নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ২৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ মহররম ১৪৩৯
অবশেষে বিদেশ যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি
প্রজ্ঞাপন জারি সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ তিনি স্বেচ্ছায় ছুটি বাড়িয়েছেন : আইনমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অবশেষে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। তার বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র ও ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় এই প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ নিয়ে 'রাজনীতি' না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা স্বেচ্ছায় ছুটি বাড়িয়েছেন। তার চাওয়া অনুযায়ী সরকার সবই করেছে। ছুটি নেয়া, তা বাড়ানো এবং বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির চাওয়া অনুযায়ী সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এদিকে বিএনপি বলে আসছে, প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করার পর এখন চাপ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার চরিত্রে কলঙ্কের কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। দলটির নেতারা বলছেন, প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আড়াই কোটি ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিদারুণভাবে উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। তার চরিত্রে কলঙ্কের কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস চলেছে ও চলছে। এমনকি তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি পর্যন্তও দেয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

তারা বলেন, প্রধান বিচারপতির একটি রায়কে পুঁজি করে সরকারের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহল তার ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে নিয়ে এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, উন্নততর পদায়ন ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করার সর্বনাশা প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।

এদিকে সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছুটি বাড়িয়ে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করবেন প্রধান বিচারপতি। ছুটি শেষে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, 'গণপ্রজাততন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহা-এর বর্ধিত ছুটিতে বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে আগামী ২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ হতে ১০ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত, অথবা মহোদয় পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক মাননীয় বিচারপতি জনাব মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।'

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি সিনহা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে আগামী ১০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রজ্ঞাপনে ছুটি বাড়ানো বা অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করা হয়েছে কিনা-সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল বলেন, এটাকে বলতে হবে যে উনি যেটা চেয়েছেন চিঠিতে, যেটা আছে, সেটাই কিন্তু আমাদের সামারি বলেন, প্রজ্ঞাপন বলেন, সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিঠিতে উনার ব্যক্তিগত সহকারী যেটা লিখেছেন সেটা হচ্ছে উনি বিদেশ যেতে চান।

প্রধান বিচারপতি ৪টি দেশে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা এবং ইউনাইটেড কিংডম এই ৪টি দেশে যেতে চান। আজ ১৩ অক্টোবর দেশ ত্যাগ করতে চান এবং ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আগে ছুটি নিয়েছিলেন ১ নভেম্বর পর্যন্ত, সেই ছুটিটা এঙ্টেন্ড করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করেছেন। সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হয়, সেই নিয়োগের কারণে অবহিত করেছেন।

এর আগে, অসুস্থতার জন্য ১ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে থাকবেন বলে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এস কে সিনহা। তার চিঠির প্রেক্ষিতে সিনিয়র বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করে লেখা চিঠিতে গত বুধবার সই করেন রাষ্ট্রপ্রতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশের পর থেকে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। জাতীয় সংসদেও তার সমালোচনা করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে অসুস্থ মেয়েকে দেখতে কানাডায় যান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেখান থেকে তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ১৮ সেপ্টেম্বর জাপানে যান।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কানাডা ও জাপান সফর শেষে দেশে ফেরেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সাপ্তাহিক ছুটি, বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ছুটি এবং কোর্টের অবকাশের কারণে দীর্ঘ ৩৯দিন পর ২ অক্টোবর থেকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে আবারও ১ মাসের ছুটির আবেদন করেন তিনি। পরে তা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৫ দিনের অবকাশ শেষে ৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট খোলার দিনই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ১ মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এরপর গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে তার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি চিঠি দিয়ে অবহিত করেন তিনি। চিঠিতে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ায় যেতে ৫ বছরের ভিসার জন্য দূতাবাসে আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি। তাদের ৩ বছরের ভিসা দেয় অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৬৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.