নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২৫ আশ্বিন ১৪২৬, ১০ সফর ১৪৪১
আর কত ছাত্রকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে!
নজরুল ইসলাম লিখন
বর্বরতার চরমে পৌঁছে গেছি আমরা। আমাদের সন্তানদের আমরা মানুষ হতে দিচ্ছি না। খুনি দানব তৈরি করছি। কি অপরাধ বুয়েটের আবরারের? দেশের সেরা মেধাবি ছাত্রদের একজন সে। তার বাবা-মা তিল তিল স্বপ্ন দেখেছিলেন। ছেলেটি ভালো লেখাপড়া করে, ভালো রেজাল্ট করে বুয়েটে তুমুল প্রতিযোগিতার বাজারে ঠিকেছিল। বাবা মার বুকভরা স্বপ্নের সাথে তার নিজের স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন পূরণ হবার আগেই সব শেষ!

স্বাধীন দেশে শিক্ষাঙ্গনে আর কত লাশ পড়বে? আর কত পিতা মাতা সন্তান হারা হবে? বার বার কেন শিক্ষার্থীর রক্তে রঞ্জিত হবে পবিত্র শিক্ষাঙ্গন? মানুষ হওয়ার পরিবর্তে খুনি কেন হচ্ছে আমাদের সন্তানরা? আর এভাবে চলবেই কতকাল? ফেসবুক একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এটা সৃষ্টির পরই থেকেই এর পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে। অনেকে এটা বন্ধ করে দিতেও বলেছেন। তাহলে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতিও বন্ধের যুক্তি অহেতুক কিছু নয়।

ফেসবুকে নিজের আইডিতে যার যার মতো করে লিখবে মন্তব্য করবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকেই দেখি এতে মাতব্বরি করেন। এটা ঠিক না। আপনার বিরুদ্ধে লিখলে আপনিও প্রতিবাদ করুন। মন্তব্য কলামে আপনার অভিব্যক্তি তুলে ধরুন। এছাড়াও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে পারেন। তা না করে একেবারে পিটিয়ে হত্যা। অপকর্ম করে এখন আর কেউ ছাড় পাচ্ছে না। হামবড়া ভাব ছাড়তে হবে । সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। সমালোচনা থেকে আত্মশুদ্ধি নিতে হবে।

পত্রিকার খবরে প্রকাশ এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলো সচিত্র প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে 'শিবিরকর্মী' হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকা-ের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন। এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেশে এখন অপরাধ-দুর্নীতি-দুষ্কর্মের মহামারি চলছে। সমাজ জীবনের কোনো অংশই এ থেকে মুক্ত নয়। অপরাধের যে বিচার করবে সেই বিচারবিভাগ, যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করবে সেই পুলিশবিভাগ, যারা দেশে সুশাসন-সুকৃতি প্রতিষ্ঠা করবে সেই আমলাতন্ত্র, যারা উন্নতি-অগ্রগতির অবকাঠামো তৈরি করবে সেই নির্মাণবিভাগ, যে প্রতিষ্ঠান দেশে সুশিক্ষার বিস্তার ঘটাবে, সুনাগরিক তৈরি করবে সেই শিক্ষাবিভাগ-সবই আজ দুর্নীতির করাল গ্রাসে আচ্ছাদিত। কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলন করছে। ইতিমধ্যে একজন ভিসি পদত্যাগ করেছেন। পরীক্ষা পরিচালনা থেকে শুরু করে শিক্ষাবিভাগের সকল পর্যায় দুর্নীতির রাহুগ্রাসে। দেশের নির্মাণ কার্যক্রম অবৈধ কমিশন ও চাঁদাবাজির কবলে নিমজ্জিত।

ক্লাসে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি আবরার : ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। ক্লাসে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি। ফাহাদ ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন ঢাকা নটর ডেম কলেজে। সেখান থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন এ প্লাসসহ উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিঙ্ বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। ফাহাদ সেখানে শেরেবাংলা হলের ১০১১নং কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। অষ্টম ও দশম শ্রেণিতেও বিশেষ বৃত্তি পেয়েছিলেন আবরার। এরপর ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশল হওয়ার স্বপ্নে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ইতিমধ্যে অনেকটা পথ পাড়িও দিয়েছেন। তবে তরী তীরে ভেড়ানোর আগেই আবরার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

এদিকে পিটিয়ে বুয়েট ছাত্র হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরাও ক্ষুব্ধ। এ ঘটনা অনলাইন পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। তাতে সাধারণ মানুষকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

