নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১ সফর ১৪৪০
অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা
স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব
২৬ বছরে বায়ুদূষণে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬৩ শতাংশ
শাহীন আলম
ইটভাটার দৌরাত্ম্য কমছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার পাশাপাশি সারা দেশেই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা। বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। আইন থাকার পরেও যেন কোনো কাজেই আসছে না। দিন দিন বেড়েই চলেছে পরিবেশ দূষণ। আর পরিবেশ দূষণের কারণে ২৬ বছরে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।

অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটার মালিকরা মানছেন না কোনো নিয়মকানুন। বন উজাড়, কৃষির ক্ষতি ও দেশের ভূ-প্রকৃতি ধ্বংস করে মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষণ, ভূমির উর্বরতা হরাস

ও বন উজাড় হচ্ছে। কৃষি জমি দিন দিন কমছে। ইটভাটাতে মাটির জোগান দিতে ফসলের জমি অকেজো গর্তে পরিণত হচ্ছে।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের তথ্য মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৭ লাখ একর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, ১৯৮৪ সালে দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২ লাখ ৩৮ হাজার একর। ১৯৯৭ সালে এসে কমে এসে তা ১ কোটি ৭৪ লাখ ৪৯ হাজার একরে এবং সর্বোপরি ২০১২ সালে বাংলাদেশের আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৪ হাজার একরে। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ হাজার একরের কাছাকাছি। তবে শুধু ইটভাটার কারণে এই হারে কৃষি জমি কমেনি। এর সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য কারণও।

রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন রাস্তার দু'পাশে দেখা যায় যত্রতত্র ইটভাটা। এসব ইটের ভাটায় কয়লার পাশাপাশি কাঠও পোড়ানো হয়। এসব ইটভাটার চিমনির উচ্চতা কোনোটিরই ৬০ ফুটের বেশি নয়। অথচ চিমনি থাকতে হবে ১২০ ফুট লম্বা।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইটভাটা মাটি, পানি এবং জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় যে কার্বন মনোঅঙ্াইড থাকে তা বাতাসকে যেমন দূষিত করে, তেমনি গাছপালা এবং ফসলের ক্ষতি করে। ইটভাটার বর্জ্যে যে সালফার থাকে তা নদী বা জলাশয়কে দূষিত করে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ তে বলা হয়েছে, ইটভাটায় ফসলি জমির উপরের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহার করলে প্রথমবারের জন্য দুই বছরের কারাদ- ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয় বার একই অপরাধের জন্য ভাটা কর্তৃপক্ষকে ২ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটা স্থাপন করলে এক বছরের কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।

আইনে জনবসতি, সংরক্ষিত এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, বনভূমি, জলাভূমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করলে ৩ বছরের কারাদ- এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে এক বছরে (২০১৩ সাল) বাংলাদেশে এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। ১৯৯০ সালে বায়ু দূষণে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার। সেই হিসাবে ২৬ বছরে বায়ু দূষণে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিঙ্ অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ঐ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে বায়ুতে সবচেয়ে ক্ষতিকর সাসপেন্ডেন্ট পার্টিকুলেট ম্যাটার বা ভাসমান বস্তুকণার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৮ জনের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষেরই মৃত্যু হয়েছে ভাসমান বস্তুকণার কারণে। শিল্প-কারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং ইটভাটা, চিনিকল, সার-কারখানা, পাটকল, বস্ত্র ও পোশাক কারখানা থেকেও অবিরাম বায়ু দূষণ হচ্ছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১১
ফজর৫:১০
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪৪০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.