নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
জনতার মত
লকডাউন শিথিলতা ও আমাদের ভাবনা
জয়দেব রায়
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে এ সময়ে লকডাউন শিথিল করে দেয়া ছাড়া আর কী উপায় ছিল সরকারের? বিকল্পও দেখাচ্ছেন না কেউ। করোনায় কেন ঘরে থাকতে হবে- কেন বাইরে যাওয়া যাবে না- গত ক'দিনের আলামতেও বুঝতে পারছেন না? না বুঝে থাকলে লকডাউন ফেল মারবে। সরকার শত চেষ্টায়ও মানুষকে আটকে রাখতে পারবে না। গত এক বছরে এই জরুরি বার্তাটি যারা বোঝেননি এটা তাদের ব্যাপার। না বোঝাও একটা স্বাধীনতা, একটা অধিকার।

মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের। কিন্তু সরকারের বাইরে কি কারো বোধবুদ্ধির ব্যাপার নেই? তাদের ভূমিকাও জরুরি। মিডিয়া, সমাজের সচেতন অগ্রসর শিক্ষিত মানুষ, সেলেব্রেটি, সামাজিক-ধর্মীয় নেতারা দেশে-দেশে নিজ উদ্যোগে মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের এখানে সেই দিকটায় ভীষণ খরা। করোনায় কত ক্ষতি হচ্ছে সেই আলোচনাটা সবার তুঙ্গে। সরকার দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করেই লকডাউন শিথিল করলো। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য লকডাউন শিথিল করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় হয়তো সরকারের ছিল না। আমাদের দেশটা হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার। সবার সুখে দুঃখে আমরা সবাই একে অপরের পাশে থাকি সবসময়। বাংলাদেশের মানুষ আসলে কতোটা সচেতন করোনার বিষয়ে এটা নিয়ে ভাববার আছে। দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষকে সচেতন করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ গ্রামাঞ্চলের মানুষ শিক্ষার দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে। তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব দারুণভাবে পরিলক্ষিত হয়।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গেলে কি অবস্থা হবে সেটা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি নয়। এর মধ্যেই হাসপাতালে হাসপাতালে সিট নাই। বেড নাই, অক্সিজেন নাই, আইসিইউ নাই। ফ্লোরেও জায়গা দেয়া যাচ্ছে না রোগীদের। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। আমাদের স্বাস্থ্য সেক্টরের অবস্থা কারো অজানা নয়। আবার এ কথাও তো সত্য বিশ্বের কোনো দেশেই হাজার হাজার আইসিইউ থাকে না। সবদেশেই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার একটা সীমা থাকে। অসংখ্য মানুষের এক সাথে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে, আইসিইউর প্রয়োজন হলে, অক্সিজেনের দরকার হলে তাৎক্ষণিক বা দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালির মতো শক্তিধর দেশেও করোনায় হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এখনো মারা যাচ্ছে। একসঙ্গে এত এত অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে জায়গা দিতে পারেনি তারা। তার মানে কি তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ? বা সেসব দেশের সরকার অবহেলা করছে? মোটেই না। সমস্যাটা হয়েছে ব্যবস্থাপনায়। মানুষকে সীমিত পরিসরে বা লকডাউনে রাখতে না পারায়।

সবদেশেই মহামারীর শুরু থেকেই নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে। মানুষ যত বাইরে ঘোরাফেরা করবে, ভাইরাস তত ছড়াবে। বিস্তৃত হবে। মানুষ যত ঘরে থাকবে আইসিউই বা হাসপাতালের ওপর তত চাপ কমবে। হাসপাতালে সিট নেই, আইসিইউ নেই- এই প্রশ্ন যতো ছোঁড়া হয়, তার সিকিভাগও যদি ঘরে থাকে না কেন, তা নিয়ে হলে চিত্র এমন নাও হতে পারত।

হাসপাতালে সিট বা আইসিইউ থাকলেও কি বাঁচা নিশ্চিত হত? কেউ অক্সিজেন নিলে বা হাসপাতালে ভর্তি হলে খরচ কি সরকার দেয়? যিনি সংক্রমণের শিকার, খরচ তাকেই করতে হয়। বাঁচলেও, মরলেও। অন্তত সেই বিবেচনায় তো ঘোরাফেরা বন্ধ বা কমানো যায়। মানুষের 'মবিলিটি'র সাথে কোভিড ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক প্রমাণিত। সে কারণেই 'ঘরে থাকার' বা 'লকডাউনে'র প্রসঙ্গটি এসেছে। এরপরও ঘরে থাকলে খাবো কী- এ প্রশ্নকে সামনে এনে সস্তা বাহাসে জয়ী-জয়ী ভাব নেয়ার একটা মানসিকতা লক্ষণীয়। লকডাউন না থাকলে খুব ভালো ভুঁরিভোজ হয়? তাহলে খেতে থাকুন উদর ভরে। মরতে-মরতেও খান। বেঁচে থেকে খাওয়ার প্রসঙ্গ তাদের কাছে অবান্তর। আবার লকডাউন দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করাও তামাশার নামান্তর। মনে রাখা দরকার করোনা কেবল জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি জননিরাপত্তারও বিষয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মানেই 'জননিরাপত্তা' নয়। বৈশ্বিক মহামারীতে মৃত্যুর বাইরে আতঙ্কিত হওয়া, ভয় পাওয়া, অবসাদে ভোগা, রেগে যাওয়া, হতাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো কি জননিরাপত্তার সর্বনাশ করছে না?

জয়দেব রায় : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ৯
ফজর৩:৫৬
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫৩
সূর্যোদয় - ৫:১৮সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২১০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.