নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২৫ আশ্বিন ১৪২৬, ১০ সফর ১৪৪১
আবরার হত্যা এবং জনগণের প্রত্যাশা
আজহারুল আজাদ জুয়েল
বুয়েটের ছাত্র আবরার ফারহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে শিবির সন্দেহে। তিনি চোর-বাটপার ছিলেন না, ডাকাত-মাস্তান ছিলেন না। তিনি ছিলেন বুয়েটের ছাত্র। লেখাপড়া করতে গিয়েছিলেন। রাজনীতি করতেন কি না, জানিনা। হয়তো করতেন। হয়তো সত্যিই তিনি শিবির করতেন। কিন্তু শিবির করলেই তাকে হত্যা করা হবে এমন কোনো বিধান বাংলাদেশে আছে বলে আমার জানা নেই।

আমরা জানি যে, ছাত্র শিবির হলো জামায়াতে ইসলামীর একটি সহযোগী কিংবা অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। দলটি মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ করেছিল। যুদ্ধাপরাধের কারণে তাদের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ফাঁসি হয়েছে। কয়েকজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে। আরো অনেকের বিচার চলছে। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি আয়োজনে যা কিছু হচ্ছে সব কিছুর মধ্যে আইন আছে। আইনী প্রক্রিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত দন্ড আইনী প্রক্রিয়ায় কার্যকর ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

আইন কিন্তু পথে-ঘাটে যুদ্ধাপরাধী দেখলেই হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেয় নাই। সরকারের কোনো বিধি, বিধান কিংবা প্রজ্ঞাপন শিবিরের কাউকে দেখলেই তাকে হত্যার কথা বলে নাই। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতারা যে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়েছে তা কোনোভাবেই আইনী কাঠামোয় পড়েনা। তারা এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটাতে পারে, নিজেরা ছাত্র হয়েও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে, এটা মেনে নিতেও খুবই কষ্ট হচ্ছে। তারা শিবির সন্দেহে তাদেরই একজন সহপাঠিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে! ক্ষমতার দম্ভ থেকেই তারা এমন বর্বরোচিত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলা যায়। তারা ধরেই নিয়েছে শিবিরের লোকজনকে হত্যা করা যায়! এমন বোধ তাদের মধ্যে কেন তৈরি হয়েছে জানি না। কিন্তু তারা যে শিবির সন্দেহেই আবরারকে হত্যা করেছে, প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রদের বক্তব্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির কোন কোন সদস্যর বক্তব্য থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রশ্ন হলো শিবির হলেই মারতে হবে কেন? শিবির করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া হোক, তার বিচার হোক, শাস্তি হোক। কিন্তু তা হচ্ছে না। এদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ বার বার সরকারের কাছে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার উদ্যোমের সাথে যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখলেও গণ মানুষের যৌক্তিক দাবি এখনো মেনে নেয়নি, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয় নাই। ফলে কেউ যদি জামায়াত অথবা শিবিরের রাজনীতি করেই থাকেন বলা যাবে না যে, তিনি অবৈধ কিংবা বে-আইনী কাজে লিপ্ত রয়েছেন। আর যদি ধরেই নেয়া যায় যে, জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধের দল, মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দল বা সংগঠন হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগসহ নানান অপকর্মে লিপ্ত ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করেছিল, তাই এই সংগঠনে কারো যুক্ত থাকার অর্থ অবৈধ কিংবা বেআইনী কাজে লিপ্ত থাকারই নামান্তর, তাহলেও তাকে হত্যা করার লাইসেন্স কাউকে দেয়া হয় নাই। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পেটানোর নির্দেশনাও তাকে দেয়া হয় নাই। তাই একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, আবরারকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা ভয়ংকর অপরাধ করেছে এবং খুনের জন্য যে শাস্তি একজন খুনীর জন্য আইনে লেখা রয়েছে সেই শাস্তির প্রাপ্যতা তাদের জন্যও তৈরি হয়ে গেছে।

আবরার হত্যাকান্ডের সংবাদ প্রচারের সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ খুনের সাথে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কারণে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১জনকে বহিস্কার করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভিন্নমতের কারণে কাউকে হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এর ফলে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য সহজ হয়েছে। দেশবাসী এখন আশা করে যে, প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে আবরার হত্যার সাথে জড়িতদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

ক্যাসিনো, মাদক, জুয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বর্তমান সরকার প্রধান এখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসার সাগরে ভাসছেন। তার শক্ত অবস্থানের কারণে তার দলের ভেতরে বড় বড় পদ-পদবী নিয়ে যারা নানান অপকর্মে লিপ্ত হয়ে রাজকীয় জীবন-যাপন করছিলেন, সেইসব সম্রাটদের অবস্থা ত্রাহি মধুসুদন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই দেশবাসীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে অনেক পজেটিভ ধারনা তৈরি হয়েছে। তার প্রতি আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই আমরা আশ্বস্ত হতে পারি এই প্রত্যাশায় যে, আবরার হত্যাকান্ডসহ সকল হত্যাকান্ডেরই ন্যায় বিচার হবে এবং অপরাধীরা যত বড়ই হোন না কেন, তার বিচার ও শাস্তি তাদেরকে পেতে হবেই।

আজহারুল আজাদ জুয়েল : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৮৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.