নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ২৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ মহররম ১৪৩৯
জনতার মত
পণ্যমূল্য বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণ চাই
মাহমুদুল হক আনসারী
ভোগ্যপণ্য মূল্য বৃদ্ধি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভোগ্যপণ্যের মূল্য জনগণের আয় ইনকামের সাথে সামাঞ্জস্য নেই। এমন কোনো ভোগ্যপণ্য নেই যার দাম বৃদ্ধি হচ্ছে না। মোটা চাল, চিকন চাল, সিদ্ধ ও আতপ চাল, পিঁয়াজ, আদা রসুন, তেল মরিচ, সবজি পণ্য সবকিছুতেই সাধারণ মানুষের ক্রয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাজার ক্রয় সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। চাল, ডাল ভোগ্যপণ্যের মজুদ প্রচুর পরিমাণ লক্ষ্যণীয়। চাল গোডাউনে প্রচুর মজুদ আছে। বিদেশ হতে লাখ লাখ টন চাল আমদানি হচ্ছে। আমদানির ওপর সরকারি ট্যাঙ্ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা ও রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে ভোগ্যপণ্য মূল্য বৃদ্ধি করে জন ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এ সব ব্যবসায়ী ব্যবসার নামে অবৈধ কারবার ও রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের সাথে চরমভাবে দৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করছে বলে জনগণ মনে করছে। দেশের মানুষ ও রাষ্ট্র যখন বন্যার্ত লাখ লাখ মানুষ ও উদ্বাস্ত রোহিঙ্গাদের পাশে মানবিক সহমর্মীতার হাত বাড়াচ্ছে ঠিক এমন সময়ে ব্যবসার নামে কতিপয় ব্যবসায়ী ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের সাথে চরমভাবে ধৃষ্টতা ও সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখার মতো যে অপরাধ করছে তা কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। সঠিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া চালসহ অপরাপর ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে। এ মূল্যবৃদ্ধির সাথে পণ্যের বাজার সংকট নেই, বাজারে পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত পরিমাণ। আমদানিতে কোনো সমস্যা হয় নাই। রাষ্ট্রীয় নীতিমালা সব ঠিকটাক আছে। শুধুমাত্র ব্যবসার নামে যারা রাতারাতি সিন্ডিকেট করে হাজার কোটি টাকার মালিক হতে চায় তাদের ষড়যন্ত্রে বাজার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি। বেশ কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী ও ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীর সাথে কলোবাজারি ও রাজনীতি সম্পৃক্ত বলে জনা যায়। বাস্তবে বাজারে কোনো পণ্যের সংকট নেই। চাল, আটা, মরিচ, মসল্লা ও মাছ মাংসের কোনো সংকট দেখা যচ্ছে না। এটা কালোবাজারির অতি মোনাফালোভীদের কারসাজি বলছে সচেতন জনগণ। দেশে একটা বন্যা, প্রাকৃতিক সমস্যা, দেখা দিলেই ঐ শ্রেণির ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তারা তাকিয়ে থাকে, কখন দেশে একটা প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক সংকট দেখা দেবে, ঠিক এ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের পকেট কাটার মানসিকতায় নেমে পড়ে তারা। আসলে তাদের পরিচয় ব্যবসায়ী না। তারা ব্যবসার নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করে থাকে। ব্যবসার নূ্যনতম চরিত্র আচার ব্যবহার তাদের মাঝে নেই। তারা শুধু চায় মানুষের পকেট থেকে লাভের নামে টাকাগুলো তাদের হতে নিয়ে নেয়া। এসব অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ বিশেষ সময়ে ঈদ, পূজা, বড়দিনগুলোতে, কোনো কোনো দিন ও সময়ে তদারকি ও নজরদারি থাকলেও বছরের ৩০০ দিন কোনো নজরদারি তদারকি করা হয় না। ভ্রাম্যমান আদালত ও ম্যাজিস্ট্র্রেট দিয়ে নিয়মিত তদারকি থাকলে কখনও কখনও পণ্যের ভেজাল ও মূল্য বৃদ্ধির তৎপরতা কম দেখা যায়। তাদের অবৈধ মুনাফা ও ভেজাল তখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে। জনগণের স্বার্থে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে নজরদারি ও ভ্রাম্যমান আদালতের ভূমিকা চায় জনগণ। ভ্রাম্যমান আদালতের তদারকি শহর ও গ্রাম সবখানেই রাখা হোক। ভোগ্যপণ্যের মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের সাথে ওষুধপত্র দেখার মতো চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। ওষুধ জীবন মরণের একটা বিষয়। এ ওষুধের মধ্যে মান ও মূল্য ব্যাপকভাবে তফাৎ দেখা যায়। ভোগ্যপণ্যকে অবশ্যই জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। মানুষের আয়ের ক্ষমতার মধ্যে ব্যয় রাখতে হবে। জনগণের অন্নের সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ক্ষমতায় যারা থাকবেন তাদের দায়িত্ব জনগণের অন্নের ন্যায্য অধিকার পূরণ ও বাস্তবায়ন করা। এসব বিষয় মাথায় রেখে প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়ন ফোরাম নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও ভাবের আদান প্রদান থাকতে হবে। ক্রেতা বিক্রেতা, প্রশাসন সকলকেই রাষ্ট্রের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে। সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিকে নিয়ে রাষ্ট্র ও দেশ চালাতে হবে। প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ীদের একটা সু-সম্পর্ক থাকতে হবে। জরিমানা আর মামলা দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাদেরকে জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রের চিন্তা চেতনা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সজাগ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালমুক্ত পণ্য চায় জনগণ। জনগণের এ মৌলিক অধিকার রক্ষায় সকল মহলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন সুন্দর স্বাস্থ্য সম্মত মেধাবী জাতি গঠনে অতি মুনাফা, ভেজাল ও পণ্যমাণ নিয়ন্ত্রণে সকলে এগিয়ে আসি।

মাহমুদুল হক আনসারী : কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৯৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.