নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ মে ২০২১, ২১ বৈশাখ ১৪২৮, ২১ রমজান ১৪৪২
মুনিয়া এখন সরকারি সম্পত্তি
এম এ কবীর
এক.

গাধা বলল,'ঘাসের রঙ নীল।'

বাঘ বলল, 'না,ঘাসের রঙ সবুজ।'

দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি লেগে গেল। শেষে বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে দুজনে গেল বনের রাজা,সিংহের দরবারে।

গিয়েই গাধা চিৎকার শুরু করে দিল। বাঘকে কথা বলার সুযোগই দিল না। শেষে গাধা বলল, 'মহারাজ, ঘাসের রঙ নীল, তাই নয় কি?' সিংহ বললো,'হ্যাঁ,ঘাসের রঙ অবশ্যই নীল।'

গাধা বলল, 'এই সত্যটা বাঘ মানতে নারাজ মহারাজ। ওকে উচিত শাস্তি দেয়া হোক।' রাজা ঘোষণা করলেন, 'বাঘকে এক বৎসরের কারাদন্ড দেয়া হল।'

গাধা আনন্দে আত্মহারা হয়ে সারা বন জুড়ে বলে বেড়াতে লাগল তার জন্যই বাঘের কারাদন্ড হয়েছে।

বাঘ সিংহের কাছে প্রশ্ন করল, 'মহারাজ, ঘাসের রঙ তো সবুজ, তাই নয় কি?' রাজা বললেন,'হ্যাঁ, ঘাসের রঙ সবুজ।' বাঘ জানতে চাইল, 'তবে আমাকে কারাদন্ডের আদেশ দিলেন কেন?'

রাজা বললেন, 'ঘাসের রঙ নীল না সবুজ তা বলার জন্য তোমার শাস্তি হয়নি। তোমার শাস্তি হয়েছে গাধার সঙ্গে তর্ক করে আমার মহামূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য।

দুই.

নিহত মুনিয়ার বড় চাচা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহদাত হোসেন সেলিম দাবি করেছেন,তার ভাতিজি নুসরাত জাহান ও তার স্বামী মেঘনা ব্যাংকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সানির অতি লোভের বলি হয়েছে মুনিয়া। তারা মুনিয়াকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। মিজানকে 'অসভ্য' অভিহিত করে তিনি বলেন, 'পরিবারের অমতে নুসরাত বিয়ে করে মিজানকে। এরপর আমার ছোট ভাতিজি মুনিয়াকে ধন-সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যার পরিণতিতে মুনিয়ার করুণ মৃত্যু হয়েছে।'

মুনিয়া নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুমিল্লা শহরের ৬নং ওয়ার্ডের শুভপুর এলাকার নিলয় নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। নিলয় বিবাহিত, দুই সন্তানের জনক। পরে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি ২০১৪ সালের। ওই সময় মুনিয়ার মা-বাবা জীবিত ছিলেন। মামলার সাড়ে তিন মাস পরে পুলিশ ফেনীতে নিলয়ের এক আত্মীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে মুনিয়াকে। পরে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে নিলয়-মুনিয়ার বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।

এরপর বড় বোন নুসরাতের উৎসাহে জনৈক হিরু মিয়ার মাধ্যমে শোবিজ জগতে যাতায়াত শুরু হয় মুনিয়ার। তার সঙ্গে পরিচয় হয় সিনেমার একজন নায়কের। এছাড়া একজন পরিচালক তাকে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে নিয়ে যান।

মুনিয়ার ভাই সবুজ দাবি করেন, শুরু থেকেই এসব অপছন্দ করতেন তিনি । কুমিল্লায় একটি আয়ুর্বেদিক কোম্পানিতে সেলসম্যানের চাকরি করা সবুজ জানতেন না মুনিয়া কোথায় থাকে, কী করে। সবুজ বলেন,'আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির সমান ভাগ নিয়ে নুসরাত আমাকে,আমার চাচা,চাচিসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করে। মামলার কারণে স্বাভাবিকভাবেই নুসরাত ও মুনিয়ার সঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরি হয়। সবুজ জানান, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম মারা যান ২০১৫ সালে আর মা মারা যান ২০১৯ সালে। এরপর থেকে মুনিয়া সম্পূর্ণভাবে নুসরাত ও তার স্বামীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ছোট বোনের এ পরিণতির জন্য সবুজ তার বোন নুসরাত ও তার স্বামীকে দায়ী করেন।

মুনিয়ার আত্মীয়রা বলেছেন, বাবা-মার মৃত্যুর পর এই বোন-ভগি্নপতিই ছিলেন মুনিয়ার একমাত্র অভিভাবক। টাকার লোভে তারা মুনিয়ার জীবন কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন সেটা একবার জানারও চেষ্টা করেনি। বরং ছোট বোনকে যথেচ্ছাচার করার, যেখানে-সেখানে থাকার স্বাধীনতা দিয়ে বোন-ভগি্নপতি হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ৫০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার যে অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে, এ টাকাও মুনিয়ার হাত ঘুরে তার বোন-ভগি্নপতির ঘরে পৌঁছে থাকতে পারে। এসমস্ত ঘটনার বর্ণনা সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছে।

তিন.

আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা করে মুনিয়া এখন সরকারি সম্পত্তি। দুর্ঘটনা,হত্যা বা আত্মহত্যার মাধ্যমে আপনিও যে কোনো সময় পাবলিক এসেট বা সরকারি সম্পত্তি হয়ে যেতে পারেন। সরকারি সম্পত্তি হয়ে গেলে আপনাকে নিয়ে সরকারের কিছু দায়-দায়িত্ব আছে। আপনাকে বা আপনার পরিবারকে তা মানতেই হবে। আপনার করার কিছু থাকবেনা কারণ তখন আপনি মৃত। আপনার মৃত শরীরে নাড়াচাড়া হবে মূলত দুই জায়গায়। প্রথমটি আপনি যেখানে মারা গেছেন সেখানে। দ্বিতীয়টি হাসপাতালের মর্গে। প্রথমটিতে আপনার শরীরের সামান্য কিছু নাড়াচাড়া হবে। দ্বিতীয়টিতে নাড়াচাড়া ছাড়াও আপনার শরীরের ব্যবচ্ছেদ হবে। যাকে বলা হয় পোস্টমর্টেম। তখন আপনি হাসপাতালের লাশ ঘরে পড়ে থাকবেন।

গুলশান থানার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মুনিয়ার যে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন তা কিছু পত্রিকা প্রকাশ করেছে। অথবা তিনি পত্রিকার মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন। রিপোর্টের কিছু অংশে খুবই সংবেদনশীল বর্ণনা রয়েছে। যিনি এই বর্ণনা লিখেছেন তা সঠিক আছে। এটি তাঁর দায়িত্ব। সুরতহাল রিপোর্ট এভাবেই তৈরি করতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেই সুরতহাল রিপোর্টতো একটি অতি গোপনীয় ব্যাপার। এই অতি গোপনীয় ব্যাপার মিডিয়ার কাছে কীভাবে প্রকাশ করা হয়? বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কি তা সমর্থন করে? যদি সমর্থন করে থাকে তাহলে সে আইন নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। যদি সমর্থন না করে থাকে তাহলে তা বন্ধ হওয়া উচিত।

প্রতিটি মৃত্যু কষ্টের। মুনিয়ার মৃত্যুর জন্য আমরা শিল্পপতিকে দায়ী করতে পারি। মুনিয়া এবং তার পরিবারকেও দায়ী করতে পারি। চূড়ান্ত বিচারে কে দোষী অথবা নির্দোষ তা আদালত নির্ধারণ করবে। আদালতকে সাহায্য করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু সেই তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়া কি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? তাহলেতো আদালতের আর বিচার করার প্রয়োজন পড়ে না। আমরা আমজনতাই বিচারকার্য সম্পন্ন করে ফেলতে পারি!

চার.

মক্কায় নাজিল হওয়া সুরা লোকমানে ৩৪টি আয়াত রয়েছে। এ সুরায় আল্লাহতায়ালা আসমান ও জমিন সৃষ্টির ক্ষেত্রে নিজের নিদর্শনাবলি বর্ণনার পাশাপাশি নিজ সন্তানের প্রতি হজরত লোকমানের কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ তুলে ধরেছেন। এ কারণে এই সুরার নামকরণ করা হয়েছে লোকমান। এই উপদেশগুলো সুরা লোকমানের ১৩ থেকে ১৯ আয়াতে স্থান পেয়েছে। মুফাসসিরদের মতে, হজরত লোকমান (আ.) কোনো নবী ছিলেন না। কিন্তু তিনি এতটা ধার্মিক ও জ্ঞানী ছিলেন যে, মহান আল্লাহ তার তাকওয়ায় মুগ্ধ হয়ে তাকে প্রজ্ঞা শিক্ষা দিয়েছিলেন। এ সুরায় হজরত লোকমানের জবানিতে সন্তানের জন্য দেয়া অমূল্য উপদেশগুলোকে কোরআন বিশারদরা মুসলিম শিশুদের জন্য শ্রেষ্ঠতর উপহার হিসেবে অবহিত করেছেন। সুরা লোকমানের ১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে -'হে পুত্র! যদি তা (পাপ-পুণ্য) হয় সরিষার দানার সমান এবং তা থাকে পাথরের ভেতর অথবা আসমান জমিনের যে কোনো স্থানে, আল্লাহ তা উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী।'

