় বাড়িয়েছে দ্বিগুন কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে পাঁচ থেকে সাতগুন। এবার উন্নতির কঠিন সমীকরণ সমাধানের ভার জনতার কাঁধেই থাকুক।

এদেশের মানুষের ৯০ ভাগের বেশিকে চাল কিনে খেতে হয়। এমন কোন পরিবার নাই যাদের প্রত্যহ অন্তত ৩ কেজি চালের কমে দিন অতিক্রম করা সম্ভব। দিনমজুর পরিবারের প্রত্যহ যদি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় এবং তা থেকে ১৫০-১৮০ টাকা চাল ক্রয়ের পিছনে ব্যয় হয় তবে অন্যান্য দ্রব্যাদি ক্রয়ের সক্ষমতা তাদের কতটুকু অবশিষ্ট থাকে ?

মৌলিক প্রয়োজনের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের সক্ষমতার নিশ্চয়তাও বা কতটুকু ? কৃষক পর্যায়ে যারা চাষবাসের সাথে জড়িত তারাও বিভিন্ন কারণে চাষবৃত্তি ছেড়ে দিচ্ছেন কেননা কৃষি উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে লাভ তো দূরের কথা তারা শ্রমের মূল্যটুকুও ক্ষেত-খামারের ফসল থেকে অর্জন করতে পারেনা। লাভের অধিকাংশ মধ্যসত্ত্বভোগী মুনাফাখোরদের পকেটে যায়। এ কারণে কৃষকের হাল বদলায়না এবং ক্রেতার ভোগান্তির শেষ থাকেনা। ফলাফলে, যথেষ্ট চাষযোগ্য জমি থাকার পরেও দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে রাষ্ট্রকে আমদানিমুখী হয়ে পরনির্ভরশীলতা দেখাতে হচ্ছে। চালসহ যেসব খাদ্য দ্রব্য আমদানি করা হচ্ছে, সময়ে সময়ে তা থেকে বিস্ফোরিত দুর্নীতির সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে। সবশেষে খেসারত দিতে হচ্ছে নীরিহ ভোক্তাদেরকে। যেকারণে ঘুর্ণনরত চিত্রে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের ব্যয় প্রত্যহ বাড়ছে।

এদেশের কৃষককে এখনো প্রকৃতির সন্তুষ্টি নির্ভর হয়ে চাষাবাদে মনোনিবেশ করতে হয়। প্রকৃতির রোশে দেশের কৃষি উৎপাদনে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তার চেয়ে শতগুন ক্ষতি বেশি হচ্ছে মানবসৃষ্ট দুর্যোগে। চলতি বছরের সিলেট বিভাগে উৎপাদিত খাদ্যশষ্যের প্রায় পুরোটাই পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে অথচ দেশের চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ খাদ্যশষ্য এখানে উৎপাদিত হত। এই ক্ষতির হেতুতেও দুর্নীতির গন্ধ প্রকাশ পেয়েছে। কেননা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে এসেছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত চাল মজুদ না থাকায় চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্ধকৃত কয়েকটি সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আমনের বীজ বপনের সময় উপস্থিত না হওয়ার পূর্বেই রাষ্ট্রীয় পর্যায় চালের সংকট দেখা দেয়ায় অন্তত আগামী চার মাস দেশের মানুষকে যে নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে পার হতে হচ্ছে তা প্রায় নিশ্চিত। কেন না ভিন্ন কোন দেশ থেকে চাল আমদানি করতে হলে চালের দাম, বহন খরচ এবং অঘোষিত টু-পাইস কামাইয়ের ধান্ধায় চালের দাম যে আপাতত নিম্নমূখী হচ্ছে না তা অনায়াসে বলা চলে।

মানুষের পেটে যদি ক্ষুধা থাকে তবে সরকার নাগরিকদের মুখে হাসি ধরে রাখতে ব্যর্থ হবে। জাতীয় নির্বাচনের সময় সনি্নকটে। কাজেই সরকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে চালের দাম সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে হবে। বর্তমানে মানুষের যা আয় তার সাথে ব্যয় ভারের সঙ্গতি রেখে জীবিকা নির্বাহ প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু অর্থমন্ত্রী মহোদয় কর্তৃক কৃষকদের ওপর করারোপের ঘোষণা দেশবাসীর ক্ষোভকে আর উস্কে দিচ্ছে। যে সরকার গণতন্ত্রের ধারাকে শিথিল রেখে জনগণকে উন্নয়ের স্বপ্নে বিভোর রাখলো তাদের থেকে বর্তমানে যে দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে তাতে সাধারণ ভোটাররা ভিন্ন আচরণ করলে তাতে বোধহয় অবাক হওয়ার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চলমান সমস্যা ও সংকট নিরসনে জোরদার ভূমিকা রাখতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে বেহাল চিত্র তার জন্য দায়ী রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং দুর্নীতি। মাথাপিচু আয় দেড় হাজার ডলার অতিক্রম করেছে, জিডিপি বেড়েছে, রিজার্ভ রেকর্ড ছাড়িয়েছে এ গল্প ভূখা-ফাঁকা মজুর-গরিবকে শুনিয়ে খুব বেশি ফায়দা হবে না। যদি তাদের পেটে দানাপানি না পড়ে। রাষ্ট্রের সর্বত্র ওপেন সিক্রেট হিসেবে দুর্নীতি শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে অনাচারের রাজ কায়েম হয়েছে।

দেশ থেকে বড় বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাওয়ার খবর নিয়মিত গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। দুর্নীতির এ বিস্তার রোধ করতে না পারলে জনগণের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হতে থাকবে এবং জনগণের সাথে সরকারের দুরত্ব ক্রমশ ঊর্ধ্বমূখী হবে। এদেশের মানুষ ডালের দামে চাল কিনতে চায়না বরং চালের দামে ডাল কিনে সাধারণ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। কাজেই সাধারণ মানুষকে নির্ভাবনায় তিনবেলা আহারের সংস্থান করার নিশ্চয়তাটুকু যাতে সরকার দেয়; সে ব্যাপারে বিনীত অনুরোধ। নিয়ত দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বমূখীতা চলতে থাকলে গণবিষ্ফোরণ রোধ করা বোধহয় সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যে শহর-নগর-গ্রামে ক্ষোভের বাস্প ছড়াতে শুরু হয়েছে। সুতরাং সাবধান।

রাজু আহমেদ : কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৫১৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.