নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
বৈধতা ছাড়াই পুরনো ঢাকায় বিপুলসংখ্যক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী কার্যক্রম চালাচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার
কোনো ধরনের বৈধতা ছাড়াই পুরনো ঢাকায় ছোট-বড় বিপুলসংখ্যক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে কেমিক্যালের খুচরা বিক্রেতাদের কোন বৈধতা না থাকলেও তারা যুগ যুগ ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ব্যবসা চালাচ্ছে। মূলত দেশে কেমিক্যালের দুর্বল আইন থাকলেও তার তেমন প্রয়োগ নেই। আর আইনের প্রয়োগ তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় তদারকি ও নজরদারিও নেই। হাজার হাজার অবৈধ কেমিক্যালের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও কোন মামলা, মোকদ্দমা ও গ্রেফতার নেই। যে কারণে অবাধে চলছে বিপজ্জনক কেমিক্যালের ব্যবসা। কেবল বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেই কিছুদিন তৎপরতা চালানো হয়। তবে তা শুধু তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পুরনো ঢাকার ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এবং কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পুরনো ঢাকার নিমতলী এলাকায় ভয়াবহ অগি্নকা-ের ঘটনায় ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পর সরকার বিস্ফোরক দ্রব্যাদির বেচাকেনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু শিথিল হয়ে পড়েছে। কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা আবারো খোলামেলা বাণিজ্য শুরু করেছে। ফলে যার-তার হাতে চলে যাচ্ছে বিস্ফোরক। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করলেও এখনো বিস্ফোরক দ্রব্যাদির খোলামেলা বেচাকেনা ও যত্রতত্র বিপজ্জনকভাবে মজুদ রাখা বন্ধ হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝে মাঝে যেসব অভিযান চালায় সেগুলোরই মামলা দায়ের করার রেকর্ড রয়েছে। তাছাড়া আর কোন মামলা মোকদ্দমার নজির নেই। অথচ কয়েক দশক ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গোডাউন বানিয়ে অনিরাপদ ব্যবস্থাপনায় মজুদ রাখছে। এমনকি সরকারী জায়গা দখল করেও অবৈধভাবে কেমিক্যাল ব্যবসা চালানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নবাবগঞ্জের মন্দাক্ষেত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে জুতা, প্লাস্টিক, বৈদ্যুতিক তার, বেকারি, চকোলেট তৈরি, ওয়েলডিংয়ের ছোট-বড় কয়েকশ' প্রতিষ্ঠান। সেখানকার জুতা ফ্যাক্টরিতে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করেন সেগুলো হচ্ছে এ্যাডহেসিভ বা বেলি, মিল্ক কেমিক্যাল, সিনথেটিক রাবার এ্যাডহেসিভ বা পেস্টিং, রাবার সলিউশন বা পিইউ, রাবার সলিউশন এসপি, আনসারি আর কালো পেস্টিং। এগুলো যে বিস্ফোরক তা কারখানার মালিকরা জানেন। এমনকি তারা এটাও জানেন এ ধরনের ব্যবসা অবৈধ। তারপরও তাদের ব্যবসা করতে কোন বেগ পেতে হয় না। কারণ কেমিক্যাল একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। কম পুঁজিতে বেশি লাভের এ ব্যবসা নির্ভরযোগ্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সবাই যথেষ্ট সুসংগঠিত। যে কারণে অবৈধ কারখানার ছড়াছড়ি। অবৈধ কারখানাগুলোকে কেন্দ্র করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মারাত্মক সব দাহ্য ও রাসায়নিক পদার্থ। সালফার, পটাশ, ফসফরাস, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ইথানল, মিথাইল, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, ফরমালডিহাইড, এ্যাডহেসিভ বা সলিউশন, তারপিনসহ নানা ধরনের গান পাউডার একত্রেই যত্রতত্র বিক্রি হয়। পুরনো ঢাকার সবচেয়ে ভয়ানক অগি্নকা-ে নিমতলী এলাকায় ১২৫ জনেরও বেশি মানুষ পুড়ে ভস্মীভূত। তার বছর দুয়েক আগে নাজিমুদ্দিন রোডের একটি ভবনে অগি্নকা-ে একই পরিবারের ৯ জনসহ মোট ১০ জন মারা যান। একই বছর লালবাগের ইসলামবাগ এলাকায় জুতার কারখানায় অগি্নদগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৬ সালে মৌলভীবাজারে অগি্নকা-ে প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। ওসব ঘটনার পর পরই বিভিন্ন দফতর অধিদফতরের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। মাঠে নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু কয়েক দিনের অভিযান কার্যক্রম শেষ হলেই সামগ্রিক অবস্থা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ওসব ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেফতার ও বিচার হওয়ার নজির নেই। বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সবই ছিল অগি্নদুর্ঘটনা। ফলে জিডি বা মামলা যেটাই দায়ের করা হোক তাতে কোন অভিযুক্তের নাম থাকে না। ঘটনাস্থল বা