নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২৫ আশ্বিন ১৪২৬, ১০ সফর ১৪৪১
চরফ্যাশনে পালিত ছেলের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত একটি পরিবার
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
চরফ্যাশনে সিঙ্গাপুর প্রবাসী পালিত ছেলের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত একটি পরিবার। বহুবছরের কষ্টে গাঁথা মায়া মমতার স্মৃতি বিজরিত ও তার প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরে স্থানীয় সাংসদের কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেন পালক বাবা। প্রতারণা ও তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভুক্তভোগী পালক বাবা সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুফল না পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে আব্দুল জলিল জমাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদার একই এলাকার নাছির আহাম্মদের ছেলে বিল্লাল হোসেনকে গরিব অসহায়ত্বের কারণে তার ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার দায় দায়িত্ব নিয়ে নিজ গৃহে লালন পালন শুরু করেন। এক পর্যায়ে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে দিলে তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্যাশ দিয়ে স্থানীয় কাশেমগঞ্জ বাজারে একটি মুদি দোকান কিনে দেন। ২ বছর দোকান পরিচালনা করার পর সম্পূর্ন ক্যাশ নষ্ট করে ফেললে সে বেকার হয়ে পড়ে বিল্লাল। পালক বাবা ও মায়ের হাতে-পায়ে ধরে সিঙ্গাপুর যাওয়ার আর্জি জানায়। তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরল বিশ্বাসে জমি বিক্রয় ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সর্বমোট ৪ লাখ টাকা খরচ করে সর্বপ্রথম সিঙ্গাপুর পাঠান বাবা। ২ বছর অতিক্রম হলে উপার্জিত টাকা থেকে দেনা পরিশোধের জন্য কোনো টাকা ফেরত না দিয়ে হঠাৎ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে চলে আসে। পালক বাবা আবারও তার ভবিষ্যতের চিন্তা করে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আসায় ৬৬ হাজার টাকা দিয়ে 'ঢাকা জনশক্তি ট্রেনিং সেন্টারে' ভর্তি করে। বছর খানেক পর পুনারায় জমি জমা বন্ধক রেখে আবারও ৪ লাখ টাকা দিয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠায়। কথা ছিল, সিঙ্গাপুর গিয়ে ধীরে ধীরে ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু, কথা দিয়েও কথা না রাখায় স্থানীয় পাওনাদাররা তাকে ঋনের টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে পালক বাবা জাহাঙ্গীর জমাদার তার বসত বাড়ির জমি হতে ২ গন্ডা জমি বিক্রি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত পালিত ছেলে বিল্লাল ওই জমি ক্রয় বাবদ টাকা পাঠিয়ে দিবে বলে তার নামে দলিল রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। তার কথা অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে বাবা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু কয়েকদিন পরে তার কাছে উক্ত জমির বিক্রয় বাবদ টাকা চাইলে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। এর পর থেকে ধর্ম বাবার পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। জমি বিক্রি বাবদ, ট্রেনিং বাবদ ও মুদি দোকান বাবদ বাকি টাকা না পাওয়াসহ এখন প্রায় ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা তার কাছে পাওনা। জমি বিক্রিসহ কোন টাকাই ধর্ম বাবা ফেরৎ না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে সমাজ প্রতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুবিচার না পেয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে বিল্লাল পাওয়ানা টাকা না দেওয়ার জন্য নানা রকম প্রতারনা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর অপ-প্রচার চালাচ্ছে।

অপর দিকে, বিল্লাল সিঙ্গাপুর থাকা অবস্থায় জাহাঙ্গীর জমাদারের নিজ ছেলে জুলফিকার আলীকে সিঙ্গাপুর নেয়ার প্রস্তাব দিলে নিয়ম অনুযায়ী ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনেক টাকাসহ খরচ করে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয় তার বাবা। কথা অনুযায়ী চাকরি দেয়নি বিল্লাল। ফিরে আসার সময় সিঙ্গাপুরে যে টাকা উপার্জন করেছেন তাও প্রতারক বিল্লাল রেখে দিয়ে জুলফিকার আলিকে হাতে পায়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এই প্রতারনার বিচার চেয়ে ছেলে জুলফিকার সাংসদের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। এ ঘটনায় সরজমিনে গিয়ে প্রবাসী বিল্লালের খোঁজ-খবর নিলে স্থানীয় সাদ্দাম, জাকির, ইউনুছ, সাখাওয়াতসহ অনেকে জানান, বিল্লাল একসময়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দরিদ্রতার চিন্তা করে জাহাঙ্গীর জমাদার তাকে লালন পালন করে বিদেশ পাঠায়। বর্তমানে সে বহু টাকার মালিক। অনেকেই জানান, সিঙ্গাপুর নেয়ার কথা বলে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় বিল্লালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার প্রতারণার উপযুক্ত বিচার কামনা করছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগিরা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬২৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.