নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২৫ আশ্বিন ১৪২৬, ১০ সফর ১৪৪১
গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
দলীয় পরিচয়ে হত্যাকারীরা কেউ পার পাবে না
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাস্তানদের খুঁজে বের করা হবে
স্টাফ রিপোর্টার
দলীয় পরিচয়ে আবরারের হত্যাকারীরা কেউ পার পাবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে, কে ছাত্রলীগ বা কে কোন দল তা আমার দেখার বিষয় না, আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন যে জনগণের টাকায় চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে কারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা বের করার জন্য নির্দেশ দেবেন। গতকাল বুধবার গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান ও ভারতের দিলি্ল সফরের অর্জন ও সফলতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা 'পিটিয়ে অমানবিকভাবে' হত্যা করেছে, তাদের কঠিনতম শাস্তি হবে। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল, কী করে না করে, আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই। আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি। দীর্ঘ সাড়ে ৬ ঘণ্টা আবরারের ওপর কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, ছাত্রলীগ কর্মীরা মাতাল অবস্থায় কীভাবে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পিটিয়েছে, সেই বিবরণ ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নৃসংসতা কেন? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যত রকমের উচ্চ শাস্তি আছে সেটা দেয়া হবে। কোনো সন্দেহ নেই। দল-টল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই। আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, তা কখনোই মেনে নেবেন না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি সাথে সাথে ছাত্রলীগকে ডেকে বলেছেন, জড়িতদের যেন বহিষ্কার করা হয়। এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। অন্যায় করেছে, সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে। কারও দাবি-টাবির অপেক্ষায় থাকি না। আগেই আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। গ্রেপ্তার হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে এই ঘটনা খুব সকালবেলা জানার সাথে সাথে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সাথে সাথে এটাও বলেছিলাম যে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে। যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলে। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, 'আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না'। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম হয়, সে ব্যবস্থা করা হল। ছাত্ররা নামার আগেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া... কোন রুম, কোথায়, কারা ছিলো যেটাকে পারো সবকটাকে ধরে অ্যারেস্ট করো। যে কটাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষ চাইলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে ঢালাওভাবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি এর পেছনের কি কারণ সেটা ভেবে দেখতে হবে। সম্প্রতি বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে আবরার ফাহাদ হত্যার পর ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। ছাত্ররা দাবি করেন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, বুয়েটের কমিটি আছে, তারা যদি মনে করে বন্ধ (ছাত্র রাজনীতি) করে দিতে পারে। এখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। এই যে ছেলেটাকে (আবরার) হত্যা করল, এটা তো কোনো রাজনীতি না। বসুনিয়াকে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রাউফুন বসুনিয়া) যে হত্যা করেছিল সেটা রাজনৈতিকভাবে। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে এমন মানসিকতা মিলিটারি ডিক্টেটরদের। আমি তো ছাত্র রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। নেতৃত্ব তৈরি হয় ছাত্র রাজনীতি থেকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামান্য টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট ভাড়া করে থাকবে। আর সেখানে বসে এমন মাস্তানি করবে। তা হতে পারে না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব প্রত্যেক হল সার্চ করে দেখতে। কোথায় কি হচ্ছে, সেটা খুঁজে বরে করতে। যে দলরই হোক না কেন। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, দেশে উৎপাদিত বোতলজাত এলপিজি গ্যাস রপ্তানি করবে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রকৃত মজুদ কত, তা না জেনে রফতানি করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, এলপিজি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। গ্যাস উত্তোলনের সময় বাই প্রডাক্ট হিসেবে এলজি পাওয়া যায়। ত্রিপুরায় যে গ্যাসটা দিচ্ছি তা আমদানি করা এলপিজি, বটল গ্যাস। অন্য পণ্য যেমন আমরা রফতানি করি, ঠিক তেমন। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই। তিনি বলেন, যে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসেছিলো। সেই গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে বলে এখন এতো হইচই হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভারতে রপ্তানি করছে। একসময় একচেটিয়াভাবে হাতে গোনা কিছু ব্যবসা করতো। বর্তমানে ২৬টি কোম্পানি প্রতিযোগিতামূলকভাবে ব্যবসা করছে। আগে ১০ থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতো, সেখানে এখন ৯০০ টাকায় বিক্রি করছে। এলপিজি গ্যাস বাংলাদেশের রফতানি আইটেমে নতুন যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এই শুদ্ধি অভিযান কোন পর্যন্ত চলবে এটা এখনই বলা যাবে না। যতদূর পর্যন্ত প্রয়োজন চলবে। ক্যাসিনো-জুয়া এটা বহু বছর থেকেই ছিলো। এখন আমি যদি বলি আপনারা সাংবাদিকরাও তো বলেন নাই যে এমন কিছু একটা চলছে। আপনারা তো এতো খবর রাখেন, এতো এতো জায়গায় যান, আপনাদের ক্যামেরা এতো জায়গায় ঘোরে কই এ জায়গায় পৌঁছায় নাই কেন কখনও? সেই প্রশ্নের জবাব কি দিতে পারবেন? পারবেন না। আর কেন পারবেন না, তাও যে একেবারে জানি না তা না। বাস্তবটা হলো আমি যখনই পেয়েছি, আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। নোয়াখালীর ভাসানচরে ক্যাসিনোর জন্য জায়গা দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অভ্যাস যখন বদঅভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তখন সেই বদভ্যাস যাবে না। লুকিয়ে-চুরিয়ে এগুলো করার থেকে কারা কারা এগুলো করতে চান আমাকে একটা তালিকা দিন, লাইসেন্স নিয়ে-ট্যাঙ্ দিয়ে আপনারা পরিচালনা করুন। আমার কোনো সমস্যা নেই। দেশের বন্দর বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোর্ট কেউ একা ব্যবহারের জন্য তৈরি করে না। নেপাল, ভারত, ভুটান আমাদের বন্দর ব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের শুল্ক আয় হবে। সে কারণেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর নেপাল ও ভুটানকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা না বাড়ালে উন্নতি হবে কীভাবে। কেউ তো আর একা একা উন্নতি করতে পারে না।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪৬৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.