নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১ সফর ১৪৪০
রাজশাহীতে ক্ষমতাসীনদের মাঝেই নির্বাচনী উত্তাপ কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বিএনপি
রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান
চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এ মাসেই ঘোষণা হতে পারে তফসিল। কিন্তু নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন আ'লীগের মাঝেই দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। তারা প্রায় দিন দলীয় সভা করে নৌকার জন্য ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। ব্যতিক্রম ঘটেনি রাজশাহীর তানোরেও। তাদের রয়েছে একাধিক মনোনায়ন প্রত্যাশী। সবাই ফেস্টুন পোস্টার সাঁটিয়ে জানানও দিয়েছেন। দুই উপজেলায় শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের মনোনায়ন প্রত্যাশীদের ফেস্টুন পোস্টারে চেয়ে আছে। উল্টো চিত্র বিএনপিতে তারা মাঠে তো দূরে থাক কোনো ধরনের সভা সমাবেশ পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয় রাতের আঁধারে মামলা না থাকলেও পুলিশ গিয়ে নেতাদের বাড়িতে চালিয়ে যাচ্ছেন তা-ব। একের পর এক গায়েবি মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করতে মরিয়া ক্ষমতাসীনরা। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেই নির্বাচনী উত্তাপ বা আলাপচারিতা। তবে ক্ষমতাসীনদের একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপির একজন প্রার্থী তিনি হলেন ব্যারিস্টার আমিনুল হক। আবার অনেকে মনে করছেন কোনোভাবেই ক্ষমতা ছাড়বে না আ'লীগ। যে কোনো উপায়ে তারা ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া। অবশ্য মাঝে মাঝে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমানের ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে কোনোভাবেই ধোঁয়াশা কাটছে না। তাহলে কি ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেশে এমন নানা প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। জানা গেছে, (তানোর-গোদাগাড়ী) উপজেলা নিয়ে রাজশাহীর-১ আসন। আসনটিতে বিগত সময়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ৯০ দশকের আগে তানোর উপজেলা চরম অবহেলিত ছিল। ছিল না কোনো ধরনের পাকা রাস্তা। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গোদাগাড়ী পৌর সদর এলাকার কৃতী সন্তান ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তিনি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পান সাংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর। দায়িত্ব পেয়েই প্রথমে রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে ব্যারিস্টার আমিনুল পুনরায় নির্বাচিত হলেও সরকার গঠন করেন আ'লীগ। থমকে যায় সকল ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথম বারের মতো বিশিষ্ট শিল্পপতি ওমর ফারুক চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে ব্যারিস্টার আমিনুলের কাছে পরাজিত হন। ফারুক চৌধুরী পরাজিত হলেও ভোটের মাঠ ছাড়েননি তিনি। যার সুফল পান ২০০৮ সালের নির্বাচনে। ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে প্রথম বারের মতো ভোটে আসা ব্যারিস্টার আমিনুলের ভাইকে পরাজিত করে প্রথম বারের মতো ফারুক চৌধুরী সংসদ সদস্য হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করলেও আ'লীগ থেকে তিন জন প্রার্থী মনোনয়ন উত্তোলন করেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে বিনা ভোটে ২য় বারের মতো সংসদ হন ফারুক চৌধুরী। কিন্তু আগামী একাদশ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে থেকে নানা কর্মসূচি পালন করলেও বিএনপির মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ক্ষমতাসীন দল আ'লীগ ছাড়া কোনো দলের মাঝে নেই নির্বাচনী প্রচারণা। কারণ বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে রয়েছে একগাদা মামলা। মামলায় মামলায় এক প্রকার জর্জরিত। আবার কোনো ধরনের সভা সমাবেশ করতে দেয়া হয় না দলটিকে। সভা সমাবেশ করতে না পারলেও গত সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপি জামায়াতের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নামে দুটি নাশকতার মামলা দেয়া হয়। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামেও। যার কারণে বিএনপি জামায়াতের নেতারা চরম আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন। অন্যদিকে ভিন্ন চিত্র ক্ষমতাসীন আ'লীগের মধ্যে। তারা প্রায় দিন বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশ করে ভোট চাচ্ছেন নৌকায়। এমনকি সংসদ সদস্য সরকারি গাড়িতে এসে ভোট চাচ্ছেন নৌকায়। তবে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না নির্বাচনী আমেজ। সাধারণ ভোটার মোস্তফা সাইদুর মশিউরসহ একাধিক ভোটারেরা জানান, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে দিবে না। তাছাড়া দিন ঘনিয়ে আসলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা নেই। অথচ আ'লীগের একাধিক প্রার্থীরা ফেস্টুন পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছেন এলাকা। কিন্তু বিএনপির কোনো অবস্থায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে ২০১৪ সালের মতো আবারো আমরা ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত হবো । আ'লীগ নেতাদের দাবি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। নির্বাচনে পুনরায় ফাঁকা মাঠে গোল দিতে এবং বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে কোনো ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও গত সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে দেয়া হয় দুটি ভৌতিক গায়েবী মামলা। আমরা কোনো ধরনের সভা সমাবেশ করতে না পারলেও ক্ষমতাসীনরা সরকারি প্রটোকল নিয়ে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এখনো কোনো ধরনের নির্বাচনী পরিবেশ নেই। তারা একতরফাভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি নিজেরাই নিজেদের মধ্যে হামলা মামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। অথচ মামলা দেয়া হচ্ছে আমাদের নামে। তারা উন্নয়নের জিকির তুলেও সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে পারছেন না। কারণ তারা ভালোভাবেই বুঝে গেছে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোরাডুবির শেষ থাকবে না। জাতি আজ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এতেই তাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে। তারা যেন এটা নাভাবে যে ২০১৪ সালের মতো ফাঁকা মাঠে গোল দিব। এটা ২০১৮ সাল কোনোভাবেই ফাঁকা মাঠে গোল করতে দেয়া হবে না। আমাদের প্রার্থী একজন তিনি হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মফিজ উদ্দিন বলেন, এখনো নির্বাচনী পরিবেশ রয়েছে একতরফা। একতরফা পরিবেশ থাকার কারণে সাধারণের মাঝে কোনো ধরনের ভোটের আমেজ নেই। আগে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা তার মুক্তি তারপরেই বিএনপি ভাববে নির্বাচনের কথা। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেভাবে সকলকে নিয়ে পালন করা হবে। মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করেন এই নেতা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৪
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪৯৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.