নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৭ জুন ২০১৭, ৩ আষাঢ় ১৪২৪, ২১ রমজান ১৪৩৮
ফিরে যেতে মন নাহি চায়
শাহরিয়ার সোহেল
প্রস্তুতি বেশ কিছুদিন ধরেই। 'সাহিত্য সুহৃদ' পত্রিকার আয়োজনে ফেব্রুয়ারিতে যাওয়া হবে কুয়াকাটা। শেষে মে মাসের প্রচ- গরমে যাওয়ার আয়োজন হলো। নিজের ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম যশোরের মনিহার সিনেমা হলের কাছে। এখান থেকেই যাত্রা শুরু হবে ঠিক ৬টায়। প্রাণপ্রিয় ফকু ভাইয়ের একান্ত আন্তরিকতা, বাদশা ভাইয়ের সহযোগিতা, গাজী শহিদুলের প্রচেষ্টা, সব মিলিয়ে যাত্রা শুরু হলো একটু দেরি হলেও সন্ধ্যা ৮টায়। কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম এলেন আমাদের বাসে উঠিয়ে দেয়ার জন্য। একটানা আট ঘণ্টার যাত্রা শেষে কুয়াকাটা 'রনি হোটেলে' পৌঁছালাম ভোর ৪টায়।

হোটেলে ব্যাগগুলো রেখে, ফ্রেস হয়ে শুরু হলো সূর্য উঠা দেখবার জন্য যাত্রা। কিছুটা পথ হেঁটে মোটরসাইকেলে যাত্রা শুরু। সমুদ্র সৈকত দিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া। যেখান থেকে সূর্য উদয় দেখা যায়, সেখানে থামা হলো। সূর্য উঠছে, সে কী চমৎকার অভিজ্ঞতা। ইতোমধ্যে কবিগণ নেমে গেছেন সমুদ্র সৈকতে। সে আনন্দ বোঝাবার নয়!

এরপর শুরু হলো বাইকে করে প্রায় বার-তেরটা স্থান পরিদর্শন। ভোরের শুভ্রতা মাড়িয়ে আমরা যাচ্ছি। এ যেন বন্ধনহীন মুক্ত পাখির পথ চলা। কেউড়ার চর, লাল কাঁকড়ার বিক্ষিপ্ত চলাফেরা, বৌদ্ধ মন্দির দর্শন, ঝাউবনের দোলা, সিডরে ভেঙে যাওয়া বড় বড় বৃক্ষ, আশ্রয় কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, টিনের দোতলা বাড়ি, বেড়ি বাঁধ, সরু পাকা রাস্তা, মাটির উঁচু-নিচু পথ, কুয়াকাটার বিখ্যাত কূপ, মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত কিছু বাড়ি-ঘর আর সুদৃশ্যমান রাখাইন সমপ্রদায়। ওদের প্রায় প্রতিটি দোকানে রয়েছে হাতে তৈরি চমৎকার সব পোশাক শিল্প। অধিকাংশ দোকানে মেয়েরাই বিক্রেতা। চকচকে মেয়েগুলোর পোশাকও সাধারণ থেকে ভিন্ন। কেমন জানি অদ্ভুত মায়া ওদের ভেতর। ছোট ছোট করে মায়া জড়ানো কথা বলে। কেউ কেউ ফতুয়া, বিছানার চাদর, ক্যাপ, রুমাল প্রভৃতি কিনল। কেউ কেউ পিঠা-আচার খেল। এসবের দোকানও রয়েছে ওখানে। এরপর আবার হোটেলে ফেরা। মনে হচ্ছিল অনেক সময় পার হয়েছে। হোটেলে ফিরলাম, তখন সকাল ৮টা। হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে সকালের খাবার খেয়ে সমুদ্র স্নানে যাবার প্রস্তুতি।

