নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
এত চোখ এড়িয়ে স্পিডবোটটি চলছিল কীভাবে?
মাদারীপুর প্রতিনিধি
পদ্মায় মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা হয়। কখনো ফেরি, কখনো লঞ্চ। তবে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয় স্পিডবোট। কিন্তু স্পিডবোট উল্টে এত মানুষের মৃত্যু আগে কখনো কেউ দেখেনি। কথাগুলো বলেছেন মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটের বাসিন্দা হক সাহেব (৩৯)। তার মতো অনেকেই এই মন্তব্য করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বেপরোয়া গতি ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে স্পিডবোটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পদ্মায় স্পিডবোটে যাত্রী বহনে কোনো বৈধতা না থাকলেও এত চোখ এড়িয়ে কীভাবে এটি চলে, সে উত্তর দিতে পারলেন না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিস্নউটিএ), পুলিশ ও নৌপুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। গতকাল সোমবার সকালে পদ্মায় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় এই পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশের একাধিক দল।

স্পিডবোট দুর্ঘটনার পরই এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। তাদের একজন হায়দার আলী। তিনি বলেন, 'সকালে হঠাৎ বিকট একটা শব্দ শুনেই ঘর থেকে দৌড়ে বাইরে আসি। এসে দেখি স্পিডবোটটি বাল্কহেডের নিচে চলে গেছে। আর যাত্রীরা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এর মধ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় লোকজন। এত বড় ঘটনা আমার জীবনে আমি কখনো দেখিনি।

দুর্ঘটনায় উদ্ধার লাশ রাখা হয় কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। এখানে আসেন ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার মো. আবদুল বারেক। এ সময় তিনি বলেন, লকডাউন কার্যকর থাকায় স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। যে স্পিডবোট চলে তা বাংলাবাজার ঘাট থেকে চলে না। এগুলো চলে শিমুলিয়া ঘাট থেকে। আমাদের এপারের (বাংলাবাজার) ঘাটে লকডাউন কার্যকর আছে। তিনি আরো বলেন, পদ্মায় স্পিডবোটে যাত্রী বহনে কোনো বৈধতা নেই। তবু কেন চলাচল করছে, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর এড়িয়ে যান।

এ সম্পর্কে বিআইডবিস্নউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী পরিচালক ( নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নৌপরিবহণ অধিদফতরের মহাপরিচালক, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, চিফ সার্ভেয়ার, চিফ পরিদর্শকসহ অনেকেই এসেছেন। লকডাউন চলার সময় এখান থেকে স্পিডবোটটি কীভাবে ছেড়ে গেল, এটা সবারই প্রশ্ন। এত সকালে স্পিডবোট চলার বিষয় আমরা কেউ বলতে পারছি না। স্পিডবোটের কোনো নিবন্ধন নেই। তাই তারা ইচ্ছেমতো চলছে। তবে এই স্পিডবোটগুলো মানুষের সুবিধার্থে চলছে। এগুলো চলাচলে আমাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আমাদের পক্ষে কী আর করা!'

বিআইডবিস্নউটিএর এই কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার শিকার স্পিডবোটটি ২০০ সিসির। এটি ৩২-৩৪ জন যাত্রী বহন করতে পারে। এই নৌপথে চলাচলরত এটাই সবচেয়ে বড় স্পিডবোট। এই স্পিডবোটের মালিকের নাম চান্দু মিয়া ও চালকের নাম শাহ আলম। মালিকের বাড়ি শিমুলিয়া মাওয়া এলাকায়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা পুলিশের কাছে সুপারিশ করব। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, পদ্মা নদী দিয়ে যে নৌযানে যাত্রী পরিবহণ করে তাদের অনুমোদনের বিষয়গুলো নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় দেখে। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কাজ করি। কোনো অবৈধ নৌযান চলাচল করে থাকলে সংশ্লিষ্ট দফতর আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদের পাশে থাকি। তারপরও স্পিডবোটে যেহেতু যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন নেই, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৬২১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.