নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
ভোলারাম বাঙালি সব ভুলে যায়!
মীর আব্দুল আলীম
বাংলাদেশে একের পর এক 'দুর্ঘটনা'য় মৃত্যু অবিরাম এবং অবাধ। আগুনে পুড়ে, সড়ক-নৌ-রেল পথ, রাসায়নিক বিস্ফোরণে গৃহে, কর্মস্থলে নানাভাবে এদেশে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয় প্রতি বছর। রানা প্লাজা ধস, পুরান ঢাকার নীমতলী, চুরিপট্টি ট্র্যাজিডি, নৌ-রেল এবং সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যখন বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে তখন রাষ্ট্রের টনক নড়ে। সরব হয় সবাই। ঘটনার ক'দিন বাদে আবার চুপসে যায়, ভোলারাম বাঙালি সব ভুলে যায়! ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দফতর তদন্ত কমিটি করে, মামলা হয়। পরের খবর কি তা কেউ রাখে না। দুর্ঘটনা রোধকল্পে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিচার হয় ক'টার? বিচারহীনতায় যা হবার তাই হচ্ছে, হবেও।

এসব মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি চরম দায়িত্ব অবহেলা, অনিয়ম আর কাঠামোগত হত্যাকা-? এ প্রশ্ন থেকেই যায় বারবার। রুটিন মাফিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায় সব ঘটনাই অনিয়মের কারণে সংঘটিত হয়। তাহলে বিচার হয় না কেন? প্রথাগত সংজ্ঞা অনুসারে দুর্ঘটনা হলো একটি অদৃষ্টপূর্ব, অকল্পনীয় এবং আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা যখন একই রকম কারণে বার বার ঘটতে থাকে, যে কারণগুলো ব্যবস্থা বা কাঠামোর সাথে সংযুক্ত, তখন সেগুলো আর আকস্মিক বা অদৃষ্টপূর্ব থাকে না, ফলে সেগুলো আর সাধারণ দুর্ঘটনা থাকে না, হয়ে উঠে ব্যবস্থাপনাগত বা কাঠামোগত অবহেলার ফল। এভাবেইতো চলতে থাকে। চলছে এদেশ সৃষ্টির পর থেকে।

কোনো ঘটনা ঘটলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আবার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয় কম। হলেও তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না। ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু কিংবা সম্পদহানির ক্ষেত্রে কোনোই ক্ষতিপূরণও দিতে হয় না, জবাবদিহিও করতে হয় না। যখন ঘটনা ঘটে তখন কয়েক হাজার টাকা স্বজনদের হাতে গুজে দিতে দেখা যায় কখনো কখনো। বিচার কি হয়? চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিংবা তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এসবে দায়দায়িত্ব নেবার প্রক্রিয়াও দেখা যায় না কখনো। তাই যা হবার তাই হয়। একই রকম কারণ বিদ্যমান থাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা বারে বারে এবং আরো ভয়ঙ্করভাবে পুনরাবৃত্তি হয়।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি :

পাঠক নিশ্চয় বিশ্বের শিল্প দুর্ঘটনার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির কথা ভুলেননি আপনারা? বাংলাদেশ তো বটেই গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। দেশের ইতিহাসে কঠিন এ ট্র্যাজেডি ঘটে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। এই দিনে সাড়ে ৩ হাজার শ্রমিক ভর্তি আট তলা ভবন ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৮ জন। আহত হন আরো প্রায় ২ হাজার। আট বছর পার হলেও এ ঘটনায় দায়ীদের এখনো বিচার হয়নি। ওই সময়ে ভবনের মালিক রানাসহ কারখানার মালিকরা গ্রেফতার হলেও একমাত্র রানা ছাড়া বাকিরা জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। রানা প্লাজা ধসের পর আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দায়ীদের বিচারে কেন অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় হওয়া মূল মামলায় পাঁচ বছর আগে বিচার শুরু হলেও এখনো কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ভবনের মালিক রানা, তার পরিবার, সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়রসহ বিভিন্ন জনের নামে পাঁচটি মামলা হয়। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে একটি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একটি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিনটি মামলা দায়ের করে। সম্পদের হিসাব দাখিল না করা সংক্রান্ত নন সাবমিশন মামলায় রানার তিন বছর কারাদ- হয়েছে ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট। এ মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদ- দেয়া হয়। দুদকের মামলায় বিচার হলেও ভবন ধসের ঘটনায় মূল মামলার বিচারে অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় হওয়া দুটি মামলাতেই পাঁচ বছর আগে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের কারণে এ মামলায় দীর্ঘ এ সময়েও কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। নেই বিচারের আর কোনো অগ্রগতি। বিচারহীনতার কারণে এদেশে আরো বহু ভবন নয়মনীতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে। ঘটেছে দুর্ঘটনাও। এ দায় কাদের?

