নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৭ জুন ২০১৭, ৩ আষাঢ় ১৪২৪, ২১ রমজান ১৪৩৮
সুর্যের প্রত্যাশায়
লফিতা লুৎফে আরা খানম
ডিসেম্বর এলেই ভুলে থাকা মুখগুলোকে, সেইসব দিনগুলোকে বেশি করে মনে পড়ে জুবায়েরের। আবছা থেকে স্মৃতি পটে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মা-বাবা, দাদু, জাকির, টুনী আর ছোটকা'র মুখগুলো।

কতোইবা বয়েস তখন জুবায়েরের। বছর সতেরো হবে। স্কুল পরীক্ষা পাস করে কলেজে ঢুকেছে সবে। বাবা রেলের একজন স্টেশন মাস্টার। 'ছাগলচরা' স্টেশনে বদলি হয়ে এসেছেন জানুয়ারিতে। সেই '৭১ সনে।

স্টেশন মাস্টারের স্বল্প বেতনে, সংসারে চার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী, বুড়ো-মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে কুলোতে চায়না কিছুতেই।

বাড়ির কিছু জায়গা জমি বিক্রি করে বাবা বাড়তি আয়ের জন্যে স্টেশনে মিষ্টি দোকান খুলে ছিলেন প্রথম। স্টেশনে বাবার মিষ্টি দোকান ভালোই চলেছে। সংসারের ঘাটতি খরচ কুলিয়েও বেশ কিছু জমতো হাতে। দূর সম্পর্কের এতিম ভাই কাশেমকে দোকান চালানোর জন্যে নিয়ে এসেছিলেন বাবা গ্রাম থেকে। পনের বছর বয়স থেকে আজ দশ বছর ধরে দোকান চালাচ্ছে কাশেম। বড়ো বিশ্বাসী। বড়ো ভালো ছেলে কাশেম।

ছোট কা' রমিজ বরাবরই ভালো ছাত্র। বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করে এসেছেন ঢাকায় থেকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে সম্মান বর্ষে পড়ছেন।

বাবার, বাবা-মারা যাবার পর নিজের স্বল্প আয়েও বাবা, তার মা, ছোট ভাই আর দুবোনকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। বোনদের ভালো ঘরে, বরে, বিয়ে দিয়েছেন। বোনেরা দেশের বাড়িতে, নিজেদের সংসারে সুখেই আছে। বড়ো ভাই আছেন চারজন। তারাও দেশ গ্রামের নিজেদের খেত গৃহস্থালী নিয়ে আছেন।

ছুটি-ছাটায় রমিজ কা' যখন মা ভাই-এর কাছে আসেন আশার কথা শোনান সকলকে বাঙালিদের হাতে এবার এতোদিন পরে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা এলো বলে। চবি্বশ বছরের পশ্চিমা শাসন মুক্ত হবে এবার এই পূর্ব পাকিস্তান। এই বাঙালিরা।

সেই '৪৭-এ দেশ স্বাধীন বাঙালিরা শোষিত হয়ে এসেছে এতকাল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাংলার ন্যায্য অধিকার দেয়নি কখনো। '৫২-তে ভাষার জন্যে বাঙালিকে আন্দোলন করতে হয়েছে। '৬৯-এ গণআন্দোলনের জোয়ারে স্বাধিকারের দাবিতে বলিয়ান হয়েছে বাঙালিরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি এবার এই '৭১-এর নির্বাচনে বিপুল ভোটের জয়ী হয়েছে।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জয়ী, বাঙালির হাতে এবার এতোকালের আকড়ে রাখা ক্ষমতা ছাড়তেই হবে পশ্চিম পাকিস্তানিদের।

রমিজকা'র কথা শুনে আশায় উদ্বেলিত হয়েছে বাসার সবাই।

ছুটি শেষে রমিজকা' ঢাকা ফিরে গেলেন। মফস্বলে বসেও দেশের সবার মতো জুবায়েরও জানতে পারে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ষড়যন্ত্র। প্রচ- উত্তেজনা দেশের এ অংশে তখন। ন্যায্য অধিকার না দিলে ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাঙালি এবার পৃথক রাষ্ট্র চাইবে।

