নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১ সফর ১৪৪০
গোলটেবিল বৈঠকে এমপি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা
জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিত্বশীল কমিশন গঠনের সুপারিশ
স্টাফ রিপোর্টার
জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণ-প্রতিনিধিত্বশীল কমিশনর গঠনের সুপারিশ করেছেন সংসদ সদস্য ও সরকার-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। গতকাল বৃহস্পতিবার 'জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের কাঠামোগত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ (এনসিসি'বি) আয়োজিত ঐ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট মো. ফজলে রাবি্ব মিয়া এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম মাহজাবিন মোর্শেদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য এডভোকেট টিপু সুলতান। মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন এনসিসিবি'র কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয়। আলোচনায় অংশ নেন অ্যাকশন এইড-এর তানজীর হোসেন, সিপিআরডি'র মো. শামছুদ্দোহা, সাংবাদিক কাওসার রহমান ও নিখিল ভদ্র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রশিদুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)'র মিহির বিশ্বাস প্রমুখ।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত সমস্যা প্রকট হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের নামে যে হারে কার্বন নিঃসরণ করছে তার বিরূপ প্রভাব পরিবেশের উপর পরছে এবং ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যে আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি উন্নত দেশগুলো দিয়েছে তা পূরণে তারা কার্যকারী ভূমিকা রাখছে না। এবিষয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকবিলায় করণীয় বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত জোরালো বক্তব্য তুলে ধরছেন। সর্বশেষ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও তিনি এবিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র সরকার প্রধান যিনি জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় অলাদা বরাদ্দ দিয়ে ফান্ড তৈরি করেছেন। এর আগে বাংলাদেশকে বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হতো। সরকার যে অর্থ বরাদ্দ করছেন সেটি সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করার জন্য একটি কার্যকারী অথরিটি থাকা দরকার। এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তাহলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

সাবেক প্রধান হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ফান্ডের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলতে পারি; সেই সৎসাহস আমাদের রয়েছে। কারণ আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। আর প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করেন বলে সংসদ এবং সংসদের বাইরে সবাই দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন। তবে, এই তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন কিংবা কমিশন গঠন যেটাই করা হোক না কেন, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত তহবিল ব্যবহারে সমন্বয় নেই। সমন্বয়হীনতার কারণে সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে এর অর্থ পৌঁছাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও প্রকল্প পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনেকেই প্রকল্পে বরাদ্দ নিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকি মোকাবিলার স্বার্থে প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য এডভোকেট টিপু সুলতান বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও জনগণের জন্য গৃহীত প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। জলবায়ু তহবিলের প্রকল্প বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত দেয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রকল্প গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এতে জলবায়ু তহবিলের অর্থের অপচয় ঘটছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম মাহজাবিন মোর্শেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আগামীর প্রজন্মকে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। কিন্তু স্কুল-কলেজের জন্য এ সংক্রান্ত সিলেবাস এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞানের বিস্তার ঘটনানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে জলবায়ুর ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

মূল বক্তব্যে মিজানুর রহমান বিজয় বলেন, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে সরকার এই ফান্ডের আওতায় বিসিসিএসপির অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। চলতি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫৬০টি সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন করেছেন। কিন্তু এই তহবিলের প্রকল্প, নির্বাচন, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১১
ফজর৫:১০
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪৭০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.