নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' : সারাদেশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি : নৌচলাচল বন্ধ
উপকূলীয় এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত : ছুটি বাতিল
জনতা রিপোর্ট
উপকূলে ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'। এর প্রভাবে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। যার প্রভাবে রাজধানীসহ সারাদেশেই দুপুরের পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইক্লোন শেল্টার। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'-এর কারণে সারাদেশে নৌ-চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিস্নউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। গতকাল শুক্রবার বিআইডবিস্নউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক (ট্রাফিক) আলমগীর কবির এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণা করার পর আমরা সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনও নৌযান চলবে না। বিআইডবিস্নউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মাওয়া ফেরিঘাটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ফেরি বন্ধ করা হবে। তবে আরিচায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক আছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধি আবদুর রহিম জানিয়েছেন, নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' এর প্রভাবে সকাল থেকে জেলার পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও থমথমে অবস্থায় রয়েছে এবং শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নোয়াখালীতে ৩শ ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র ও সাড়ে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির এক জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসরাত সাদমীন জানান, উপকূলীয় ৩ উপজেলায় গতকাল শুক্রবার সকালে জরুরি সভা শেষে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে এবং বিকাল থেকে এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ২০০ প্যাকেট করে শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ৩০০ মে. টন চাল ও নগত ৫ লাখ টাকা, ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, এছাড়াও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার প্রস্তুত আছে। প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ৪ নং বিপদ সংকেত পতাকা উঠানো হয়েছে। এছাড়া, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নদীতে থাকা নৌ-যানগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাফেরা ও উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে, জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে ১১টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে।

আমাদের বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, সুন্দরবন উপকূলে ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'। এর প্রভাবে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশ উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রায় ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে জেলার সকল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও সব উপজেলায় একটি করে মেডিকেল টিম ও কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলামকে জেলার ফোকাল পার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক দেব প্রসাদ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক কামরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ তানজিল্লুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান, রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা অধ্যাপক বুলবুল কবির, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাগেরহাটের উপ-সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদারসহ সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। সভায় জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, জেলায় ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগে কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে খবর নেয়ার জন্য জেলায় ১০টি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় আমাদের মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় রেখে জনসাধারণকে সচেতন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্ব-স্ব উপজেলায় সভা করবেন। এছাড়া সমুদ্রে থাকা সকল নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো নৌযান নির্দেশ অমান্য করে যাতে চলতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'র প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সাথে খোলা হয়েছে ৩টি কন্ট্রোল রুম। বন্দরে এই মুহূর্তে মেশিনারি, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ দেশি-বিদেশি মোট ১৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য খালাসে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবস্থা প্রতিকূল হলে দুবলার চরে জেলেদের মাছ ধরতে অনুমতি দেয়া হবে না। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৯
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬১১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.