সিংহ গর্জনে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা ঘোষণা দিয়েছেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার মানুষদের হত্যা করা হয় তোমাদের উপর আমার অনুরোধ রইল। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।'

আর আপোস নয়। চবি্বশ বছরে ওদের স্বরূপ চেনা হয়ে গেছে। এদেশ বাঙালির। দ্বিজাতী তত্ত্ব, এখন সময়ের প্রয়োজনে অচল।

বঞ্চনা, শোষণের শিকার হবে না বাঙালি আর। বাঙালির এবার পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজন। পৃথক রাষ্ট্রের জন্যেই চাই নূতন পতাকা। শ্যামল বাংলায় উঠবে এবার স্বাধীনতার রক্ত লাল সূর্য।

'৭১-এর মার্চে উড্ডীন হয়েছে স্বাধীন বাঙালাভূমের পতাকা। বাংলার প্রায় ঘরে ঘরে উড়ছে এখন। আর কোনো সহযোগিতা নয়- অসহযোগ আন্দোলন চলছে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র। জাগ্রত বাঙালিকে ঠেকানো যাবে না আর পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী টের পেয়ে গেছে।

আপোস, মীমাংসার অপকৌশলে সময় ক্ষেপণ করে, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানি সেনা আর সমরাস্ত্র এনে ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে ওরা।

নির্বিবাদে হত্যা করেছে সে রাতে ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রদের। পুলিশ ফাঁড়িতে চলেছে ওদের আক্রমণ।

বাংলার অবিসংবাদিত নেতা পাকিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্র পরিচালককে বন্দি করে নিয়ে গেলো ওরা পাকিস্তানের কারাগারে।

আপাতঃ ঢাকার পতন হলো এক রাতে। আধুনিক প্রযুক্তিতে সঞ্জিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে।

দেশকে মুক্ত করার শপথে ছাত্র জনতা, নেতা চলে গেলেন দেশের প্রত্যন্তে। কেউ কেউ চলে গেলেন সাহায্যের সহযোগী দেশ ভারতে।

দেশের মাটিতে কুষ্টিয়ার আম্রকাননে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশের 'অস্থায়ী সরকার।' স্বাধীন বাংলার বেতার কেন্দ্রে বন্দি নেতার রেখে যাওয়া বাণী হয়েছে ঘোষিত।

শুরু হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধ। উঠতি তরুণ জুবায়েরও কাউকে কিছু না জানিয়ে চার বন্ধুর হাত ধরে চলে গেছে ভারতের আগরতলাতে। যাবার আগে ছোট বোন টুনীকে শুধু বলে গেছে চুপ করে। আগরতলাতে স্বল্পকালীন ট্রেনিং শেষে জুবায়ের গোপনে প্রথম যেবার 'ছাগলচরায়' আসে- দাদুর মুখে শুনেছিল_ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হতেই বাঙালি ভেতরে ভেতের প্রাণ ফিরে পেয়েছিল যেনো।

স্টেশনে বাবার মিষ্টির দোকানে এসে ভিড় জমাতো সবাই। দোকানের রেডিওতে ধ্বনিত হতো 'আর যদি একটা গুলি চলে আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়- তোমাদের উপর আমার অনুরোধ রইল ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।'

ঐ মূলমন্ত্রই নিরস্ত্র বাঙালি পাকিস্তানের 'ফরসিডেবল আর্মি' বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল গেরিলা কায়দায়।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি। মোরা একটি মুখের হাসির জন্যে অস্ত্র ধরি।'

গভীর রাত অবধি বাবার স্টেশনের মিষ্টি দোকানে বসে স্থানীয় সংগ্রাম ছেলে বুড়ো 'ছাগলচরায়' পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধের নীল নকশা আঁকে।

হঠাৎই মে মাসের প্রথম দিকে 'ছাগলচরা' স্টেশনে মিলিটারি আসে। ছোট জংশন স্টেশন 'ছাগলচরা'।

