নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১
জনতার মত
প্রসঙ্গ পেঁয়াজ : কৃষকের দেশে কৃষিপণ্য আমদানি
আর কে চৌধুরী
অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোসহ অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আটঘাট বেঁধে একেবারে মাঠে নেমে পড়েছেন পেঁয়াজের দেশীয় আড়তদার, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। একে রীতিমতো বস্ন্যাকমেল তথা জনসাধারণকে প্রায় জিম্মি করে ব্যবসা করা ছাড়া আর কি বলা যায়? অথচ প্রায় প্রতিদিনই দেশে ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত দিয়ে স্থল ও নৌপথে দেশে ঢুকছে শত শত টন পেঁয়াজ। এমনকি মিসর থেকেও পেঁয়াজ আসার খবর আছে। পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ মজুদও সন্তোষজনক।

সরকার নিজেই বলেছে, দেশে প্রায় তিন লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী ৫০-৫৫ দিন চলার কথা। অথচ পেঁয়াজের দাম একলাফে বেড়ে ৮০ থেকে রাতারাতি হয়েছে ১৩০ টাকা প্রতি কেজি। এমতাবস্থায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিরূপণসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দেশেই বাড়াতে হবে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ পেঁয়াজের চাষাবাদ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রমসহ এগিয়ে আসতে পারে।

দেশে প্রতি মাসে পেঁয়াজের গড় চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার টন। শীত মৌসুমে চাহিদা কিছু বেশি থাকে। রমজান ও কোরবানিতে পেঁয়াজের চাহিদা সর্বোচ্চ বেড়ে দাঁড়ায় আরও দেড়-দুই লাখ টন। এর ৬০ শতাংশ মেটানো যায় স্থানীয় উৎপাদন থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো হয় প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করে। দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা কম-বেশি ২৪ লাখ টন। উৎপন্ন হয় ১৮ লাখ টন। অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে হয় প্রধানত ভারত এবং আংশিক মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। তবে বাস্তবতা হলো, ব্যবসায়ী মহল যদি আন্তরিক হন এবং সদিচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে আপাতত অভ্যন্তরীণ মজুদ থেকে পেঁয়াজ ছেড়ে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। কেননা, এই পেঁয়াজ তারা আমদানি করেছেন আগের দামে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেই সততা ও নীতি-নৈতিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

এদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। কৃষকের দেশে কৃষিপণ্য কেন আমদানি করতে হবে সেই ভাবনা আগে ভাবা উচিত। কিন্তু আমরা তা না ভেবে সঙ্কট মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় বড় বুলি আওড়াই। কিন্তু আসল কাজ কিছুই হয় না।

চলতি বছর বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে পেঁয়াজের উৎপাদন বড় ধাক্কা খায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিলি্লর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ রুপিতে, যা এক মাস আগেও ২০ থেকে ৩০ রুপি ছিল। ভারত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রফতানি করেছে, যার একটি বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশে। রফতানিকারক দেশ ভারতেই যদি পেঁয়াজ সঙ্কট থাকে তাহলে রফতারি করবে কীভাবে? এবার নিজেদের বাজারে ঊর্ধ্ব মূল্যের কারণে রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এর ফলে আমাদের দেশে দিনাজপুরের হিলি ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। আর সঙ্গে সঙ্গে দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

সরকারি এক দায়িত্বশীলের তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজভর্তি দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। মিসর ও তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আসার পথে। দেশি পেঁয়াজের মজুদও সন্তোষজনক। তাই যদি হয়, তাহলে তারপরও কেন পেঁয়াজ সঙ্কট? তাহলে কি এই সঙ্কট মুনাফাখোর মজুদদারদের তৈরি করা? চট্টগ্রামের কিছু ব্যবসায়ীর আচরণ অন্তত তাই প্রমাণ করে। তাহলে চলমান পেঁয়াজ সঙ্কট মোকাবিলা করতে এখনই দেশজুড়ে মজুদদারদের গোপন গোডাউনগুলোয় সরকারি বাহিনীর অভিযান চালানো দরকার। উদ্ধার করা দরকার মজুদ করা পেঁয়াজ। আর পেঁয়াজের ঊর্ধ্ব মূল্য সৃষ্টি করার জন্য সেই দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।

মাসখানেক পরই দেশের বাজারে আসবে শীতকালীন পেঁয়াজ। এই সময়টায় সঙ্কট মোকাবিলা করতে প্রয়োজনে আমদানি করা পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করতে হবে। পাশাপাশি আগামী দিনের প্রস্তুতি হিসেবে ভাবতে হবে দেশেই বর্ধিত উৎপাদনের কথা। তাহলেই আসতে পারে পেঁয়াজ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি রাঁধুনিকে বলে দিয়েছি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করতে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমিও বলছি আসুন আমরা কিছুদিনের জন্য পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করি। তাহলে দেখবেন সিন্ডিকেট চক্র পেঁয়াজ আপনাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিতে বাধ্য হবে।

আর কে চৌধুরী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮২২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.