এটাই হলো আসল আয়োজন। সমুদ্রে আসার মূল আকর্ষণ, সার্থকতা। চললাম এক ঝাঁক কবি। সবাই স্নানের পোশাকে প্রস্তুত। আমার সাথে রয়েছে উদ্যমিত সংগঠক গাজী শহিদুল, সাথে তার স্ত্রী-শ্যালিকা-ছেলেমেয়ে, স্নেহের ছোট ভাই তরিকুল, স্বপন ভাই, আমিরুজ্জামান, বাদশা, আব্দুর রহমান, রেজা, আয়েশা সিদ্দিকা ও তার দুই মেয়ে এবং আরও বেশ কয়েকজন অতিথি। জিরো পয়েন্টে সমুদ্র সৈকতের যতো কাছে যাচ্ছিলাম গতি যেন আরও বাড়ছিল। খুব কাছে আসতেই দৌড় শুরু। এরপর পানিতে ঝাঁপ। কী বিশাল, কী অদ্ভুত, কী মায়া যেন অনাবিল প্রকৃতিজুড়ে। সমুদ্র তার বিশাল বক্ষে আমাদের জড়িয়ে নিল। লাফানো-ঝাঁপানো, ডুব দেয়া, ঢেউয়ের সাথে সাথে লাফিয়ে ওঠা, অন্য রকম এক অনুভূতি, কখনো ভুলবার নয়। পাশের আরেক দলের কাছ থেকে বল নিয়ে খেলা করা, আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো দশ-বারোজন কবি গলা পর্যন্ত পানিতে থেকে জোরে জোরে চীৎকার করে স্বরচিত কবিতা পাঠ। মনোমুগ্ধকর সাহিত্য আসর হলো পানির ভেতর। পাশের থেকে বেশ কয়েকজন শ্রোতাও এগিয়ে এলো। তাদের সাথে পরিচয় হলো। এরকম কবিতা পাঠের আসর আর কোথাও হয়েছে কিনা জানিনা। খুব মজার অভিজ্ঞতা। ক্যামেরাম্যান ছবি তুলল। তারা অদ্ভুতভাবে মাজা পানিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেই চলেছে বিরতিবিহীন। কিন্তু কেন জানি সমুদ্র থেকে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। কেমন এক মায়া, মাদকতা, ভালোবাসা সব জড়িয়ে যাচ্ছিল। একবার উঠি উঠি, আবার ফেরত আসি। এভাবে দু'ঘণ্টার একটানা স্নান আমার জীবনে এক দীর্ঘ আনন্দের পশরা। উঠতে মন চাইনা, তবু উঠতে হলো। গায়ে বালু আর বালু। হোটেলের কাছে এসে একটি পুকুরে আবার স্নান। পরিচ্ছন্ন হবার জন্য। হোটেলে ফিরে আবার স্নান। সাবান দিয়ে আরও পরিচ্ছন্ন হবার জন্য। তখন দুপুর ১২টা বাজে।

সবাই বেশ ক্ষুধার্ত। পোশাক পাল্টে সবাই এক সাথে নেমে এলাম পাশের হোটেলে। চিংড়ি মাছের ভর্তা, কেরালা মাছ ও ডাল দিয়ে তৃপ্তির সাথে ভাত খেলাম। যার যা পছন্দ, সে তাই খেল। আরও অনেক ধরনের মাছের ব্যবস্থা ছিল। সেখান থেকে নামাজে গেলাম ১টায়। শুক্রবার-জুমার দিন। এরপর হোটেলে ফিরলাম ২টায়। সবাই খুব ক্লান্ত। এবার অনাবিল প্রশান্তির বিশ্রাম। একঘুমে ৪টা বেজে গেছে।

সবচেয়ে চমৎকার আয়োজনের জন্য অপেক্ষা। কবিতা পাঠের আসর হবে। স্থান নির্বাচন নিয়ে কিছুটা সময় ক্ষেপণ। যে হোটেলে উঠেছিলাম তার মালিক মানিক ভাই হোটেলের সামনেই আসরের ব্যবস্থা করে দিলেন। মুজিবর ভাইয়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিক ভাই, বিশেষ অতিথি স্বপন ভাই, তরিকুল এবং আলোচক আমি। গাজী শহিদুলের পরিচালনায় কবিতা পাঠ করলেন কবিগণ। কেউ গাইলেন গান, কেউ কৌতুক শোনালেন। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশ। অনুষ্ঠান শেষে ছুটে চললাম সূর্যাস্ত দেখার জন্য। স্নেহের তরিকুল সকাল থেকেই আমাকে সঙ্গ দিচ্ছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। শুঁটকি মাছের বাজারে যেয়ে মাছ কিনলাম। বালুচরে হাঁটাহাঁটি। অন্ধকার নেমে আসছে ক্রমাগত। স্রোতের আওয়াজ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বহু লোকজন সে অনাবিল দৃশ্য উপভোগ করছে। বাতাস বইছে শন-শন। মুড়ি খেলাম, চা পান করলাম, বাজার থেকে বিভিন্ন চকলেট কিনে হোটেলে এসে ব্যাগ নিয়ে গাড়িতে উঠলাম। সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে ফেরার উদ্দেশ্যে গাড়ি ছাড়ল। কিন্তু মন ফিরতে চাইছিল না। গাড়ি চলছে আর আমার মনের ভেতর গুনগুন করছে লাকি আখন্দের সেই চির জাগানিয়া গান, 'আবার এলো যে সন্ধ্যা-শুধু দু'জনে, চলো না ঘুরে আসি অজানাতে, যেখানে নদী এসে থেমে গেছে, ভাবি শুধু এখানেই থাকবো, ফিরে যেতে মন নাহি চাইছে, আবার এলো যে সন্ধ্যা-শুধু দু'জনে...।

গাড়ি দড়াটানায় নামিয়ে দিল রাত ৩টা ৩০ মিনিটে। আল্লার রহমতে কেউ অসুস্থ হয়নি। একটা ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরে এলাম। মন পড়ে রইল কোথায়-জানি না।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৯৩০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.