'ছাগলচরা'তে মিলিটারি আসার খবর পেয়ে 'ছাগলচরার' বীর ছেলেরা তিনজন খান সেনাসহ সমরাস্ত্র বোঝাই জিপ কমান্ডো আক্রমণ উড়িয়ে দিয়েছে। 'ছাগলচরাতে' এসেই খান সেনাদের নিহত হবার ঘটনা উদ্বিগ্ন করেছে মিলিটারিদের।

এক সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী 'ছাগলচরার' চেয়ারম্যান, মুনসী কদ্দুস আলীকে সঙ্গে করে মিলিটারিরা স্টেশনে এলো। বাবার ঘরে ঢুকেই বললো 'তব তোমলোগ ইয়ে মুক্তি কো মদদ দিয়া। আও, হাম লেগোনে আব তোমাকো মদদ দেঙ্গে' বলে ওরা বাবাকে ধরে নিয়ে যায়' 'ছাগলচরা' স্টেশনের অদূরে 'মাছধরা' নদীর ব্রিজের কাছে।'

এক সাথে গর্জে ওঠেছিল ওদের বেশ কটা রাইফেল। বাবার ঝাঁঝ্রা হয়ে যাওয়া শরীরটা ঘুরপাক খেয়ে খেয়ে 'মাছধরা' নদীতে পরেছিল।

বাবাকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গুলি করে মেরেছে শুনেই দাদি মূর্ছিত হয়ে পড়েন। ঢাকায় গণহত্যা হয়েছে। ছোটকার কোনো খবর নেই। দাদু আধমরা হয়েছিলেন আগেই।

মা হয়ে যান যেনো এক পাথরের মূর্তি। এরই মাঝে স্বাধীনতা বিরোধী লোকজন পদলেহি কুকুরের মতো মিলিটারিদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

মিলিটারিরা শুধু বাবাকে মেরে ক্ষান্ত হয়নি। কাশেম চাচাকে দোকানের বাইরে সবাইকে বের করে গুলি করে হত্যা করেছে। কোলের ছোট্ট শিশুটি পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

গুলির শব্দ শুরু হতেই মূর্তিমতি মা নড়ে ওঠেন। ছেলেমেয়েদের হাত ধরে মুহূর্তে বলে ওঠেন 'চল সবাই। পালাতে হবে। তোমাদের বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে আমাদের যে বেঁচে থাকতেই হবে রে'।

ছেলেমেয়ের হাত ধরে পালাতে গিয়েও দৌড়ে মূর্ছিতা শাশুড়ির কাছে এসে দাঁড়ান তিনি। আবেগে উচ্চারণ করেন 'তোমাকে এমনি করে ফেলে রেখে যেতে হলো মা। তুমি আমাদের ক্ষমা করো সে জন্যে'।

মুহূর্তের জন্যেও আর কোথাও দাঁড়ালেন না তিনি। পাগলের মতো ছেলেমেয়েদের নিয়ে পাশের বাড়ির পাশ দিয়ে গলিপথে ঝোপঝাড় ভেঙে মাছ ধরা নদীর পাড়ে এসে থামেন। এই নদীতেই বাবার লাশ পড়েছিল। এক পলক দেখা ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি তারা।

নদীতে এক নৌকার মাঝির পা ধরে ওপাড়ে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন মা। নৌকায় বসে মাঝি সব ঘটনা শুনলেন। নিজ বাড়িতেই নিয়ে গেলেন তিনি তাদের। জাকিরের কাছে দাদু শুনেছিলেন এসব ঘটনাগুলো। দাদু বলেছিলেন- পুরো স্টেশন কলোনি তছনছ করে দিয়ে মিলেটারিরা চলে গেলে অনেকক্ষণ পরে মূর্ছিতা দাদির জ্ঞান ফিরেছিলেন।

জ্ঞান ফিরলে ঘরে কাউকে দেখতে না পেয়ে তিনি বাসার বাইরে আসেন। বাসার বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা লাশের মাঝে নিজের বৌ, নাতি, নাতনিদের লাশ খুঁজে না পেয়ে তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন।

এমনি বিভৎসতা আরো চবি্বশ বছর আগে দাদু দু'বার দেখেছিলেন হিন্দু মুসলমানের দাঙ্গায়। সেই '৪৭ এবং '৪৮ সনে ভারত বিভাগের সময়ও পরে।

