নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৭ জুন ২০১৭, ৩ আষাঢ় ১৪২৪, ২১ রমজান ১৪৩৮
সিঙ্গেল মাদার
পদ্মনাভ অধিকারী
প্রতিদিনের মতো আজও অফিসে যাওয়ার আগে, মহব্বত বাস থেকে নেমে চা পুরির দোকানে বসে। গরম পুরি আর চা দিতে বলে। বেলা আটটা। কম বেশি পরিচিত মানুষ আসতে থাকে। মহব্বতের সাথে কুশল বিনিময় হয়। হকার পেপার দেয়। বয় পুরি এনে বলে_

নেন স্যার পুরি।

মহব্বত তার দিকে তাকায়। বয় বলে_

কিছু কবেন স্যার?

না। দুধ চা দে। বয় চলে যায়।

পুরি চিবুতে চিবুতে মহব্বত গভীরভাবে ভাবতে থাকে। মমতাজের খবর কিভাবে পাবে। দীর্গ একটি বছর তার সাথে পরিচয়। এই স্থানে বসে দুজনের আলাপ। পাশাপাশি বসে পুরি চা খাওয়া। ন-টার আগে মহব্বতের অফিসে রওনা দেয়া আর মমতাজের শহরমুখী বাসে উঠা। কিন্তু হঠাৎ এক বর লা-পাত্তা। ঘটনাটা কি! সে কি কোনো চাকরি পেয়েছে! নাঃ তা হবে ক্যানো! সেতো কারো হুকুমের ধার ধারে না। তাহলে!! পরমরূপসী। কেউ তাকে হাইজাক করেনিতো। কিংবা কোথাও নিয়ে ইয়ে করে হত্যা করেনিতো! বয় এসে চা দিয়ে বলে, স্যার_ চা। কি ভাবছেন?

কিচ্ছু না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মহব্বত। বয় বলে_

একটা কথা কবো স্যার?

বল?

না, মানে আপনি আপার কথা ভাবছেন?

না-না।

তাহলে, এতোদিন আপনারে এমনিভাবে ভাবতে দেখিনিতো! ব্যাপার কি? সেসব শুনে তোর কি হবে? যা কাজ কর। এইনে বকশিস, রাখ_ না-না স্যার, লাগবে না। আপনি একটা সংবাদ শোনবেন, মারাত্মক সংবাদ।

হাত ঘড়ি দেখে মহব্বত বলে, সময় নেই। অফিসে যেতে হবে, কাল শুনবো সোনা।

স্যার যাতি যাতি শোনেন।

ক্যানো, তুই কি আমার সাথে যাবি?

জি। আজকে এক বেলা ছুটি।

বেশ, চল। যেতে যেতে শুনে।

রাস্তায় পাশাপাশি দুজনে হাঁটতে হাঁটতে বয়টা বলতে শুরু করে, বুঝেছেন স্যার, আপার একটা বাচ্চা হয়েছে। কথাটা কানে যেতেই মহব্বত আকাশ থেকে পড়ে। থমকে গিয়ে বলে, কি বলি্ল? মমতাজের বাচ্চা হয়েছে?

জি।

আরে গাধা, বাচ্চাতো হয় গরু ছাগলের।

মানুষেরও স্যার।

তাই?

জি।

কে দিলো খবরটা? বানিয়ে বলছিস নাতো।

মোটেও না। আজ বিকেলে গ্রামে ফেরবে।

বাচ্চা নিয়ে?

না।

তাহলে?

একা।

কি সব উল্টোপাল্টা বলছিস? বাচ্চা রেখে, একা একা আসবে!

জি। বিশ্বাস না হলি, আপনি পালায়ে থেকে দ্যাখবেন।

কোথায়, কিভাবে দ্যাখবো?

ক্যানো! বিকেল বেলা স্টলে যায়ে একপাশে লুইকে থেকে দ্যাখবেন।

বেশ। অফিসে ঢুকবো, তুই যা তাহলে। যদি সত্যি হয় তাহলি কাল মোটা বকশিস পাবি?