অব্যাহত অগি্নকা-ে মৃতু :

বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য অগি্নকা-ের ঘটনা ঘটে। পুরান ঢাকার নীমতলী ট্র্যাজেডি, চুরিপট্টি ট্র্যাজেডি, আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসের অগি্নকা-, ইসলামবাগের জুতা ফ্যাক্টরিসহ নানা প্রতিষ্ঠানে ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল এই ১২ বছরে দেশে ছোট-বড় অন্তত ২ লাখ ২ হাজার ১৯টি অগি্নকা-ের ঘটনা ঘটেছে যেসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৯৭৪ জন। বড় ঘটনাগুলোর মধ্যে-২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগি্নকা-ে ১২৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লেগে নিহত হয় ১১১ জন শ্রমিক। ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই ইসলামবাগের হাজী মুরাদ হোসেনের 'শিকদার প্লাস্টিক' নামের জুতার সোল তৈরির কারখানায় আগুন লেগে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১১ শ্রমিক, আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন আরো ৭ জন শ্রমিক। ২০১৩ সালের ০৮ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পলমল গ্রুপের আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় আগুন লেগে কমপক্ষে নয়জন নিহত হন। ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় কালার ম্যাক্স (বিডি) লিমিটেড নামের গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগি্নকা-ে ২৬ জন নারী ও শিশু শ্রমিক দগ্ধ হয় যার মধ্যে পাঁচজন মারা যায়। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লেগে ধোঁয়ায়, লাফিয়ে পড়ে, পুড়ে ২৭ জন নিহত ও অন্তত ৭৫ জন আহত হন। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের পারফিউম কারখানা ও কেমিক্যালের গোডাউন থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগি্নকা-ে প্রাণ হারান ৭১ জন। ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি গাজীপুরের পুবাইলের 'স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল' কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে সাতজনের প্রাণহানির ঘটে। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর শহরের রানীগঞ্জ এলাকার যমুনা অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে ১৯ জন নিহত হন। এই ঘটনার কিছুদিন পরেই ২০১৭ সালের ৩ জুলাই গাজীপুরের কাশিমপুরে মাল্টি ফ্যাবস নামের পোশাক কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। এরকম বড় ঘটনা ছাড়াও ছোট ছোট দুর্ঘটনায় কখনো চালকলে কখনো পোশাক কারখানায় বা অন্য কোনো করখানায় নিয়মিত বয়লার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুসারে সর্বশেষ ২০১৯ সালে বয়লারে ১১টি অগি্নকা-ের ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। যথাযথ অগি্ননিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এবং ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে এসব অগি্নকা- সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, বহু মানুষ হতাহত হয় এবং সম্পদ নষ্ট নয়।

সড়ক মৃত্যু :

সড়ক-মহাসড়কে মানুষের মৃত্যু এখন 'স্বাভাবিক' ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন আমরা সড়ক মহাসড়কে বহু মানুষের আহত-নিহত হওয়ার খবর শুনি এবং তারপর ভুলে যাই। কোনো বড় ঘটনায় আন্দোলন হলে নয়া আইন হয়। কার্যকর হয় না। ছাত্র আন্দোলনের পর সর্বশেষ যে আইন হয়েছে। তা পরিবহণ শ্রমিকদের চাপের মুখে পরিবর্তন করতে হয়েছে হালে। আইনের প্রয়োগ না হলে সড়ক মৃত্যু থামবে কি করে? আমরা জানতে পারি ২০২০ সালে যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসেবে সড়ক দুঘটনায় নিহত হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর হিসেবে ৫ হাজার ২২৭ জন। সড়ক-মহাসড়কে অকালে আহত/নিহত হওয়া এই মানুষগুলো শুধুই সংখ্যা হয়ে যায়- পরিসংখ্যানের আড়ালে হারিয়ে যায় এক একজন রক্ত মাংসের মানুষের স্বপ্ন কল্পনা, এক একটি পরিবারের আশা আকাঙ্ক্ষা।

অনিরাপদ নৌপথে :

বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৬৩৮টি নৌ দুর্ঘটনা ঘটে যেসব দুর্ঘটনায় মারা যান সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। নৌপথে দুর্ঘটনার পেছনে কাঠামোগত অব্যবস্থাপনা কতটা দায়ী তা বোঝার জন্য এই রিপোর্টে উল্লেখকৃত দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