এই '৯৫-এর ডিসেম্বরে আরো মনে পড়ছে জুবায়েরের সেবার গোপনে 'ছাগলচরা'য় এসেছিলেন জুবায়ের। দোকানে গোপনে প্রথম কাশেম চা'র খোঁজে এসে দোকানে দাদুকে দেখতে পেয়েছিল। দাদুর কাছেই সে রাতে এসব ঘটনা শুনেছিল জুবায়ের। দাদুর কাছে জুবায়ের আরো জেনেছিল- দাদুর খোঁজে জাকিরও এসেছিল গোপনে একরাতে। সেও দাদুকে বলে গেছে অনেক কথা_ দাদুর জানা ছিল না সেসব।

দাদুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল জাকির। দাদু যাননি। বলেছিলেন- তাঁরতো দিন শেষ। বাকি যেটুকু সময় হাতে পাবেন তিনি- সে সময়টা তাঁর ছেলেদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে সচেষ্ট থাকবেন তিনি।

দাদু, জুবায়ের ও জাকিরকে বলেছিলেন 'জ্ঞান ফিরে এলে কাউকে না দেখে তিনি ভেবেছিলেন সংসারে কেউ আর বেঁচে নেই হয়তো।

মুহূর্তে শোক ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। তার দুচোখে জ্বলেছিল তখন প্রতিশোধের আগুন। বেঁচে থাকার জন্যেই তিনি অনুভব করেন হাতে কিছু সম্বল থাকার প্রয়োজন তাঁর।

উঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সবাইকে খুঁজে ছিলেন। না পেয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন আবার বাবা গচ্ছিত টাকা কোথায় রাখতেন তিনি জানতেন। বাবা তাকে জানিয়েই টাকা রাখতেন। সেখান থেকে সব টাকা পটুলিতে বেঁধে ছিলেন তিনি। ঘরে সোনাদানা যা ছিল তাও। লাশ টপকে টপকে স্টেশন কলোনির সব ঘরে ঢুকেছিলেন তিনি। লাশের গায়ে এবং কলোনির ঘরে ঘরে সোনাদানা যা পেয়েছেন খুলে নিয়েছেন দাদু। বাঁচার জন্যে সেসব তখন তার বড়োই প্রয়োজন ছিল।

একটা পুটলিতে ছেলে বৌ নাতি নাতনিদের সখের নিজের কাপড় চোপড়ও বেঁধেছিলেন তিনি। তিনি দেখেছিলেন আশপাশে কেউ কোথাও নেই। পায়ে পায়ে এগিয়ে স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। দু-এক মিনিট পরে রেললাইনের ঝোঁপের আড়াল থেকে লাল ঝা-া হাতে ভীত সন্ত্রস্ত লাইনম্যান কদম আলী বেরিয়ে এসেছিল। দাদুকে দেখে চিনেছিলেন কদম আলী। চিনে বলেছিল 'মা আপনি'।

হ্যাঁ, কদম আলী আমি। মিলিটারিরা কোথায়? জানতে চেয়েছিলেন তিনি। কদম আলী বলেছিলে- চেয়ারম্যানকে সঙ্গে করে থানার দিকে গেছে ওরা। ওদের মিটিং চলবে এখন। আপনারে মা এখানকার কেউ চিনে না। সাহেব নতুন বদলি হয়ে এসেছিলেন তো। আপনি মা এখন দোকানেই থাকবেন। কাশেমের বিছানা পত্তর দোকান ঘরে আছে। অসুবিধা হবে না আপনার। আমি কাউকে এনে দেবো আপনার কাজের সাহায্যের জন্যে। না আনতে পারলেও আমি নিজের দেখাশোনা করতে পারব আপনার।

লাইনম্যানের কথা শেষ হয় না। দূরে, ট্রেন আসার শব্দ শোনা যায়।

দাদুকে তাড়াতাড়ি দোকানে উঠিয়ে দেয় কদম আলী। অভ্যাসবশত নিজে নিজেই লাইনের ক্লিয়ারেন্স দেয়। ট্রেন এসে থামে স্টেশনে। হাতে গোনা দু'তিনজন যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের অবস্থা দেখে অবাক হয়। সমস্ত ট্রেনটা মিলিটারিতে আর যুদ্ধের সরঞ্জামে ভর্তি ছিল। চাটগাঁ থেকে ট্রেন ভর্তি করে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল ওরা ঢাকায়।