আসি স্যার, সালাম আলেকুম।

মহব্বত অফিস শেষ করে সোজা চা-পুরির দোকানে যায়, পাশের পান-সিগারেটের দোকানে গিয়ে পান সিগারেট কেনে। প্রথম পান ভালোভাবে চিবিয়ে পিক ফেলে, ক-বার পিক ফেলে, সিগারেট ধরিয়ে বেঞ্চে বসে টান দিয়ে লম্বা ধোঁয়া ছাড়তে থাকে। ঘড়ি দ্যাখে-বেলা পাঁচটা। লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। সূর্যটা দিনের ক্লান্তি নিয়ে পশ্চিমে হাঁটতে থাকে। মহব্বত অপেক্ষায় থাকে। আর একটা সিগারেট কিনে ধরিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে নিজের মনে বলতে থাকে, বয়টা ধাপ্পা দিলো না তো। গুলবাজ নাতো। নাঃ তা হবে ক্যানো! তাতে তার লাভটা কি। ভাবনার মাঝে মমতাজ এসে বেবিটেক্সি থেকে নেমে সোজা স্টলে ঢোকে। মহব্বত শান্ত হয়। সে বলে_ নাঃ বয়টা মিথ্যা বলেনি। কারণ মমতাজকে কেমন রোগা রোগা মনে হলো। মহব্বত নিজেকে সামলে রাখতে পারে না। কারণ পরিচয়ের মধ্যদিয়ে সে মমতাজকে এতো বেশি ভালোবেসেছে যে, আজ কোনো অভিমান তাকে রুখতে পারছে না।

মমতাজ স্টলে এসে গরম পুরি আর জিলাপি দিতে বলে বসে পড়ে, তাদের সেই পুরাতন চেয়ারে। মহব্বতও ধীরে ধীরে মমতাজের পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। মততাজ বুঝতে পারে না। একটা মহিলা এসে পুরি-জিলাপি দেয় মমতাজকে। মহিলা মহব্বতেক চিনতো। সে তার চোখের ঈশারায় মহব্বতকে সরে যেতে বলে। মহব্বত কোনো জবাব না দিয়ে মমতাজের পাশে বসে পড়ে। মমতাজ ঘাড় বাঁকিয়ে দ্যাখে। মুচকি হেসে বলে_ কি ব্যাপার, আজ এতো সময় এখানে?

তুমি ভুলে থাকলেও, আমি যে অপেক্ষা না করে পারি না।

নিন খান।

না থাক।

কেন?

আমি এক ঘণ্টা আগে এসে খেয়েছি।

তাই বুঝি?

জি।

এখোন কি করবেন, বাড়ি যান।

হ্যাঁ যাবো। তবে,

তবে কি?

একটা কথা।

কি কথা? সাদী করবেন এই তো কথা।

না।

তাহলে?

তোমার শরীরটা খারাপ মনে হচ্ছে।

ঠিক ধরেছেন। হঠাৎ অসুখ। দীর্ঘ একটানা এগারো মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। জানেন, কাউকে কিছু বলবো, তেমন ফুরসত মেলেনি।

তাই বুঝি?

জি।

তা পোয়াতি খালাস হলে, তার শরীর থেকে যেমন ঘ্রাণ বের হয়, তেমন ঘ্রাণ পাচ্ছি যে?

যাঃ কিযে বলেন?

সত্যি বলছি।

পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে বুঝি?

জি।

তাহলে দ্বিতীয় বিবাহের জন্যে ব্যস্ত ক্যানো?

