নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২ জুন ২০১৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩, ২৫ শাবান ১৪৩৭
মালয়েশিয়ার সাথে জিটুজি পদ্ধতিতে উত্তরায় ৮ হাজার ৪শ ফ্লাট নির্মাণ নিয়ে তোড়জোড়
স্টাফ রিপোর্টার
ফ্লাট নিয়ে বিপাকে পড়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাট তৈরির পর সেগুলো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্যাপক প্রচারণার পরও গ্রাহক মিলছে না। এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ফ্লাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তোড়জোড় চলছে। স্বার্থান্বেষী একটি মহল এ প্রকল্প চাপিয়ে দিতে সব আয়োজনও সম্পন্ন করে ফেলেছে। এটি বাস্তবায়ন হলে তা রাজউকের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে উত্তরায় ৮ হাজার ৪শ ফ্লাট নির্মাণের সমঝোতা চুক্তি হয় ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল। মালয়েশিয়ার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সে দেশের সরকারের বিশেষ দূত দাতো সেরি সামী ভাল্লু। চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়ার আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় উত্তরার ১৮ নং সেক্টরে ১৬ তলা বিশিষ্ট ১০০টি অ্যাপার্টমেন্ট (ভবন) প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি ফ্লাট নির্মাণ করা হবে। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ সরকারকে কোনোু অর্থ ব্যয় করতে হবে না। মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান এ.এল.এম. গেমিলাং কোনসোর্টিয়াম লিমিটেড এ নির্মাণ কাজ করবে। নির্মাণের সময়কাল ধরা হয় ৩০ মাস। পরবর্তী ৬ মাস থেকে ৩ মাস অন্তর ৪ কিস্তিতে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে (মালয়েশিয়া) বিনিয়োগের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে। তারা ঐ টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে পারবে। ফ্লাট বিক্রি না হলেও চুক্তি অনুযায়ী রাজউককে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উভয়পক্ষের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগের টাকা পরিশোধ না করলে সিঙ্গাপুর আদালতের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনের পর খসড়া চুক্তি হয়। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো হলে চুক্তিতে বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। তবে সেটি এখনো ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আটকা আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, কোনো রকম টেন্ডার ছাড়া এ চুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে মালয়েশিয়ান যে প্রতিষ্ঠানটি (এ.এল.এম. গেমিলাং কোনসোর্টিয়াম) নির্মাণ কাজ করবে বলে বলা হচ্ছে, ঐ প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা তেমন নেই। এমনকি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সামী ভাল্লুকে নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। সর্বোপরি বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষে কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান না হওয়ায় সন্দেহ-সংশয় ঘনীভূত হয়।

তাছাড়া চুক্তির ত্রুটি চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে এর সক্ষমতা নিয়ে। কেননা, পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে রাজউক নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৬ হাজার ৬শ ফ্লাট নির্মাণ করছে। অথচ সেসব ফ্লাট বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছে। এখনো প্রায় ২ হাজার ফ্লাট অবিক্রিত রয়েছে। গত ৫ মাস ধরে নানা আয়োজন আর আর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পরও গ্রাহক আকৃষ্ট করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। মে মাসেই শেষ হয়েছে আবেদনপত্র জমা দেয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা। ফলে ঐসব ফ্লাট এখন রাজউকের জন্য শ্বেহস্তীতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া সার্বিকভাবে দেশে গত ক'বছর ধরে আবাসন খাতে মন্দাভাব বিরাজ করছে। বেসরকারি আবাসন মালিকদের সংগঠন রিহ্যাব বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছে। এ অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজউক নিজেদের তৈরি ফ্লাট নিয়ে যেখানে বিপাকে, সেখানে মালয়েশিয়ার সাথে নতুন চুক্তি গোদের ওপর বিষফোঁড়া হতে পারে। অথচ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী চক্র কমিশন বাণিজ্যের লোভে মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে মরিয়া।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯০৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.