ট্রেন আসার শব্দে মিলিটারিরা চেয়ারম্যানকে নিয়ে আসে স্টেশনে। তাদের নিজেদের মধ্যে কথা হয় কিছুক্ষণ। চেয়ারম্যানকে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে কয়েকজন মিলিটারিকে স্টেশন ও ব্রিজের দায়িত্বে রেখে বাকিরা ট্রেনে করে চলে যায়। দাদু বলেছিলেন, 'ট্রেনটা ছাগলচরা স্টেশন ছেড়ে যেতেই চেয়ারম্যানের পটুয়া বাহিনী স্টেশন ঘরের বিরান ঘরে ঘরে লুটতরাজ চালায় দু'দফা।

কলোনি এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা লাশগুলোকে একটা গর্তে গণকবর দিয়ে চলে যাবার আগে কলোনির খাট, পালং-চেয়ার, টেবিলের সদ্ব্যবহার করে ওরা মিলিটারিদের জন্যে বাংকার বানিয়ে দিয়ে যায়।

চেয়ারম্যান দলবলসহ চলে যেতেই চারদিক শুনশানা হয়ে এলে কদম আলী দোকান ঘরে আসে। এসে আস্তে করে দাদুকে ডাকে। ডেকে বলে- 'কিছু কি খেয়েছো মা?' মুখে রুচবে না জানি- 'তবু কিছু খাও মা। দোকানে মিষ্টি আছে কিছু এখনো'।

দাদু খেয়েছিলেন। কদম আলীকেও খেতে দিয়েছিলেন। দু'দিন পরে পাকশী থেকে বদলি হয়ে নতুন স্টেশন মাস্টার, নতুন পিকেট চেকার এসেছিলেন। 'ছাগলচরা' স্টেশনে। লাইনম্যান এসে নিয়ে যেতো। মাস কাবারি টাকা ধরে দিতো তারা দাদুকে। দাদু আর লাইনম্যান মিলে বাবার মিষ্টির দোকানটা চালাতেন।

হাতের কিছু গয়না বিক্রি করিয়ে দাদু মিষ্টি দোকানটাকে স্টেশনারি আর মুদির দোকানে পরিণত করেছিলেন সে রাতে দাদু আরো বলেছিলেন এরপর 'ছাগলচরাতে' মিলিটারিদের ক্যাম্প হয়। চেয়ারম্যান শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে শান্তি বাহিনী গঠন করেছিলেন। শান্তি বাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধ প্রায় সকল লোকজনই যোগাযোগ করে এক ত্রাসের রাজত্ব কামেয় করেছিল।

মিলিটারি ক্যাম্পে রসদ জোগানো, মুক্তিযোদ্ধাদের গতি বিধির ওপর নজর রাখা আর মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের ওপর খবরদারি করে বেড়ানো ছিল চেয়ারম্যানের প্রতাপের অংশ। মিলিটারিদের সহায়তায় সেসব করে বেড়াতো।

সন্দেহভাজন লোকজনদের ধরে এনে অত্যাচার করা, মিলটারি ক্যাম্পে মেয়ে জোগান দেয়া, তাদের অতিরিক্ত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

দাদুর দোকানের সওদাপাতি করতে আসতো সবাই। মিলিটারিরাও আসতো। চা-পান খেতো। নিজেদের মধ্যে এই দেশ, দেশের লোকজন, তাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করতো। বুড়ো দাদুকে ওরা ওদের আলোচনা বোঝার মতো মানুষের ধর্তব্যেই মনে করতো না। তবুও দাদুকে বাজিয়ে দেখেছিল ওরা 'ইয়ে মায়ি, তোমহারু কোই নেছি হ্যায়'?