না-না, ভাবিদের গা থেকে তেমন গন্ধ পেয়েছি,

ও বাব্বা, কি ফাজিল লোক আপনি। একটা কথা পরিষ্কার মনে রাখুন_

মধ্যবিত্তের মেয়ে আমি। বি.এ পাস করার পর টাকার অভাবে চাকরি জোটাতে পারিনি। বহুবার বহু অফিসে চাকরির আশায় গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছি। আর এটাও দেখেছি, জেনেছি যে অফিসের বড় কর্তার মন রাখতে কুমারী চাকুরে যুবতীর নীরবে দেহদান করে, গোপনে চোখের জল ফেলতে ফেলতে মাথা নীচু করে বাড়িতে ফিরতে হয়। শুধু কি তাই, বিবাহিতা মহিলাদেরও একইভাবে যন্ত্রণা বুকে নিয়ে স্বামীর পাশে রাতের পর রাত নির্ঘুমে কাটাতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি_ সিঙ্গেল মাদার হয়ে জীবন কাটাতে।

তাতে লাভ? বিয়ে না করে একাকী জীবন কাটাবেন সেটা কি হয়! প্রত্যেক যুবতী মা হতে চায়। তুমি?

আমিও একাধিক সন্তানের একক মা হয়ে থাকতে চাই। কোনো পুরুষের তাঁবেদারিতে_ হুমুকের গোলাম হয়ে থাকতে চাই না।

কি সব মাথা মু-ু বলছো মমতাজ?

ঠিকই বলছি।

বিশ্বে যেমন সিঙ্গেল ফাদার আছে। অর্থাৎ যারা নিজের সত্তা বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক হয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছে, মেয়েদের ভোগ করেও পিতা হওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্ত। আমিও ঠিক তেমনি, গর্ভ ভাড়া দিয়ে সন্তান প্রসবের আগে পরে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সম্রাজ্ঞীর মতো থাকতে চাই।

হারামের টাকায় সুখ হয় না মমতাজ।

ওসব শোষকদের বস্তা পচা কথা। শোষকের সুদে টাকা খাটালে হয় দাদন আর পরোপকার। কিন্তু মধ্যবিত্তরা টাকা খাটালে হয় সুদে কারবার। রাষ্ট্র ব্যাংক থেকে ঋণ দেয় লাভে।

হ্যা, দেয়।

সে লাভটা হয় ইন্টারেস্ট। সুদ বলা যাবে না।

হ্যা, তাই।

তাই ক্যানো?

এটা রাষ্ট্রীয় নিয়ম কানুন। মানতে হবে।

ধনীদের, বিত্তবানদের জন্যে কোনো আইন কানুন থাকবে না, যত আইন কাকুন সব বিত্তহীন-অসহায়দের জন্যে? মহিলাদের আমরণ সেবাদাসী বানিয়ে রাখার জন্যে নিয়ম কানুন? কোনো পুরুষ যদি নারী ভোগ করতে পারে! তাহলে নারী কেন পুরুষকে বয়কট করে, নিজের মতো থাকতে চলতে-বলতে-বাঁচতে পারবে না?

তুমি তাহলে এতোদিন, আমাকে এইসব কথা শোনাবার জন্যে চার দিয়ে মাছ ধরার মতো করে ঘোরালে?

মহব্বত সাহেব, যদি ভাবেন কাজের জন্যে কর্মী। কামের জন্যে রাতের রমণী। আর সেবার জন্যে স্ত্রীনামের দাসী পালবেন, তাহলে ভুল করবেন। আমি টাকার দেমাগ দেখাবেন না। আমি একজন গর্বিনী সিঙ্গেল মাদার। শত সমাজসেবক পুরুষের উপরে। পথ ছাড়ুন, যেতে দিন। আপনার ভাবিদের সাথে আমার তুলনা করবেন না। দ্রুত হাঁটতে থাকে মততাজ।

মহব্বত বোকার মতো চেয়ে থাকে। সন্ধ্যার রং গাঢ় হয়ে আসে। অযাচিতে মহব্বত উচ্চস্বরে ডাকে_ মমতাজ একটু দাঁড়াও। মমতাজ বাইকে চড়ে বসে। মহব্বত পকেট থেকে রুমাল টেনে চোখ মুছে_ হাত উঁচু করে। শহরে যাওয়ার বাসটা দাঁড়িয়ে পড়ে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৯৪১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.