নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২৫ আশ্বিন ১৪২৬, ১০ সফর ১৪৪১
চলতি বছরের মধ্যেই চালু হচ্ছে প্রবাসীদের ডাটাবেজ
এফএনএস
সরকারের কাছে বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মী বা প্রবাসীদের সঠিক কোনো ডাটা নেই। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের মধ্যেই প্রবাসীদের ডাটাবেজ চালু হচ্ছে। সেজন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি সফটওয়্যার করা হচ্ছে। তাতে ফেরত আসা প্রতিটি প্রবাসীর নাম ঠিকানাসহ কতদিনের জন্য এসেছেন, কত বছর পর এসেছেন, কতবার এসেছেন, একেবারে চলে এসেছেন কিনা এসব তথ্য থাকবে। ফলে সরকার সহজেই ফেরত আসা প্রবাসীদের সঠিক ডাটাবেজ তৈরি করতে পারবে। একইসঙ্গে ফেরত আসা কর্মীদের পুনর্বাসন কাজও সরকার নির্ভুলভাবে করতে পারবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন থেকে বর্তমানে সরকারের কাছে ফেরত আসা প্রবাসীদের কিছু তথ্য আসে। তাতে যে তথ্য পাওয়া যায় তা যৎসামান্য। এবার সরকার বিশাল পরিসরে তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। গত জুলাই মাসের মধ্যে প্রবাসীদের ডাটাবেজের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। সেজন্য দুই মাস সময় বেশি নেয়া হয়েছে। আশা করা যায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তা চালু হবে।

সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাস কল্যাণ ডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ৩৪ হাজার ২১২ জন কর্মী দেশে ফিরেছেন। তার মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ১১৮২ জন। আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছেন ৮ হাজার ৯১৯ জন। তার মধ্যে নারী কর্মী ছিলেন ২৫০ জন। যার বেশির ভাগ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছেন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১৯ এর সেপ্টেস্বর পর্যন্ত ১০/১১ বছরে সাড়ে ৫ লাখ অভিবাসী পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই এক কাপড়ে চলে এসেছেন। সবচেয়ে বেশি এসেছেন সৌদি আরব থেকে, প্রায় ২ লাখ। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ৮ থেকে ১০ হাজার। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছেন দেড় লাখ। মালয়েশিয়া থেকে এসেছেন ৯০ হাজার এবং ওমান থেকে এসেছেন ৩০ হাজার। এছাড়া কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, মালদ্বীপ, জর্ডান, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, লেবানন থেকেও ফেরত এসেছেন।

সূত্র জানায়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে চলতি ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত অভিবাসীর মোট সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৪ জন। এরমধ্যে নারী কর্মী গেছে ৭১ হাজার ৯৪৫ জন। সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হয়েছেন সৌদি আরবে। দেশটিতে গত আট মাসে গেছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ৪৪ হাজার ৭১৩ জন। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ২ লাখ ১৬২ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী এক হাজার ৭০৮ জন। ওমানে গেছেন ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী ৭ হাজার ৯২৭ জন, কাতারে গেছেন ৪১ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৫২৩ জন। সিঙ্গাপুরে গেছেন ৩৩ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ৭৫ জন। জর্ডান গেছেন ১২ হাজার ৭০১ জন। এর মধ্যে নারী ১২ হাজার ১২৩ জন। লেবাননে গত আট মাসে মোট কর্মী গেছেন ৩ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী এক হাজার ১২২ জন।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানি ব্যুরো (বিএমইটি) অভিবাসীদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার সুবাদে এখন অভিবাসী হওয়ার একটা ডাটা পাওয়া গেলেও কতজন ফেরত এসেছে তার কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। তবে সরকার ফেরত আসা কর্মীদের ডাটা তৈরিতে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি সফটওয়্যার তৈরির বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেখানে ফেরত আসা কর্মীদের হিসাব, কোন জেলার, কোন দেশ থেকে এসেছেন সেগুলো থাকবে। এই কাজটি সরকার যত দ্রুত করবে ততো সবার জন্য ভালো। আর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আওতায় ফেরত আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে ব্র্যাক। সংস্থাটি ফেরত আসা কর্মীদের বিমানবন্দরে খাবার দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, কাউন্সিলিং করা এবং পরিবারে লোকদের কাছে পৌছে দেয়ার কাজ করে থাকে।

এদিকে এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান জানান, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে এপর্যন্ত কতজন গেছেন আর কতজন ফেরত এসেছের এর কোনো সঠিক ডাটা সরকার বা কারো কাছে নেই।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের (অভিবাসী কল্যাণ অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, এখন পর্যন্ত কতজন প্রবাসী দেশে ফেরত এসেছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া সম্ভব নয়। সরকার ফেরত আসা প্রবাসীদের হিসাব রাখতে একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ওই সফওয়্যারটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে এর কার্যক্রম চালু করা যাবে। এ বিষয়ে শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে। সেখানে সফটওয়্যারে কী কী কার্যক্রম হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) গত জুলাই মাসেই কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময় বাড়াতে হয়েছে। যেহেতু সফটওয়্যারের কাজ সেহেতু তা কেনা, সেট করা, সেখানে কী কী বিষয় থাকবে, তথ্য প্রদানকারী কিভাবে তথ্য দেবেন- এই বিষয়গুলো সরকারসহ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফেরত আসা বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এছাড়া দেশে ফিরেছেন বলে যারা অভিযোগ করছেন তাদের প্রত্যেকটি অভিযোগই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আর প্রবাসীদের ডাটাবেইজের সফটওয়্যারটি আইওএম তৈরি করে দিলেও নিয়ন্ত্রণ করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪০৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.