নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট তারপরও দুদক বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা পায়নি
৪ বছরেও দেয়া হয়নি চাজশীট বাচ্চুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি কোনো মামলায়
স্টাফ রিপোর্টার
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করলেও বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে এখনও কোনো অভিযোগের হদিস পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান থাকাকালেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। কিন্তু বেসিক ব্যাংক অর্থ কলেঙ্কারিতে ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাটের পর ৫৬টি মামলার কোনোটিতেই নেই বাচ্চুর নাম। এমনকি বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যানের জড়িত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে। এদিকে মামলা করার পর দীর্ঘ ৪ বছর পার হয়ে গেলেও বেসিক ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারিতে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ার কারণে চার্জশীট দেয়া যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

চার বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির বিচার প্রক্রিয়া। বিভিন্ন মহলে তর্ক-বিতর্ক চললেও শিগগিরই যে তা আলোর মুখ দেখছে না সে বিষয়টিও স্পষ্ট। তবে ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ কমিশন। দুদক সচিব বলেন, আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করছে। এর দায়-দায়িত্ব কমিশন বা চেয়ারম্যানের ওপর বর্তায় না। ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। ২০১৪ সালে দুদকে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে নিয়ম ভেঙে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও রহস্যজনক কারণে ৫৬টি মামলার কোনোটিতেই নাম নেই আব্দুল হাই বাচ্চুর।

এ বিষয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অপরাধ করলে তার সাজা হবে এটাই কাম্য। কোনো অলৌকিক কারণে

তো ব্যাংকটি বসে যায়নি। আমরা চাই দ্রুততম সময়ে দুদক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, দুদকের সবাই সাধু, এটা বলা যাবে না।

এদিকে বাচ্চুর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে থাকা 'ইডেন ফিশারিজ লিমিটেড' কোম্পানিটির ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে খোলা ওই কোম্পানির অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। অথচ তারপরও এখনো বাচ্চুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি দুদকের।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর খোলা কোম্পানি ইডেন ফিশারিজ লিমিটেড। এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছিলেন শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু নিজে। এছাড়াও ছিলেন স্ত্রী শিরিন আক্তার, ছেলে শেখ সাবিদ হাই অনিক এবং মেয়ে শেখ রাফা হাই। অথচ ইডেন ফিশারিজের রেজিস্ট্রেশনে যে ঠিকানা দেয়া হয়, সেখানে গিয়ে তার কোনো হদিস মেলেনি। বাড়ির মালিক জানান, এ ধরনের কোনো কোম্পানি তার বাসায় ছিল না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইডেন ফিশারিজের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১১ মাসেই জমা হয় ১৩ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ২ মে ১০টি চেকে ৫০ লাখ টাকা করে ৫ কোটি টাকা তোলা হয়। ৫ মে আরো ১ কোটি টাকা তোলা হয় আরো ২টি চেকে। ১৬ মে ৪ কোটি টাকা তোলা হয়। আবার ১৯ মে ৫ কোটি টাকা জমা হয়। এভাবে ২০১২ ও ২০১৩ সালে ইডেন ফিশারিজ অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু দুদক বলছে, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তাকে এখনো কোনো মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তা এড়িয়ে যান দুদক সচিব।

এদিকে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর ছাড় পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের ব্যর্থতা দেখছেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। দাবি জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগেরও। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদক সচিব জানান, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ অর্থ ছাড়ের পর কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে তার হদিস পাচ্ছে না দুদক। তিনি বলেন, টাকা তুলে ব্যাংকে টাকা রাখলে উৎসটা পাওয়া যেত। দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবির প্রশ্নে তিনি জানান, সাবেক কমিশনের সময় মামলাটি হয়েছে। তাই এই কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের প্রশ্ন অমূলক। এ সময় ৪ বছর ধরে চলা বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলা হলেও তা আসলে কতদিনে চার্জশীটের আলো দেখবে তার কোনো সদুত্তর ছিলো না সচিবের কাছেও।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার পর ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত (৪ বছর ৩ মাসে) ব্যাংকটি ৬ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়, যার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকাই নিয়ম ভেঙে দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে ঋণ বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ার পর প্রথমে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়। ২০১৪ সালের ২৯ মে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ৪ জুলাই অর্থমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে পদত্যাগপত্র দেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। পরে বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৫ সালে সর্বমোট ৫৬টি মামলা করে দুদক। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৯৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.