নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
মোদীর ভাবমূর্তি ঝাঁকিয়ে দিয়েছে ভারতের কোভিড-১৯ সঙ্কট
জনতা ডেস্ক
তার কোভিড-১৯ টাস্কফোর্স কয়েক মাস ধরে বৈঠক করে না। তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে মার্চে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভারত মহামারীর বিরুদ্ধে 'লড়াইয়ের সমাপ্তির' পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও বিশ্ব নেতাদের সামনে দাবি করেছিলেন, তার দেশ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে। গত জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভার্চুয়াল সভায় নরেন্দ্র মোদী যখন বক্তৃতা করছিলেন, ভিডিওতে তার পেছনে উড়ছিল ভারতের পতাকা। তিনি বলছিলেন, ভারত কার্যকরভাবে করোনাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানবজাতিকে একটি বড় বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষা করেছে। এখন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভারতকে এই মহামারীতে বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশে পরিণত করেছে। এক দিনে চার লাখ রোগী শনাক্তের নতুন বিশ্বরেকর্ড ভারতকে দেখতে হয়েছে এক দিন আগে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী দেশ হয়েও করোনাভাইরাসের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। হাসপাতালে জায়গা নেই, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেনের মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভারতের বড় বড় শহরে প্রতিদিন শ্মশানগুলোতে হাজারো মানুষের দাহ হচ্ছে, লাশ পোড়া গন্ধ আর ভষ্মে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস, আকাশ হয়ে উঠেছে ধূসর, এ যেন অনন্ত মৃত্যুর মিছিল। ভারতের এই উল্টো যাত্রা নতুন এক জাতীয় আলোচনার সূচনা করেছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞরা একটা সময় কিছুটা আশ্চর্য হয়েই ভাবছিলেন কীভাবে এই জনবহুল দেশটি মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারল। এখন তারা সেখানকার তুলনামূলক তরুণ জনগোষ্ঠী ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। এমনকি মোদীর সমর্থকেরাও এখন বলছেন যে ভারত একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির শিকার এবং দ্বিতীয় ঢেউ এভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ বের করতে আরও সময় দরকার।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মোদীর 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস' এবং তার 'কর্তৃত্বপরায়ণ নেতৃত্বের' ধরনের একটি বড় দায় রয়েছে এমন পরিস্থিতির জন্য। সমালোচকেরা বলছেন, ঝুঁকি না কাটলেও মোদীর প্রশাসন ভারতের এমন একটি ছবি প্রচার করতে চাইছিল, যাতে মনে হয়, দেশ আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। এক পর্যায়ে, প্রশাসনের কর্তারা বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তাও পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল ভারতের জনগোষ্ঠী এখনও ঝুঁকিতে আছে, এবং 'হার্ড ইমিউনিটি' অর্জিত হয়নি। এসব সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এমন কিছু কর্মকর্তাই এখন বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনছেন। নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং বিরোধীদের 'প্রবলভাবে দমন' করার মাধ্যমে গত কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া নরেন্দ্র মোদীর দৃঢ় রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এই মহামারীর বিপর্যয়ে অনেকটাই ঔজ্বল্য হারিয়েছে। বিরোধী নেতারা এখন আক্রমণ শানাচ্ছেন এবং তার কর্তৃত্ব তাকে অনলাইনে সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত করেছে। পার্লামেন্ট নির্বাচনের এখনও তিন বছর বাকি, সরকার ভেঙে যাওয়ার মত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। তাই বলা যায়, মোদীর ক্ষমতা সম্ভবত নিরাপদ। মোদীর সরকার সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করেছে এবং টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত করেছে যেখানে ১৮ বছরের বেশি সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। তারপরও দেশজুড়ে এই রোগের বিস্তার ও মৃত্যুর মিছিলের জন্য বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকেই দায়ী করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নয়া দিলি্লর সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর গবেষক আসিম আলি বলেন, মোদীর শাসন পদ্ধতিই এই দোষারোপের পেছনে একটি বড় ভূমিকা রাখছে, যেখানে শীর্ষ মন্ত্রীদের বেছে নেওয়া হয়েছে তাদের দক্ষতা নয় বরং আনুগত্যের বিবেচনায়, যেখানে স্বচ্ছতার চেয়ে গোপনীয়তা ও ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব বেশি। এ ধরনের শাসন কাঠামোয়, যখন মোদীর হাত থেকে বল পড়ে যায়, যেমনটি হয়েছে কোভিড মোকাবেলার ক্ষেত্রে, তখন বিপর্যয়ের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

সামপ্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সময়ে, কর্মকর্তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলোও ভারতকে ভুগিয়েছে। ভারত বিশ্বে টিকার 'পাওয়ারহাউজ', পৃথিবীকে রক্ষায় তারা টিকা উৎপাদন করছে। কিন্তু নিজেদের রক্ষায় পর্যাপ্ত টিকা শুরুতে কেনেনি মোদীর সরকার। বরং দেশে যখন টিকাদানের হার কম ছিল, নয়া দিলি্ল ছয় কোটি ডোজ টিকা বিভিন্ন দেশে উপহার দিয়েছে। সংক্রমণ যখন বেড়ে চলেছে, মোদী বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তার সরকার হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কুম্ভ মেলায় লাখ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই সমবেত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সমাবেশে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ভাষণ দিয়েছেন, যেখানে সমবেত কর্মী-সমর্থকেরাও মাস্ক ছাড়াই অংশ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী নিজেকে বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে কেবল 'মিত্রদের' ঘেরাটোপে আটকে রেখেছেন। কর্মকর্তারা হয়ত ভয়েই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা করেনি, মাহামরী কেটে যাওয়া নিয়ে মোদীর ঘোষণার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করারও চেষ্টা করেননি। বরং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার থেকে সমালোচনামলূক পোস্ট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৬৮৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.