দাদু অবুঝের মতো উত্তর দিয়েছিল 'আমারে কিছু কইলেন'? হো হো করে হেসে উঠেছিল চেয়ারম্যান আর তার দোসর দু'জন। মিলিটারিদের দিকে তাকিয়ে বলেছিল 'ইয়ে বুড্ডি আওরাত, উর্দু সমঝাতা নেহি।'

দাদুর দিকে ফিরে চেয়ারম্যান জিজ্ঞেস করেছিল 'কে গো তুমি? কাশিম্ম্যার কি হও। আইছ কোত্থেকে। কোন দিন?

চেয়ারম্যানের কথার জবাবে মাথায় কাপড়টা আরেকটু বেশি করে টেনে মুখটা আড়াল করে নিয়ে দাদু বলেছিলেন। আমি কাশুর দাদি। এই দোকান ঘরের ভেতরেই কাশুর লগে আছি আমি হেই দুই বছর দশ মাস ধইর‌্যা। কাশু থাকতে কোনোদিন মাইনষের সামনে বাইর অনাই। ঘরের ভেতরে রান্না-বান্না করছি। চা-পান বানাইয়া দিছি। কাশুটা নাই। ঐ পাগলা লাইনম্যানটা মা কইয়া ডাকে। এইটা সেইটা কইরা দেয়। হেই কইলো মা সরম কইরা কি অইব। দিনতো চলব না। দোকানডা চালাও। পেডটা চইলা যাইব। একজন মানুষ তুমি।

চেয়ারম্যান আবার জানতে চেয়েছিল দেশ গেরামে আর কেউ নাই?

'জাকির কথা ভেবে দাদুও জবাব দিয়েছিল' একটা নাতি আছে। গেরামের ইস্কুলের সাত কেলাসে পড়ে। হের আওনের আছিল। অহনো আহে নাই জানি ক্যান।

'ঠিক আছে। বুড়া মানুষ তুমি চাইরডা খাওনের লাইগাও তো দোকানডা চালান দরকার। নাতিটা আইলে কাছে রাইখা দিও। এখন আর যাইতে দিবানা গেরামে। আরে- এই কদম আলী বুড়া মা ডারে একটু দেখিস টেখিস বলে চলে যায় ওরা। আর কখনো কেউ কিছু জানতে চায়নি দাদুর কাছে।

'৭১-এর সেপ্টেম্বর। মুক্তিযুদ্ধ তুঙ্গে তখন। খোদ ঢাকাসহ দেশের এদিকে, সেদিকে বিচ্ছুদের কেইচ কামাইর শুরু হয়েছে।

জুবায়েরের কাজও পড়েছিল বিভিন্ন স্থানে খান সেনাদের খতম করা আর তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাদের মধ্যে সব ধরনের বিপর্যয়ের সৃষ্টি করার।

'ছাগলচরার' কাছাকাছি এসেছিল জুবায়ের একশানে'। একশানে যাবার আগে দ্বিতীয়বার দাদুর সাথে দেখা করতে এসেছিল জুবায়ের কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার রাতে। অতি সন্তর্পণে। বেড়ার গায়ে টোকা দিয়ে দাদুকে আস্তে করে ডাকার আগেই জুবায়েরের কানে এসেছিল দাদুর গলা। খুব অস্পষ্টভাবে দাদু কথা বলছেন। কার সাথে কথা বলছেন দাদু? বেড়ার ফাঁক দিয়ে চোখ রাখলো জুবায়ের। টিমটিমে হারিকেনের আলোতে জাকির মুখ দেখলো জুবায়ের।

জকির এসেছে তা হলে? কতোদিন দেখেনি ওকে। বেড়ার গায়ে টোকা দিল জুবায়ের। দাদুকে গতবার বলে গিয়েছিল জুবায়ের কখনো এলে দরজায় নয়, বেড়ার গায়ে টোকা দেবে তিনবার।

দাদু দরজা খুললেন। ভেতরে ঢুকে বুকে জড়িয়ে ধরলো জুবায়েরকে। ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে পাশ ফিরতেই চোখে পড়লো মাকেও। তার মা দুই চোখে কেমন উদ্ভ্রান্ততা।

কী হয়েছে তোমার মা? স্থান-কাল ভুলে প্রায় চিৎকার করে উঠতে গিয়েছিল জুবায়ের। জাকিরই হাত চাপা দিয়ে দেয় জুবায়েরের মুখ। তারপর আস্তে আস্তে করে চলে ভাইয়া ওরা মনিকে ধরে নিয়ে গেছে'।

ধরে নিয়ে গেছে? কোথায়?