বাংলাদেশের নৌপথে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার দুই-তৃতীয়াংশই দুটো নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষ এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ঘটে। এই বেশিরভাগ সংঘর্ষই ঘটে রাতে বা শীতকালে কুয়াশার মধ্যে যখন দৃষ্টিসীমা থাকে সীমিত। সড়ক বা রেলপথের চেয়ে অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত নেভিগেশন চ্যানেলের নদীপথে নৌযানগুলোর পরস্পরের সাথে সংঘর্ষের বিষয়টি এমনিতে খুব অস্বাভাবিক। কিন্তু নদী শুকিয়ে নাব্যতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাত্রিকালীন নৌ চলাচলের জন্য যদি নৌ-রুটে রাত্রিকালীন নৌ-চলাচল সহায়ক যন্ত্রপাতি না থাকে, যদি নৌপথে স্থানে স্থানে অচিহ্নিত ডুবোচর থাকে কিংবা নৌযানগুলোতে যদি রাতে এবং কুয়াশার মধে?্য চলাচলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম না থাকে তাহলে এই অস্বাভাবিক ব্যাপারটিই স্বাভাবিক ও নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়।

আগস্টের ৪ তারিখ ভুলে যাওয়ার মতো কোনো দিন না। প্রতি বছর দিনটি এলেই মনে পড়ে যায় পিনাক-৬ লঞ্চডুবির সেই ঘটনা। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী পিনাক-৬ সেদিন প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে যায় পদ্মার বুকে, মাওয়া ঘাটের কাছে এসে ডুবে যায়। ২০১৪ সালের আগস্টের শুরু থেকেই পদ্মা ছিল উত্তাল, ঘোষণা করা হয়েছিল ২ নম্বর সতর্ক সংকেতও। নিয়মানুযায়ী, এমতাবস্থায় ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচল করা নিষিদ্ধ থাকলেও, সমস্ত বিধি-নিষেধ অমান্য করে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ গুণ যাত্রী নিয়ে রওনা করে ৫২ ফুট (সাড়ে ১৯ মিটার) দৈর্ঘ্যের পিনাক-৬। উদ্ধার হয় ৪৯ জনের লাশ, বেওয়ারিশ হিসেবে শিবচরে দাফন করা হয় ২১ জনের মৃতদেহ। এছাড়াও সরকারি হিসেবেই নিখোঁজ থাকে ৬১ যাত্রী। '১৯৯১ সালে তৈরি হওয়া পিনাক-৬ লঞ্চে ছিল না যাত্রীদের আত্মরক্ষার জন্য কোনো সেফটি ইকুইপমেন্ট, এমনকি চালকের লাইসেন্স পর্যন্ত ছিল না। বিআইডবিস্নউটিএ, সমুদ্র অধিদফতর, লঞ্চের মালিক, ঘাটের ইজারাদার হয়ে ঘুরতে ঘুরতে সবশেষে মামলাটিই বরফ ঘরে লুকায়। এভাবে সকল লঞ্চ দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি, কদিন হৈ চৈ তারপর সব ধামাচাপা পরে।

অনিরাপদ রেল যোগাযোগ :

সারা দুনিয়াতেই রেল নিরাপদতম যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের রেলপথ সড়ক বা নৌপথের তুলনায় নিরাপদ হলেও রেলপথে জীবন ও সম্পদহানিকর দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) 'রেলপথে দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯' অনুসারে, ২০১৯ সালে ৩৯৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৮৯ নারী ও ৪৬ শিশুসহ ৪২১ জন নিহত এবং চার নারী ও ৩৩ শিশুসহ ৩৬৬ জন আহত হয়েছে। আর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসেব অনুসারে ২০১৯ সালে রেলপথে ৪৮২টি দুর্ঘটনায় ৪৬৯ জন নিহত ও ৭০৬ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশে রেল দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে আর সবেচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ইনফরমেশন বুক ২০২০ থেকে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৯-২০ এই ১২ বছরে মোট ২ হাজার ৯২৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনা ২ হাজার ৮৫৫টি যা মোট দুর্ঘটনার ৮৯ শতাংশ। আর ট্রেন লাইন চ্যুত হয়ে দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ দায়ী তার মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ রেলপথ, ইঞ্জিন বা বগির যান্ত্রিক সমস্যা, সিগনাল ব্যবস্থার সমস্যা, বিভিন্ন ধরনের মানবীয় ভুল ও নিয়ম অমান্য করা ইত্যাদি। প্রতিনিয়ত রেল দুর্ঘটনা ঘটছে কিন্তু কোনোই প্রতিকার হচ্ছে না।

প্রশ্ন হলো এভাবে কি চলতেই থাকবে। মৃত্যুর মিছিলে যাত্রী বাড়তেই থাকবে। নাকি এর কোনো প্রতিকার হবে। নাগরিকের জীবন নিয়ে এই ধরনের অবহেলার পেছনে সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোনো ব্যবস্থানা না থাকার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রণোদনাও দায়ী। কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে পথেই পুলিশ, রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে মীমাংসা হয়। নৌ, সড়ক, অগি্নকা-ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়। পরে নাকি বড় লেনদেনে আপসরফাও হয়। তাইতো একের পর এক এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখা বাড়ে। যেকোনো মূল্যে এসব মৃত্যু রোধ করতে হবে। এ জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

মীর আব্দুল আলীম : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৬
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৯
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৩৪২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.