নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ জানুয়ারি ২০১৪, ৮ মাঘ ১৪২০, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৫
জনতার মত
নিউমোনিয়া শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ
মো: আব্দুল আলীম
প্রচ- শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে দেড় মাস বয়সী শিশু মিঠু একটি স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মা রোজিনা আক্তার বলেন, গত দু'দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের কারণে মিঠু বুকের দুধ পর্যন্ত খেতে পারছে না। তীব্র শ্বসকষ্টে বুকের নিম্নাংশ নিচের দিকে দেবে যাচ্ছিল শিশুটির। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তবে সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করায় এ যাত্রায় শিশুটির বড় বিপদ হয়নি। এখন শীত ঋতু। এ সময় শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় বেশি। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার শিশু জন্মের দু'মাস বয়সের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। শিশু মৃত্যুর এ হার গ্রামাঞ্চলে আরও বেশি, কারণ সেখানে মায়েরা অধিকাংশই অশিক্ষিত। নিউমোনিয়ায় প্রকোপ কমাতে না পারলে আমাদের শিশুমৃত্যুর হার কমানোর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে যাবে।

নিউমোনিয়া একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগের প্রধান কারণ_ঠা-া, পুষ্টিহীনতা, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। এর মধ্যে ঠা-ার কারণে হঠাৎ করে শিশুরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণসমূহ হচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন ঘন শ্বাস নেয়া, বুকের নিম্নাংশ শ্বাস নেয়ার সঙ্গে ভিতরের দিকে দেবে যাওয়া, শ্বাসের সঙ্গে গলায় সাঁই সাঁই শব্দ হওয়া, কাশি, জ্বর, খাওয়ার কষ্ট, খাবারের প্রতি অনীহা ইত্যাদি। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের মতে, প্রতি মিনিটে ০-২ মাস পর্যন্ত বয়সী শিশুর ৬০ বার বা তার চেয়ে বেশি শ্বাস নেয়া এবং ১২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর প্রতি মিনিটে ৪০ বার বা তারও বেশি শ্বাস নেয়া অস্বাভাবিক। এ জাতীয় লক্ষণ শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। এছাড়া আমাদের দেশে কিছু কুসংস্কার প্রচলিত আছে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। যেমন_ শিশুকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করানো, অতিরিক্ত জ্বরে শিশুদের খিঁচুনি হলে এটাকে জি্বনের আছর মনে করা ইত্যাদি। গ্রামের কুসংস্কার এবং বহুল প্রচলিত টোটকা চিকিৎসার নামে প্রহসন এদেশে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ।

এ ব্যাপারে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের মতে, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, কবিরাজি ঝাড়-ফুঁক ও হাতুড়ে ডাক্তারদের দিয়ে চিকিৎসা করানো, দারিদ্র্যতা এবং হাসপাতালে বিলম্বে আনার জন্য নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে বেড়ে যায়। সময়মতো ডাক্তার না দেখানো, শিশুর পরিচর্যার অবহেলা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মায়েরা রেজিস্টার্ড ডাক্তার ও হাসাপাতালে আসেন না। ফলে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে। শীতের আগমনে সারাদেশে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও চর্মরোগসহ নানা ধরনের রোগ ব্যাধি বাড়ছে। এ সময়ে ঘরে ঘরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভাইরাসজনিত জ্বর এবং ব্রংকিওলাইটিস বাড়তে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশুরা যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ব্যাপকহারে আক্রান্ত হচ্ছে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া নয়; ব্রংকিওলাইটিস। এ রোগ দুটির উপসর্গ প্রায় অভিন্ন হওয়ায় অনেকে রোগ দুটিকে গুলিয়ে ফেলেন। ফলে ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রচলিত চিকিৎসা দেয়ার পরও তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করে না। তাই সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেও অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুর প্রাথমিক অবস্থায় তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমে জ্বর কমাতে হবে, স্বাভাবিক পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ভালোভাবে চিপে সমস্ত শরীর মুছে দিতে হবে এবং জ্বরের ওষুধ প্রয়োগ করে জ্বর কমিয়ে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত: শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে। তৃতীয়ত: ভাইরাল নিউমোনিয়াতে প্রাথমিকভাবে এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তবে ডাক্তারী পরামর্শ মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশু যদি খাওয়া_দাওয়া করে এবং হাসিখুশি থাকে, তাহলে বাড়িতে রেখেই আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। কিন্তু যদি শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুর খেতে অসুবিধা হয় ও ভীষণ কান্নাকাটি করে, তাহলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সময়মতো চিকিৎসা করালে শতকরা ৯০ ভাগ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় না এবং এতে মৃত্যুর আশঙ্কাও কমে যায়। কিছু নিয়ম পালন করে সহজেই শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর প্রধান কাজটি হচ্ছে শিশুর জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ পান করানো। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা বুকের দুধ পান করে তাদের তুলনায় যে সমস্ত শিশু তোলা দুধ বা কৌটার দুধ পান করে, তাদের নিউমোনিয়া আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। শিশুর বয়স ছয় মাসের পর বাড়তি খাবার হিসেবে শিশুকে গাঢ় সবুজ রংয়ের শাক_সবজি দিয়ে খিচুড়ি পরিমাণ মতো তেল দিয়ে শিশুর উপযোগী করে খাওয়াতে হবে। এছাড়া পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়াতে হবে যাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শিশুকে সময়মতো সবগুলো টিকা দিতে হবে। টিকা প্রদানের মাধ্যমে শিশু হুপিং কাশি, যক্ষ্মা, হামসহ বিভিন্ন কঠিন রোগ থেকে নিরাপদ থাকে। শীতের সময়টা একটু বেশি সতর্ক হলে নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগকে দূরে রাখা সম্ভব।

মো: আব্দুল আলীম : লেখক


Fatal error: Uncaught exception 'PDOException' with message 'SQLSTATE[HY000]: General error: 26 file is encrypted or is not a database' in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php:7 Stack trace: #0 /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php(7): PDO->query('Update newsHitC...') #1 /home/janata/public_html/lib/index.php(135): require('/home/janata/pu...') #2 /home/janata/public_html/web/details.php(10): lib->newsHitCount() #3 /home/janata/public_html/web/index.php(28): include('/home/janata/pu...') #4 /home/janata/public_html/index.php(15): include('/home/janata/pu...') #5 {main} thrown in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php on line 7