মিলেটারি ক্যাম্পে।

ক্যাম্পটা কোনদিকে। বলে দে। আমি যাবো। এখনই?

না, ভাইয়া না। এ ব্যাপারটা তুমি আমার হাতে ছেড়ে দাও। তুমি তোমাকে দেয়া দায়িত্ব দেখো। এ দেশের জন্য, নিজের মা-বাপ, বোনের জন্য আমার নিজেরও দায়িত্ব আছে। ছোট হলে কি হবে। 'এই ছোটরা আমরাও অনেক কিছু করতে পারি।'

ঃ 'পারবি তুই'?

ঃ হ্যাঁ পারব। 'মনি আপা আমারও বোনতো।'

প্রথমবার যখন দাদুর সাথে দেখা করে যায় জুবায়ের। দাদু, চেয়ে জুবায়েরের কাছে থেকে গ্রেনেড রেখেছিলেন তিনটা। এবারও রাখলেন চারটা। সমস্ত দেশটাই তখন রণক্ষেত্র আর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কিছু লোক ছাড়া প্রায় প্রতিটি নাগরিক তখন মুক্তিযোদ্ধা। কেউ গেরিলা কায়দায় সম্মুখ সময়ে। কেউ তথ্য দিয়ে। কেউ মানসিক ও কার্যতঃ সহযোগিতা দিয়ে।

রাতের অন্ধকারেই জুবায়ের ফিরে এসেছিল। সেই শেষ দেখা। এক বোন মনি ছাড়া তার আর কেউ বেঁচে থাকেনি।

'৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর। পরাজয়ের গ্লানি মেখে 'আশি হাজার পাকিস্তানি ফরমিডেবল আর্মি সেনাপতি' মেজর জেনারেল নিয়াজী মিত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছে।

দীর্ঘ আট মাস পর জুবায়ের ফিরে এসেছিল বিজয়ীর বেশে। বিজয়ের আনন্দে, শূন্যে গুলি ছুঁড়ে ছুঁড়ে। পলাতকের মতো পালিয়ে নয়। দৌড়ে ছুটে এসেছিল জুবায়ের 'ছাগলচরায়।'।

এসে জুবায়ের দেখেছিল, কোথায় সে দোকান। পুড়ে সবই ছাই হয়ে আছে। দাদু, মা, জাকির। টুনী কেউ নেই। লাইনম্যান কদম আলী ছুটে এসেছিল ঝা-া হাতে। ট্রেন থামানোর ঘণ্টা বাজিয়ে জুবায়েরকে থামাতে চেয়েছিল। উদ্ভ্রান্তের মতো হা হা করে হেসে উঠেছিল। বলেছিল 'নাই'। কেউ নাই। সেই সাহেবের মা, বৌ, ছেলেমেয়ে চারজন মিলে নিজেদের গায়ে গ্রেনেড বেঁধে মিলিটারি আর যুদ্ধের অস্ত্র বোঝাই একটা পুরা ট্রেন উড়াইয়া দিছে।'

ট্রেনের বগি, মিলিটারিদের লাশ আর জ্বলন্ত গোলাবারুদের কাছে তাদের শরীরের ছিন্নভিন্ন টুকরা পইড়া আছিল। আমি নিজে দেখছি।'

খবর পাইয়া চাকা থেকে দলে দলে মিলিটারিরা আইয়া স্টেশনের মিষ্টি দোকানটারে স্টেশনের কাছে তিনটা গ্রাম জ্বালাইয়া দিল।

জুবায়ের হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সেই '৭১-এর ডিসেম্বরে। চারদিকে তখন একদিকে বিজয়ের উল্লাস আর একদিকে ঘরে ঘরে স্বজন হারানোর হাহাকার।

ঐ সময়ই ফিরে আসে মনি। একদল মুক্তিযোদ্ধা ওদের আত্মসমর্পণকারী মিলিটারি ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করেছিল।

মনি বেঁচে থেকেও তখন মরেছিল। ওর শরীরে অত্যাচারের চিহ্ন। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে।

