নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় জাল নোট তৈরি চক্র
চক্রের অপতৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি
স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে ওঠে জাল নোট তৈরি ও সরবরাহকারী চক্র। রমজান মাস শুরু হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোটের কারবারিরা। গত রোববার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার জীবন, পিয়াস ও ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার করে। বেশি টাকা আয়ের লোভে তিন জনই চাকরি ছেড়ে তৈরি করেন জাল টাকার কারখানা। আর তাদের তৈরি জাল টাকার কোয়ালিটি যথেষ্ট উন্নত। এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।

সূত্র জানায়, রাজধানীর চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর ও মিরপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকার কারখানা বসিয়ে টাকা তৈরি করছে। এমন গোপন তথ্যে ভিত্তিতে গত রোববার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জীবন, পিয়াস, ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তারা তিন জনই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। একসময় তিন জনই ভালো চাকরি করতেন। পরে বেশি টাকা আয়ের লোভে তিন জনই চাকরি ছেড়ে তৈরি করেন জাল টাকার কারখানা। আর তাদের তৈরি জাল টাকার কোয়ালিটি যথেষ্ট উন্নত।

একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে আরো এক নারীকে আটক করেছে ডিবি। তবে পুলিশ ঐ নারীর নাম-পরিচয় জানায়নি। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৪৬ লাখ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সামগ্রী। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে-দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি প্রিন্টার, হিট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, ডাইস, জাল টাকার নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন ধরনের কালি, আঠা ও স্কেল কাটারসহ আরো সামগ্রী।

সূত্র আরো জানায়, প্রতি বছর ঈদের বাজারে লাখ লাখ টাকার জাল নোট ছাড়া আশঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাল নোটের কারবার সর্বদা হয়ে থাকলেও ঈদ সামনে রেখে এর কারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে অধিক। এবারও এসব অশুভ চক্রের তৎপরতা থেমে নেই, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে শপিংমল ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সময় কৌশলে বাজারে জাল নোট ছেড়ে দেয় এ চক্রের সদস্যরা। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এসব আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাল নোটের ব্যবসা করার অভিযোগে মামলাও রয়েছে। আগে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের জাল টাকার ব্যবসায় জড়িয়েছে। অথচ জাল টাকা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

অপর একটি সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশব্যাপী এই চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। জালনোট বাজারে ছড়িয়ে দিতে বেছে নিচ্ছেন নানা কৌশল। তবে এসব চক্রের অপতৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মকর্তারা জানায়, অতীতেও জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতাসহ অসংখ্য সদস্যকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৭-৮ মাস বা বছর খানেক পর তারা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপর পুরোনা সব সঙ্গী ও সহযোগীদের নিয়ে স্থান পাল্টে আবার শুরু করছে জালনোট তৈরির কারবার। বিভিন্ন উৎসবকে তারা টার্গেট করে বাজারে জালনোট ছাড়তে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তবে জালনোট চক্রের যেসব সদস্য জামিনে বের হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জালনোট প্রস্তুতের অভিযোগ বা তথ্য রয়েছে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়াও দেশব্যাপী জালনোট বিস্তাররোধে এবং বাজার থেকে জালনোট উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। সেই সঙ্গে মাকের্টগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং অন্য ব্যবসায়ীদের লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডিবির উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, আটক আসামিদের মধ্যে পিয়াস ও ইমাম হোসেন বরিশাল পলিটেকনিকেল থেকে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন। তারা গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। আর জীবন বরিশাল সরকারি পলিটেকনিকেল কলেজ থেকে পাওয়ারের ওপরে ডিপ্লোমা শেষ করেন। বেশি টাকা আয়ের লোভে তিনিও বৈধ চাকরি ছেড়ে জাল টাকা তৈরির অবৈধ কাজে যোগদান করেন। জীবন এর আগেও জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একাধিকবার জেল খেটেছেন। তিনি আরো বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জাল টাকা তৈরির বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রাথমিকভাবে তারা সাভারের জ্ঞানদা এলাকায় জাল টাকা তৈরি করলেও গত তিন মাস ধরে কামরাঙ্গীরচরে জাল টাকা তৈরি শুরু করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ১৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৭৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.