স্থাপনার মালিক যারা তারাই হন বাদী। তাতে থাকে না কোন আসামি বা অভিযুক্তের নাম। ওসব আগুনের তদন্তও হয় ভিন্ন ভিন্নভাবে। বিস্ফোরক অধিদফতর ও ফায়ার সার্ভিস তাদের মতো নিজ নিজ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেয়। থানা পুলিশও দায়সারা গোছের তদন্ত করে ফেলে রাখে। ওই তদন্তের প্রেক্ষিতে কাউকে গ্রেফতার বা চার্জশীটভুক্ত করা হয় না। আর অবৈধ ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়ে নিরাপদে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, যে কোন ব্যবসা করতে গেলে সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স আবশ্যক। আর সেটা সবারই থাকে। যে কারণে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কিছু করতে পারে না। তবে ওই বিষয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টদের মতে, সিটি কর্পোরেশন থেকে সাধারণ ব্যবসার জন্য শুধু ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হয়, কোন কেমিক্যাল বিক্রির লাইসেন্স দেয়া হয় না। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। আর ব্যবসায়ীরা চরম বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুদ, পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইন মানছে না। বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স ছাড়া শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই বিপজ্জনক রাসায়নিক গুদামজাত এবং খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে। অথচ রাসায়নিক মজুদ করতে হলে আইন মতে, গুদামের নক্সা, আমদানি-রফতানির লাইসেন্স, অগি্ননির্বাপণ সনদসহ কমপক্ষে ১৫টি শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু তা না করে বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ অবলীলায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি আরো ভযাবহ বিষয় হচ্ছে- প্রকাশ্যে গান পাউডার বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ায় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন উৎস থেকে ওই মরণঘাতী গান পাউডার সংগ্রহ করছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় যে গান পাউডার ব্যবহৃত হচ্ছে নাশকতাকারীরা তা বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে সংগ্রহ করছে। শুধু তাই নয়, কাঠ ও জুতার মতো কম দামি কেমিক্যালের ছাড়পত্র নিয়ে আমদানি করা হচ্ছে বিপজ্জনক সব দাহ্য পদার্থ। এমনকি কূটকৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বোমা তৈরির গানপাউডার ও নানা বিস্ফোরক দ্রব্য এবং মারাত্মক সব দাহ্য পদার্থ আমদানি করা হচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়াই খুচরা ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র এমন বিপজ্জনক রাসায়নিকের ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তা দেখার কেউ নেই। শুধুমাত্র বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনার পরই কিছুদিন দৌড়ঝাঁপ করেই সবার দায়িত্ব শেষ।

এদিকে এ প্রসঙ্গে প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক সামসুল আলম জানান, আইন প্রয়োগের বিষয়টি বিস্ফোরক অধিদপ্তর দেখে না। অদিদপ্তর শুধু কারিগরি দিকটি দেখে থাকে। ব্রিটিশ আমল থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সেগুলোর তদারকি কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিধান। তবে বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণের জন্য আলাদা গুদামের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পুরান ঢাকায় সেটি মানা হচ্ছে না। নিমতলী ঘটনার পরই ওসব বিষয় সামনে আসছে। দেশে অবৈধভাবে কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক দ্রব্য যে আসছে তার বড় প্রমাণ পুরান ঢাকা। সেখানে প্রচুর অবৈধ দোকান ও গুদাম রয়েছে। এমনকি যেসব দ্রব্য আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ, সেসব দ্রব্যও বেচাকেনা হচ্ছে। কিন্তু মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ ওসব রাসায়নিক তদারকির মতো বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নেই।

অন্যদিকে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন জানান, শুধু আবাসিক নয়, যে বাণিজ্যিক এলাকাতেও কেমিক্যাল ব্যবসা করতে গেলে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন লাগে। আর ফায়ার সার্ভিস সেটা যাচাই-বাছাই করেই অনুমোদন দিয়ে থাকে। পুরান ঢাকায় নতুন করে আর কাউকে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২২
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩০
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৮৬৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.