নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
শিক্ষার মান এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে
আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন
স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক স্পন্দন ৩০ জুন ২০১৯ এক খবর শিরোনামে উল্লেখ করেছে-'যশোরে খাতা দেখায় ভুল করা ১৫ পরীক্ষক চিহ্নিত'। অনুরূপ শিক্ষার মান নিয়ে সাদৃশ্যতামূলক বাংলাদেশ প্রতিদিন ৩ জুন ২০১৯ এক খবর শিরোনামে উল্লেখ করেছে- 'শিক্ষায় শুধু ব্যয়ই বাড়ছে মান নিচে'। একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বৈসয়িক জ্ঞানের অভাব সম্পর্কে মন্তব্য করতে যেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার ম-ল বলেন, 'করার কিছুই নেই বরং ধৈর্য ধরে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে'। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যতদিন দক্ষ প্রা. শিক্ষক নিয়োগ দেয়া না যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

দেশের শিক্ষা খাতে ব্যয় বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও বেতন ভাতা বেড়েছে। সে তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার মান বাড়েনি, পরিবেশ এবং অবকাঠামো বৃদ্ধিতে সরকার বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজসমূহে কোথাও দ্বিতল ভবন কোথাও চারতল বিশিষ্ট নয়ন ভোলানো সুদৃশ্যধারী বিল্ডিং নির্মাণ করেই চলেছেন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পাসের হার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়লেও তার তুলনায় শিক্ষার মান বাড়ছে কম। সরকার বিনামূল্যে বছরের প্রথম ভাগে নতুন বই সরবরাহ করলেও (প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে) প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিংয়ে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। টেনশন বাড়ছে যেমন শিক্ষার্থীদের তেমনি টেনশন বাড়ছে অভিভাবকদেরও। স্কুলের পড়ালেখার মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগের কারণে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং শিক্ষায় তাই দৌড়ঝাঁপ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষা খাত নিয়ে সার্বিক পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই বেহালদশা বলে অভিযোগ সচেতন ও শিক্ষিত অভিভাবক মহলের। বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৮ : লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশন প্রমিজ' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষণ মানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শেষ করা পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কুল সময় হচ্ছে ১১ বছর। কিন্তু বাংলাদেশের শিশুরা ১১ বছরে যা শিখছে। অন্যদেশের শিশুরা মাত্র সাড়ে চার বছরেই তা শিখছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীকে অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনায় একই বিষয় শিখতে সাড়ে চার বছর সময় বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হিসেবে স্কুল ব্যবস্থার দুর্বল মানের কথা বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। স্কুলে নিয়মিত যাতায়াত করা অর্থই শেখা নয়। বাংলাদেশের তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা বিষয়টিও সঠিকভাবে পড়তে পারে না। আর পঞ্চম শ্রেণির মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সঠিকভাবে গণিত বোঝে, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশই গণিত বোঝে না। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষার এ অবস্থার জন্য যেসব কারণ তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো_

প্রাক-শৈশবে শিশুদের ঠিকমতো উন্নয়ন হচ্ছে না, দুর্বল শিক্ষাদান পদ্ধতি বিদ্যালয় পরিচালনা ব্যবস্থায় দুর্বলতা এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় সামগ্রিক ব্যয় কম। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বলা হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে যে বাজেটের ১ শতাংশও গবেষণায় ব্যয় করা হয় না, যা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংক যা বলেছে তা সম্পূর্ণ ঠিক না হলেও আংশিক সত্য। আমাদের শিক্ষার্থীদের ১১ বছরের স্কুল জীবনে যা অর্জন হচ্ছে বা হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। বলা বাহুল্য বেসরকারি স্কুল-কলেজের ইতিপূর্বে বেসরকারি কমিটির মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য ও রাজনীতির আদলে যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছে তার অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকাই অযোগ্য...। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পদ্ধতিও রয়েছে ম্যানেজিং কমিটির হাতে। সেখানেও অর্থ বাণিজ্য ও দলীয়করণ পদ্ধতি রয়েছে যেটি যোগ্য, দক্ষ শিক্ষক প্রাপ্তির অন্তরায়।

প্রায় প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই যে হালচিত্র (মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়) এর সুদূর প্রসারি প্রভাব শুধু যে শিক্ষকদের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানসহ আচার, আচরণ সৃজনশীল নয়, এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষকদের পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রেও। যে কারণে এ বছর যশোর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার খাতা দেখায় ভুল করা ১৫ জন পরীক্ষকের তালিকা করা হয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তাদের শুধু শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। শুধু প্রাথমিক সমাপনী শিক্ষায়ই নয় গত বছর ২০১৮ এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরক্ষণ শেষে দেখা গেছে হাজার ঊর্ধ্ব অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ ও পেয়েছে।

