নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১ সফর ১৪৪০
হাসপাতালেই যেন ময়নার শেষ ঠিকানা
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েদীর্ঘদিন ধরে ভর্তি আছেন ময়না খাতুন (৩৬) নামে দুই সন্তানের এক জননী। প্রায় দুবছর ধরে তিনি এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও বর্তমানে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরে খসে খসে পড়ছে। তা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এ কারণে তার ধারেকাছেও কেউ ভিড়তে চায় না। স্বজনরাও খোঁজখবর নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ প্রতিদিনই কমপক্ষে এক হাজার টাকার ওষুধ লাগে তার। স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে আবাসিক

চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) আর্থিক সহযোগিতায় কোনো রকমে চলছে তাঁর চিকিৎসা। অর্থ সংকটে উন্নত চিকিৎসাও নিতে পারছেন ময়না খাতুন।

জানা যায়, দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি আছেন। ছয় মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অনেক অবনতি হয়। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ থেকে তার স্বজনদের ডেকে দ্রুত তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু টাকার অভাবে রংপুরে না নিয়ে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। দুই দিনেও জ্ঞান না ফেরায় স্বজনরা ধরে নেয় তিনি মারা গেছেন। তাকে মৃত ভেবে জানাজা শেষে যখন কবরে নামানো হয় তখন তিনি নড়ে ওঠেন। পরে স্বজনরা আবারও তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ময়না খাতুন জানান, চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন গয়নার চরে তাঁদের বাড়ি। বাবা আকবর আলী মারা গেছেন অনেক আগেই। স্বামী তারেক রহমান আট বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে তার। মেয়ের বিয়ে হয়েছে আর একমাত্র ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ব্রহ্মপুত্রে বাড়িঘর হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভাই আব্দুল গফুরের কাছে থাকছিলেন।

ময়না খাতুন আরো জানান, 'জমাজমি বলতে কিছুই নেই। কোনো টাকা-পয়সাও নেই। এযাবৎ চিকিৎসার খরচ দিয়ে আমার মেয়ের জামাইও এখন নিঃস্ব। ভাই আব্দুল গফুর কামলা দিয়া খায়। তার ওপর আমার ছেলেটার খাবার খরচ দেয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না। এত কষ্ট আর সহ্য হয় না। আল্লাহ আমাকে নিয়া গেলেই বাঁচি। দুর্গন্ধে কেউ কাছে আসবার চায় না। দুই বছর ধরে হাসপাতালই আমার ঘর-সংসার।'

স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তারী বেগম জানান, 'ময়না খাতুনের রোগকে কুশিন সিনড্রোম বলা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েএ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। তবে রমেক কিংবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে উঠবে রোগী। আমরা বারবার রোগীকে রংপুর কিংবা ঢাকায় নিতে বলছি। কিন্তু রোগীর স্বজনরা এতই গরিব যে সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে স্বজনরা রোগীর কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা কিছু টাকা তুলে ওষুধ কিনে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ময়না খাতুন এখানে আছে। এখানে থাকলে সম্পূণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব নয়।'

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ৭
ফজর৩:৫০
যোহর১২:০৩
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১৬সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০০৯৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.