নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
যুব সম্প্রদায়কে বাঁচাতে মাদকের লাগাম টানুন
ফয়সাল মাহমুদ আল-মারজান
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে যুবসম্প্রদায়। জাতি গঠনে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুবসম্প্রদায়ের অগ্রসরতা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশের যুবসম্প্রদায় যেন মাদকের দাবানলে পিষ্ট হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারাবৃত হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীতে যুবসম্প্রদায়কে মাদকের কালো থাবা থেকে মুক্ত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদক একটি ঘাতকের নাম। এটি শুধু ব্যক্তিগত বদভ্যাস না প্রকৃতপক্ষে এটি এখন সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সমাজকে কিভাবে প্রভাবিত করছে তা প্রতিনিয়ত পরিলক্ষিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকায় মাদকাসক্ত বাবা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণ এবং বাঘেরহাটে মাদকাসক্ত ছেলে কর্তৃক ছুরির আঘাতে মাকে হত্যা করা তারই বাস্তব উদাহরণ। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের জন্যই নয় বরং পরিবার এমনকি দেশ ও জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদকের প্রয়োজনে নির্দ্বিধায় যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে পারে। কারণ তার কাছে পরিবার, সমাজ, দেশ এমনকি নিজের মূল্যবান জীবনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পরে মাদক গ্রহণ করা। এবং তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা।

বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। চলতি বছরে অসংখ্য মাদকাসক্ত এবং মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনেছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি কি একদিনেই মাদকে আক্রান্ত হয়? কিংবা হঠাৎ করেই কি মাদক গ্রহণ শুরু করে?

অসংখ্য সংস্থা তাদের জরিপে উল্লেখ করেছেন যে প্রত্যেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক গ্রহণের পূর্বে ধূমপায়ী হয়ে উঠেন। ধূমপানকে মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেকেই। সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন এবং আইন কার্যকরণের পাশাপাশি যথেষ্ট সর্তকতা অবলম্বন পরিলক্ষিত হলেও ধূমপানের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপের ছিটেফোঁটাও পরিলক্ষিত হয়নি। এ যেন দরজা খুলে রেখে জানালা বন্ধের তাগাদা দেয়ার মতো।

ধূমপান একটি মারাত্মক ব্যাধি। ধূমপানের প্রতিক্রিয়া ধীরগতির হলেও এটি কোনো অংশেই মাদকের থেকে কম জীবননাশক নয়। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি রোগ, হৃদরোগ, রক্তচলাচলে সমস্যা, রিউমাইয়েড আথ্রর্োইটিস, শারীরিক অক্ষমতা, রকঃবন্ধ, শ্বাসকষ্ট, ঠা-া, যক্ষ্মা, মেরুদ-ে সমস্যাসহ অসংখ্য রোগের উপসর্গ হিসেবে কাজ করে।

ধূমপান নিরোধে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না থাকায় যুবসম্প্রদায় অবাধে ধূমপান গ্রহণ করছে। ফলশ্রুতিতে ধূমপায়ীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো জরিপ, ২০০৯ অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স মানুষ তামাক সেবন করে- যা মোট জনগোষ্ঠীর ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে ধূমপান করে ২৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স মানুষ। ধূমপানের হার পুরুষের মধ্যে অনেক বেশি। দেশের ২ কোটি ১২ লাখ পুরুষ ধূমপায়ী, যেখানে নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা সাত লাখ। এবং বর্তমানে এর সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটি।

ধূমপায়ী ব্যক্তি শুধু নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হন না। তার আশপাশের মানুষগুলোও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। ২০১০ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) উদ্যোগে ১৯২টি দেশে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরোক্ষ ধূমপানে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ মারা যায়। পরোক্ষ ধূমপানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুসন্তান ও মহিলারা। এটি মোটেই তুচ্ছ বিষয় নয়। বাংলাদেশে প্রচলিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ধারা ৪ অনুযায়ী প্রকাশে ধূমপানের ফলে জরিমানা হিসেবে প্রথমবার অনধিক ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য দ্বিগুণ টাকা জরিমানা বিধান থাকলেও এর কার্যকরিতা দৃশ্যমান নয়। ফলে ধূমপায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না।

একজন ধূমপায়ী ধূমপানে অভ্যাসিত হয়ে মাদকের দিকে চলে যায়। আর মাদকাসক্তি একটি জীবনকে অকালে ধ্বংস করে দিতে পারে। জীবন ধ্বংসকারী এই মাদকের পথ রুদ্ধ করতে হলে অনতিবিলম্বের ধূমপানের লাগাম টানতে হবে। অন্যথায় যুবসম্প্রদায়ের ধ্বংসের পথ সুনিশ্চিত হবে।

মাদকের পথ রুদ্ধ করার জন্য ধূমপানের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। পরিবার এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই ধূমপায়ী হয়ে উঠতে না পারে।

এ ছাড়াও অনতিবিলম্বে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৪ ধারার বিধান দৃশ্যত করার পাশাপাশি সমাজে ধূমপানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যা শুরু হতে পারে পরিবার, সমাজ, পাড়া মহল্লা, থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, ক্রমান্বয়ে দেশ পর্যায়ে যারা কর্তা ব্যক্তি আছেন তাদেরও ধূমপান বন্ধ করার জন্য কঠোর হতে হবে। এবং মিডিয়ার মাধ্যমে এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।

শুধু তাই নয় মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর কর্তব্যরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে প্রচার করে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

একটি সমৃদ্ধ সোনার দেশ গড়তে যুবসম্পদায়ের ভূমিকা সবার আগে। সেই যুবসম্প্রদায় যেন মাদকের বিষাক্ত ছোবলে হারিয়ে না যায়। তাই সরকারকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাদকের পথ রুদ্ধ করতে ধূমপানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানসহ গণসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করছি।

ফয়সাল মাহমুদ আল-মারজান : লেখক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৪
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২২০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.