হজরত লোকমান (আ.) তার সন্তানকে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, 'হে পুত্র! ... সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো।' সুরা লোকমান : ১৭ সামাজিক কল্যাণ-চিন্তা ইসলামি জীবনব্যবস্থার সৌন্দর্য। সামাজিক কল্যাণের জায়গা থেকেই ইসলাম মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে বলেছে, যেন সামাজিক পরিবেশ মনুষ্যত্বের উপযোগী থাকে। যাতে কল্যাণের ধারাগুলো বিনষ্ট না হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'তোমাদের কেউ যখন কোনো অন্যায় হতে দেখে, সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে, যদি সে তাতে সক্ষম না হয় তবে সে যেন মুখে প্রতিবাদ করে, যদি সে তাতেও সক্ষম না হয় তবে সে যেন মনে মনে তার প্রতিকার চিন্তা করে। আর এটাই ইমানের দুর্বলতম স্তর।' সহিহ মুসলিম : ৪৯

পাঁচ.

একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

২৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মামলা করেন তার বড় বোন। আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। বয়স ৪৪। মুনিয়ার বয়স ২২। দেখতে ফুলের মতো। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। বাসা ভাড়া ১ লাখ টাকা। একাই থাকত সে।

মুনিয়া পাখির মতো সরল চেহারা। সরল হাসির অধিকারী। কন্যাটির আমরা যারা বোন,ভাই,চাচা, মামা, ফুফু, খালা, আত্মীয়-স্বজন; আমাদের কি কোনো দায়িত্ব ছিল না? আমরা যারা ছোটবেলা থেকে তাকে আদর-সোহাগ দিয়ে লালন-পালন করেছি, এত বড় করেছি; তারা কি কেউ জানতাম না কতটুকু বোকা,কতটুকু বুদ্ধিমান এই মুনিয়া? কতটুকু সরল, কতটুকু গরল তার মন? কতটুকু ইমোশনাল ? কতটুকু বয়স হয়েছিল তার? কী যোগ্যতা হয়েছিল তার লাখ টাকার ভাড়া বাসায় একা একা থাকার? কী এবং কতটা যৌক্তিক ছিল তার এত অর্থের উৎস? করোনাকালীন ছুটিতেও কেন সে একা একা থাকত ঢাকায়? আমরা কি কেউ জানতে চেয়েছিলাম তার কাছে এসব কথা? কেউ কি খোঁজ নিয়েছিলাম তার এই জীবনযাপনের? কেউ কি গিয়েছিলাম সে বাসায়? দেখেছিলাম সেসব ছবি? তার সেই জীবনাচরণের যৌক্তিকতা বিবেচনা করেছিলাম কি আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায়? জাগ্রত ছিল কি আমাদের পারিবারিক মর্যাদাবোধ? বোঝাতে চেষ্টা করেছিলাম কি তাকে? দেখানো যেত না কি সঠিক পথ? এতই কি বেপরোয়া ছিল সে? এক দিনেই কি চলে গিয়েছিল এতদূর? তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি কি আমরা কেউ? সে কি সবার অবাধ্য ছিল? তার প্রিয় ছিল না কি কোনো স্বজন, কোনো শিক্ষক? আত্মীয়স্বজনের কেউ কি ছিল না তার প্রিয়? কেউ কি ছিল না তাকে শাসন করার, বারণ করার, 'বন্দি' করার? একজন, দুজন, তিনজন, সবজন মিলে বোঝানো যেত না কি তাকে? ব্যর্থ হয়ে সহযোগিতা চেয়েছি কি অন্য স্বজনদের কাছে? ব্যর্থ হয়েছি কি সবাই? আমরা কীভাবে এড়াব এই ব্যর্থতার দায়?

