নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ মে ২০১৬, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ৩ শাবান ১৪৩৭
রাতেই নিজামীর ফাঁসি কার্যকর
স্টাফ রিপোর্টার
মঙ্গলবার রাতেই মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঠিক কখন এ ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে তা এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে কারাসূত্রের তথ্যানুযায়ী রাত ১২টার পরে তার ফাঁসি কার্যকর করার কথা। এদিকে গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, আজ রাতেই ফাঁসি কার্যকর হবে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

এদিকে গতকাল বিকালে নিজামী শেষবারের মতো জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন না। এর প্রেক্ষিতে বিকালে কারা কর্তৃপক্ষ নিজামীর সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে বলে। এর আগে ফাঁসি কার্যকর করতে কারা কর্তৃপক্ষ গতকাল সকালে এবং বিকেলে দুই দফা বৈঠক করে, পরিদর্শন করেন ফাঁসির মঞ্চ। আর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করেছেন নিজামীর স্বাস্থ্য। কারা সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসি কার্যকর করতে গতকাল জল্লাদ রাজু ও তার সহযোগীরা মহড়া শেষ করেছে। ফাঁসি দেয়ার আগে নিজামীকে গোসল করানো হবে এবং জমটুপি পরিয়ে ফাঁসিমঞ্চে তোলা হবে। এর আগে সোমাবার রাতেই রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় নিজামীকে পড়ে শোনানো হয়েছে।

এদিকে গতকাল বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেননি। তাই যে কোন সময় রায় কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় কারাগার ও এর আশেপাশে এবং নিজামীর নিজ জেলা পাবনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের রাস্তায় সকল প্রকার যান চলচলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মতিউর রহমান নিজামীকে গত রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড পাওয়া ৪ জনের রায় এই কারাগারে কার্যকর হয়েছে। তারা হলেন

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, ২ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী।

আপিল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামীকে বলা হয়েছে একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের নকশাকার। ২০০০ সালে সেই নিজামীই হন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়তে ইসলামীর আমির।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগে তাকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে নিজামীর করা আপিলের রায় ঘোষণা করা হয় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি। আপিলে আরো তিনটি অভিযোগ থেকে নিজামী খালাস পান। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া দন্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর মধ্যে ৩টিতে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এগুলো হলো পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রূপসী, বাউসগাড়ি ও ডেমরা গ্রামের ৪৫০ জনকে নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা। বাকি দুটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন সর্বোচ্চ আদালত।

নিজামীর সঙ্গে স্বজদের সাক্ষাত : নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে তার পরিবারের সদস্যরা গতকাল রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন। ৩টি মাইক্রোবাসে নিজামীর পরিবারের ২১ জন সদস্য তার সঙ্গে দেখা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

প্রস্তুত ১০ জল্লাদ : নিজামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল ১০ জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়। এরা হলেন- জল্লাদ রাজু, সাত্তার, আবুল, হজরত, রনি, ইকবাল, মাসুদ, মুক্তার, আবদুল ওয়াহাব ও ওমর আলী শেখ। তাদের মধ্যে প্রথম ৮ জনকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা হয়েছে। শেষ দু'জনকে আনা হয়েছে নড়াইল কারাগার থেকে। কারাবিধি অনুযায়ী, মৃত্যুদন্ড কার্যকরে সাধারণত ৭ জন জল্লাদ অংশ নেন। তাদের মধ্যে একজন প্রধান থাকেন। বাকিরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

ফাঁসির মঞ্চ পরিদর্শন : মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির মঞ্চ পরিদর্শন করেছেন কারা কর্মকর্তারা। পরে তারা রায় কার্যকর করার প্রস্তুতি বিষয়ে বৈঠক করেন। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এবং বিকেলে কারাগারে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. ইকবাল, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, জেলার নেসার আলমসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে কেটেছে নিজামীর শেষ সময় : কারাগারে নিজামীর সেলের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক জনতাকে জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে রায় পড়ে শোনানোর পর থেকে নিজামী কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতে যান। তিনি অনেক রাত পর্যন্ত নফল নামাজ আর কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে ঘুমিয়ে পড়েন। গতকাল মঙ্গলবার খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন নিজামী। নামাজ আদায় করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন। কিছুটা সময় অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে পার করেন। পরে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকেও সকালের নাশতা দেয়া হয়। নাশতায় ছিল দুটি রুটি ও এক বাটি ভাজি। ডিম বা চা লাগবে কি না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি 'না' বলেন। তা ছাড়া তার চায়ের অভ্যাস নেই বলেও জানান।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫১৮৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.