এ সন্তান সে চায়নি। এমন সন্তান কেউ চায় না। তবু, সময়মতো সে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। যে সন্তানের কোনো পিতৃ পরিচয় নেই।

লজ্জায়, ঘৃণায় মনি ছেলের দিকে ফিরে চায়নি। জুবায়েরেরও হাত নিস্পিস্ করেছে যখনই মনে হয়েছে জুবায়েরের এ ছেলে এ দেশের শত্রুর ছেলে। এ ছেলে হানাদার বাহিনীর ঔরসজাত।

পরক্ষণেই মনে হয়েছে। এ সন্তান তার আদরের বোন মনিরও। মনির কোনো দোষ নেই। নবজাতকেরও কোনো দোষ নেই। দোষ ওর জন্মের।

জুবায়েরই কোলে তুলে নিয়েছিল প্রথম। নাম দিয়েছিল অজয়। মনিকে অনেক বুঝিয়েছে জুবায়ের। বলেছে একে ধর। ওর তো কোনো দোষ নেই। এ তোরও সন্তান।'

সবার ঘৃণা নিয়েই বড়ো হচ্ছে অজয়। অজয় মনির সন্তান হলেও কেউ ভুলতে পারে না এ ছেলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর। যার কোনো পিতৃ পরিচয় নেই। জারজ। মনি নিজেও ছেলেকে কখনো মাতৃস্নেহে কাছে টেনে আদর করেনি। কোনোভাবে ছেলেকে বড়ো হতে দিয়েছে শুধু।

অজয় একটু বড়ো হতেই জুবায়ের ওকে ঢাকায় হোস্টেলে রেখে পড়তে দিয়েছে। মনিকেও ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করতে দিয়েছে। যাতে ওরা মা আর ছেলে মানুষের ঘৃণার অন্তরালে থেকে স্বস্তি পায়। জীবনকে ভার মনে না করে।

জুবায়ের 'ছাগলচরা' ছেড়ে যায়নি। এই ছাগলচরাতে মা-বাবা-দাদু-ভাই, সবাইকে হারিয়েছে। এই চাগলচরা মাটিতে মিশে আছেন তারা। তাদের ছাগলচরার মাটিতে রেখে জুবায়ের এই ছাগলচরা ছাড়তে পারেনি। বাবার ইস্টিশনের মিষ্টি দোকানটাকে নতুন করে তুলেছে আবারো বাহাত্তরে। এখনো দোকানটা জুবায়েরই চালায়। একা রমিজকা কতোবার তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চেয়েছে। সে যায়নি। রমিজকা'কে এখন আর জুবায়ের শ্রদ্ধার চোখে দেখে না।

সেই রমিজ কা মুক্তিযুদ্ধে সময়ে ভারতে চলে গিয়েছিল। আর কিছু করেনি। ফিরে এসে দিব্যি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সব ধরনের সুবিধা নিয়েছে। এখন নীতি বাগিস রাজনীতিবিদ তিনি। বিরাট বড়লোক।

জুবায়ের ভাই। ও জুবায়ের ভাই। বিজয় দিবসের মিছিলে যাইবা না? মিছিলতো রওনা দিব অহনই।

সম্বিত ফিরে পায় জুবায়ের। ফিরে আসে বাস্তবে। হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে ওঠে জুবায়ের। বলে বিজয় মিছিলে গিয়ে কী অবই? অইব টা কি? সব হারাইয়া, জান বাজি কইরা, আমরা যারা দেশটারে শোষণ আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যুদ্ধ করছি_ সে স্বাধীনতা কি পাইছি আমরা?

অথচ, সে স্বাধীনতাই তো পাওনের কথা আছিল। এই স্বাধীন দেশে, এই চলি্লশ বছরেও আমরা ক্যান সে স্বাধীনতা আন্বার পারলামনা হাফিজ ভাই? ক্যান পারলাম না? আইজও বারো ভূতে লুইট্যা খায় এই দেশটারে। ক্যান, খায়? ক্যান! বলতে বলতে কান্নায়, উত্তেজনায় ভেঙে পড়ে জুবায়ের।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৯২১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.