আমরা তাকে দিয়েছিলাম কি অতিরিক্ত আদর, উঠিয়েছিলাম কি মাথায়? গুরুত্ব দিয়েছিলাম কি তার অযৌক্তিক পছন্দের, অতি ইমোশনাল সিদ্ধান্তের? যে লোকটির সঙ্গে মুনিয়ার এত এত ছবি সেই লোকটির বয়স ও পরিচয় জানতাম না কি কেউ? জানতাম না কি তার বিবি-সন্তানের সংবাদ? ভেবেছিলাম কি সম্পদের চাকচিক্যে ভুল করতেই পারে মধ্যবিত্ত পরিবারের অবুঝ মুনিয়া? আমাদের উচিত ছিল না কি ভেবে দেখা; কী হতে পারে এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধানিক সম্পর্কের পরিণতি? আমরাও কি ছোট ছিলাম, অবুঝ ছিলাম, ইমোশনাল ছিলাম মুনিয়ার মতোই? কেউ কি দেখিনি এমন সিনেমা-নাটক, পড়িনি এমন গল্প-উপন্যাস? দেরিতে হলেও মুনিয়া কি বলেনি এই লোক তাকে বিয়ে করবে না? বিয়ের প্রলোভনে এই অবুঝ মেয়েটির সঙ্গে কী হচ্ছে আমরা বুঝিনি কেন আগে? আমরা কি কেউ করেছিলাম দেখেও না দেখার ভান,শুনেও না শোনার ভান, জেনেও না জানার ভান? অথবা কারণে- অকারণে রাগ করে, অভিমান করে নিইনি কি তার কোনো খোঁজখবর? করেছি কি এমন ভাব; সে গোল্লায় যাক তাতে আমার কী?

নাকি আরও বেশি পাপ ছিল আমাদের কারও চিন্তায়? অন্ধ হয়েছিলাম কি সম্পদের লোভে? মুনিয়ার চোখেও ঢুকিয়ে ছিলাম কি আমাদের লোভের পেরেক? ইনোসেন্ট ইমোশনাল মুনিয়াকে টোপ বানিয়ে ধরতে চেয়েছিলাম কি রুই-কাতল? আমরা কেউ কি কৌশলে ঠেলে দিয়েছিলাম তাকে এই পথে? সবকিছুর বিনিময়ে হতে চেয়েছিলাম কি পাহাড়সমান সম্পদের অধিকারী? আমাদের বড়দের ব্যর্থতার, অবহেলার, দায়িত্বহীনতার, লোভ-লালসার শিকার নয় কি এই অপরিপক্ক মুনিয়া? তার সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কোনো দায় কি আমাদের নেই? আমরা সবাই কি ভুলে গিয়েছিলাম সেই বিখ্যাত প্রবাদ- 'পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে', 'অতি চালাকের গলায় দড়ি' কিংবা 'লোভে পাপ,পাপে মৃত্যু'?

আমাদের দ্বারা নির্মমতার শিকার হয় আমাদের অনেক সন্তান,অনেক মুনিয়া! সবকিছুর বিচার হয় না মানুষের আদালতে। বিচার চাওয়া হয়না অনেক অপরাধের। প্রমাণ হয় না অনেক অপরাধ। তাই বলে কি আমরা মুক্তি পেয়ে যাব এসবের দায় থেকে? মৃত্যুর সময় সে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিল তার ভুল, হয়েছিল অনুতপ্ত। চিনতে পেরেছিল তার আসল শত্রু-মিত্র। ভুলে গিয়েছিল সকল আবেগ, সকল মান-অভিমান। হয়ে উঠেছিল পরিপূর্ণ, পরিপক্ক। হয়তোবা তার চোখে ভেসে উঠেছিল অতি আপন আমাদের কারও কারও মুখ। তাকে শাসন না করার দায়ে, খোঁজখবর না করার দায়ে, একা একা ছেড়ে দেয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল আমাদের। নিশ্চিত তার এই অভিযোগ থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে না কোনোদিন।

এখন সবাই বলব, বিচার চাই.বিচার চাই। হয়তো চিহ্নিত হবে খুনি। চিহ্নিত হবে আদেশদাতা। বিচার হবে কোনো একদিন। নয়ত সবই হয়ে যাবে কূলকিনারাহীন। কিন্তু মুনিয়াকে আর পাওয়া যাবে না কোনোদিন!

ছয়.

প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারানোর সংখ্যা কম নয়। অনেকটা নীরবে নিভৃতেই, লোকচক্ষুর আড়ালে ঘটে চলে এসব ঘটনা। তবে কোনো কোনো ঘটনার ব্যাপ্তি কিংবা নৃশংসতার কারণেই বহুল আলোচিত হয়।

মুনিয়ার মৃত্যু অনেক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে জাতিকে। প্রভাব-প্রতিপত্তিশালীর জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটানো হবে কিনা এমন আলোচনাও বিস্তর।

এম এ কবীর : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২৭
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৭০৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.