এ বছর এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রেও কতটুকু মূল্যায়ন সঠিকভাবে করা হয়েছে সেটিও বলা মুশকিল। যতদূর জানতে পেরেছি খাতা পুনঃনিরক্ষণের ভয়ে এবং দুর্নাম এড়াতে প্রধান পরীক্ষকগণ উদারনীতি অবলম্বনপূর্বক খাতা দেখার পরামর্শ দিয়েছেন পরীক্ষকদের। উদারনীতি বলতে ২৫/২৬ পেলে ৩৩ করণ। ৭২/৭৫ পেলে ৮০ নম্বর দিতে পরামর্শ রেখেছেন কোনো কোনো প্রধান পরীক্ষক সাধারণ পরীক্ষকদের প্রতি।

শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষা দান, মানসম্মত শিক্ষা দান পদ্ধতি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই অবহেলিত। প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষার একাধিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সহশিক্ষা বলতে_

বার্ষিক, মাসিক, সাপ্তাহিক খেলাধুলার চর্চা নেই, নেই ম্যানুয়াল কার্যক্রমের কোনো রুটিন। নেই বার্ষিক ম্যাগাজিন, নেই তর্ক-বিতর্ক বা ডিবেটিং ক্লাস বা শিক্ষার প্রতিযোগিতা, নেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা, নেই ধর্মীয় চর্চায় নীতি শিক্ষার কোনো পৃথক ক্লাস। অর্থাৎ সবমিলিয়ে বলা চলে আজকাল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে তার মধ্যে শুধুমাত্র 'মুখস্থ' বিদ্যাই ভর করেছে শিক্ষার্থীদের দেহ মনে। যে কারণে যে পরিমাণ বিদ্যা অর্জনের প্রয়োজন ছিল শিক্ষার্থীদের তার অর্ধ পরিমাণ শিক্ষা অজানাই থেকে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভের জন্য প্রয়োজন তাই থিউরিটিক্যাল জ্ঞান আহরণের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন। আর শিক্ষকদের শিক্ষাদান জ্ঞান প্রাণবন্ত করতে প্রতিভাবান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দান, বিদ্যালয়ে যোগ্য, দক্ষ প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ নিয়োগ দান খুবই জরুরি। কারণ প্রতিষ্ঠান প্রধান যোগ্য, দায়িত্বশীল, সৎ, সৃজনশীল না হলে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মান বাড়ে না। এমনকি শিক্ষকরাও দায়িত্বশীল হন না। সম্ভবত এ কারণেই বলা হয়ে থাকে_'যেমন প্রধান শিক্ষক তেমন স্কুল'। উল্লেখ্য, পূর্বে ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমলেও অফিস আদালত এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে Inspection টা ছিল জোরালো। ত্রুটি পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। আর আজকাল? ঘুষ, মোসাহেবি সীমাহীন গতিতে বেড়ে যাওয়ার কারণে স্কুল, কলেজে, অডিট, Inspection থাকলেও তার শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা (ত্রুটির জন্য) চোখে পড়ে কৈ?

Teacher শব্দের অক্ষরিক অর্থের শিক্ষক আজকাল খুঁজে পাওয়া দায়। যে কারণে শিক্ষার বেহালদশা কাটিয়ে ওঠাও দায়। ঞবধপযবৎ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো-

T-Truthfulness-সত্যবাদিতা।

E-Education-শিক্ষা-ভালো শিক্ষা থাকতে হবে।

A-Ability-সক্ষমতা থাকতে হবে।

C-Character-চরিত্র। চরিত্র ভালো হতে হবে।

H-health-স্বাস্থ্যবান হতে হবে।

E-Enthusing-ঐশিক প্রত্যাদেশ, অনুরাগ উৎসাহ থাকতে হবে।

R-Religion-ধর্মপ্রাণ বা ধর্মীয় অনুভূতি থাকতে হবে।

অতএব, স্কুলের ভালো রেজাল্ট সুন্দর কার্যক্রম, নির্ভুল খাতা দেখা। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রয়োজন যেমন দক্ষ গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষকের তেমনি প্রয়োজন দক্ষ মানসম্পন্ন গাইডেন্সেরও। গাইডেন্স বলতে প্রশাসনিক Inspection টাও স্বচ্ছ হওয়াটা জরুরি। প্রয়োজন শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক সচ্ছলতা পূরণে সরকারের উদার দৃষ্টিভঙ্গির। শিক্ষায় সরকারি-বেসরকরি বৈষম্য দূরীকরণটিও জরুরি। কথায় আছে 'এক হাতে তালি বাজে না' তাই শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে সরকার বাহাদুর, প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে একটির অভাবে অন্যটি অচল।

আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৪
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২২৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.