নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১ সফর ১৪৪০
মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশে বন্ড সুবিধায় নিয়মিত কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে
এফএনএস
উৎপাদনে না থাকা তালাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান থেকেই পোশাক খাতের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মিত শূন্য শুল্কে কাঁচামাল আমদানি। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৩ প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা এমন ৭০ কনটেইনার পণ্যের চালান শনাক্ত করেছে। ওসব কনটেইনার কাঁচামাল আমদানিতে বেশকিছু জালিয়াতিও শনাক্ত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। সেগুলো হচ্ছে- ব্যাংকের ভুয়া প্রত্যয়নপত্রের ব্যবহার, রফতানি কার্যক্রমে সক্রিয় না থাকা, প্রকৃত আমদানিকারকের পরিচয় গোপন, পণ্য উৎপাদন-সংক্রান্ত কোনো মেশিনারিজ না থাকা এবং ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) ভিত্তিতে আমদানির প্রাপ্যতা অতিক্রান্ত হওয়া। সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির বিষয় উল্লেখসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে আমদানি হওয়া এসব চালানের ছাড়করণ কার্যক্রম আটকে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়ে ইতিমধ্যে বেশকিছু চালান বন্দর থেকে খালাস হয়ে গেছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জালিয়াতি শনাক্ত হওয়া ৭০টি চালানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪১টি চালান আমদানি করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বিএন ফ্যাশন (বিডি) লিমিটেড, মিসওয়ার হোসিয়ারি মিলস, আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ও ফ্যাশন ক্রিয়েট অ্যাপারেলস লিমিটেড। জালিয়াতির মাধ্যমে বিএন ফ্যাশন (বিডি) লিমিটেডের আমদানি করা চালানের সংখ্যা ১৭টি। ওসব চালানের নথিতে আমদানিকারকের লিয়েন ব্যাংক দেখানো হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের টঙ্গি শাখাকে। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্ত দল ব্যাংকটির

ওই শাখায় যোগাযোগ করে জানতে পারে ১৭টি চালানের বিষয়ে ব্যাংক থেকে এফওসি প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা হয়নি। পরে তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের ঠিকানায় সরেজমিন পরিদর্শন করলে সেটিও তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। এখন সব চালানই ছাড়করণ কার্যক্রম স্থগিত করে রাখা হয়েছে। এর আগে বিএন ফ্যাশন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি বছর ১৩টি ও গতবছর ২২টি চালানে ফ্যাব্রিকস আমদানি করেছে।

সূত্র জানায়, শূন্য শুল্কে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকা আরেক প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের মিসওয়ার হোসিয়ারি মিলস ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাঁচ লাখ কেজি পণ্য আমদানি করে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই অর্থবছরে কোনো পণ্যই রফতানি করেনি। শুল্ক গোয়েন্দা দল প্রতিষ্ঠানটির নামে আমদানি হওয়া চালানের নথিতে উলি্লখিত লিয়েন ব্যাংক আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ ও নারায়ণগঞ্জ শাখায় যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় ওই ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি কার্যক্রমে কোনো প্রত্যয়নপত্র ইস্যু হয়নি। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত দল জানতে পারে- মিসওয়ার হোসিয়ারি মিলসের উৎপাদন ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া ঢাকার পূর্ব রামপুরা ঠিকানার আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের ১০ কনটেইনার পণ্যের চালানের খালাস কার্যক্রম আটকাতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কারণ প্রতিষ্ঠানটির লিয়েন ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ফরেন এঙ্চেঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে শুল্ক গোয়েন্দাদের জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালের পর থেকে আশিয়ানা গার্মেন্টসের নামে কোনো আমদানি-রফতানি সম্পন্ন হয়নি। ওসব পণ্য চালানের বিপরীতে এফওসি-সংক্রান্ত কোনো প্রত্যয়নপত্রও ইসু্র করা হয়নি। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করেও প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ পায় গোয়েন্দা দল। যদিও তার আগে ২০১৫ সালে ৫৮টি, ২০১৬ সালে ৫৭টি ও গত বছর ২০১৭ সালে ওই প্রতিষ্ঠানটির নামে ১৩টি চালানের পণ্য আমদানি ও খালাস হয়েছিল। তাছাড়া জালিয়াতি শনাক্ত হওয়ায় চট্টগ্রামের ধনিয়ালাপাড়া ঠিকানার ফ্যাশন ক্রিয়েট অ্যাপারেলসের ৪টি চালানের খালাস কার্যক্রম স্থগিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সূত্র আরো জানায়, মিথ্যা তথ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্র্কে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও বিএন ফ্যাশন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফ্যাশন ক্রিয়েট অ্যাপারেলস লিমিটেড সক্রিয় আছে। চট্টগ্রামের ওই কারখানাটি প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে। তাছাড়া জালিয়াতি শনাক্ত হওয়ায় অন্য ৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাজীপুর ঠিকানার জিয়ান গার্মেন্টস এফওসি ভিত্তিতে যে আমদানি করেছে, তা বিগত বছরের রফতানির ৭৭৮ শতাংশ। সাভারের আশুলিয়া ঠিকানার লিলাড ফ্যাশনওয়্যার লিমিটেডের এফওসি ভিত্তিতে আমদানির প্রাপ্যতা অতিক্রান্ত হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী ঠিকানার ক্যাপরি গার্মেন্টস ও একই ঠিকানার ক্যাপরি অ্যাপারেলস লিমিটেডেরও এফওসি ভিত্তিতে আমদানি প্রাপ্যতা অতিক্রান্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী রোড ঠিকানার অ্যাপারেল অপশনসের ৩ কনটেইনার পণ্যের চালানে উলি্লখিত ব্যাংকের এফওসি প্রত্যয়নপত্র ভুয়া এবং প্রতিষ্ঠানটি গতবছর কোনো রফতানি করেনি। ঢাকার খিলক্ষেত ঠিকানার নবাব ফ্যাশন লিমিটেডের ও গাজীপুরের টঙ্গী ঠিকানার সাদ ফ্যাশনওয়্যার লিমিটেডের চালানের কনটেইনারে ইউডিতে গরমিল ও মিথ্যা ঘোষণা রয়েছে। চট্টগ্রামের ডিকে অ্যাপারেলস লিমিটেড ভুয়া এফওসি প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে আমদানি করেছে।

এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতি নিশ্চিত হওয়ার পরও বন্দর থেকে চালান ছেড়ে দেয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে যে পর্যবেক্ষণগুলোর কথা বলা হয়েছে তার একটি হলো, আমদানিকারকের প্রাপ্যতা নেই। পরে এফওসি সম্পর্কিত এনবিআরের দেয়া আদেশ অনুসরণ করে বেশকিছু শর্ত দিয়ে পণ্য ছাড়করণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এনবিআরের আদেশে বলা আছে, প্রাপ্যতা থাকুক আর না থাকুক যদি রফতানি হবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তবে খালাস দিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া বিজিএমইএ, বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে বলা হয়েছে। ওসব শর্ত যেসব আমদানিকারকের পক্ষ থেকে পূরণ করা হয়েছে, সেগুলো বন্দর থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তদন্তে ৭০টি চালানের জালিয়াতি অনিয়ম নিশ্চিত হওয়ার পরও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেশকিছু কনটেইনার বের হয়ে গেছে। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তা অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ওই ধরনের বেশকিছু চালান ছেড়ে দেয়ার জন্য কারা দায়ী তা নিয়েও কাজ করা হবে। এখানে নিশ্চয়ই অশুভ কোনো চক্র কাজ করেছে। সেটা খুঁজে বের করার পর এনবিআরের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৬
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭১৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.