একটা দেশ, একটা জাতি, একটা সমাজের জন্য এই অবস্থা ভয়ংকর ও নৈরাজ্যকর। এই অবস্থা প্রতিরোধ করা, বাধাবন্ধনহীন অপরাধ-আত্মসাতের মুখে লাগাম লাগানোর প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সরকারের। সরকারকেই অপরাধ আত্মসাতের সয়লাব রোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে হবে এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তাদেরও সহায়তা নিতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অপরাধ ও অপরাধীদের দমনের বিষয়টিকে অধিকাংশক্ষেত্রে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। সমপ্রতি ঘটা ক্যাসিনো কান্ড একটা বড় বিষয়। স্পোর্টস ক্লাবের ব্যানারে চলা জুয়া খেলার আড্ডায় ক্যাসিনো ধরা পড়েছে। এর সাথে জড়িত দেখা যাচ্ছে সরকারি ঘরানার নিম্ন পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী যারা ক্যাসিনো কান্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। একজনের বাড়িতেই ২০০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। উচিত ছিল সরকার এদের অপরাধকে অপরাধ হিসাবে ধরে অপরাধের মূলোচ্ছেদে এগিয়ে যাওয়া।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্তের পর সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে একথা জানান। সোহেল মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তে আবরারের পুরো শরীরে আমরা জখমের চিহ্ন পেয়েছি। মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হয়েছে, তাকে ভোঁতা কিছু দিয়ে আঘাত করে মারা হয়েছে। হতে পারে সেটা বাঁশ, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প। তিনি আরও বলেন, তার মাথায় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি।রক্তমাখা স্টাম্প, লাঠি, চাপাতি উদ্ধার । বুয়েটের শেরেবাংলা হলের যে রুমটিতে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল সেখান থেকে লাঠি, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

আবরারেরই সতীর্থরা নির্মমভাবে পিটিয়ে, নির্দয় উন্মত্ত খুনির চেহারায় তাকে হত্যা করেছে। ফেসবুক স্ট্যাটাস কেনো হবে হত্যার কারণ? ফেসবুক স্ট্যাটাসের জবাব, স্ট্যাটাসেই হবে। জীবন হরণ প্রতিবাদ হতে পারে না।সে রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো অপরাধ করেনি। করলেও আইন আছে, কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারে না।

কি ছিল ফেসবুক স্ট্যাটাসে যার জন্য প্রাণ দিতে হল মেধাবী শিক্ষার্থীকে। পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল সে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঃ ১) ৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২) কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েক বছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউসিক মিটার পানি দিব।

৩) কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রফতানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন- পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি/এ জীবন মন সকলি দাও/তার মতো সুখ কোথাও কি আছে/আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ টাকার অধিকাংশই উন্নয়নের কাজে আসে না। দেশের একজন প্রধান বিচারপতি একসময় বলেছিলেন উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ৬০ ভাগ অর্থ লোপাট হয়ে যায়। বিভিন্ন সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সরকারি বিভিন্ন অফিসে ঘুষ দুর্নীতির যে চিত্র তুলে ধরে তা ভয়াবহ। সামপ্রতিককালে শিশু ধর্ষণ ও ভয়ংকর ধরনের অপরাধ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আত্মসাতের বিষয়টি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন অপরাধীরা কোনো ভয়ভীতির তোয়াক্কা করছে না। একশ টাকার জিনিসকে লাখ টাকার অংকে নিয়ে যেতে তাদের বাধছে না। বালিশ কাহিনী, পর্দা কাহিনীর বিষয়টা আজ সকলেরই জানা। চোখের সামনে রংপুর মেডিকেল কলেজের একটা নিউজ দেখা যাচ্ছে তাতে আত্মসাতের এক ভয়ানক ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে। ২০ লাখ টাকার মেশিন ১ কোটি টাকা, সোয়া লাখ টাকার মেশিন পোনে চার লাখ টাকা, ৩৫ লাখ টাকার মেশিন ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ইত্যাদি অবিশ্বাস্য সব আত্মসাতের ফিরিস্তি সেখানে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের আত্মসাতের বিষয় সংবাদপত্রে আজ সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অপরাধকে আড়াল করা হয়েছে, তাদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হলেও মামলা ঠিকমত চলেনি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাজা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা ক্ষমার আওতায় পড়েছে। আপরাধ দুর্নীতি আজ মহামারি হয়ে দাঁড়ানোর মূলে আমাদের এ রাজনৈতিক মানসিকতাই প্রধান কারণ হিসাবে কাজ করছে। দুঃখের বিষয় হলো দুর্বল বা নতুন গণতন্ত্রের উন্নয়নশীল দেশগুলোর এটাই সাধারণ দৃশ্য। কোনো দেশে বেশি কোনো দেশে কম। কিন্তু এ ধরনের দেশগুলোতে দলীয় দৃষ্টিকোণই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হিসাবে কাজ করছে। আমাদের স্বাধীনতার বয়স বেশি নয় কিন্তু আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের ভালোবাসা অনেক পুরানো। গণতন্ত্র চর্চার অভিজ্ঞতাও আমাদের রাজনীতিকদের রয়েছে। অতএব আমাদের রাজনীতিকগণ চাইলে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে দুর্নীতি ও অপরাধের মহামারি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আমরা সেই আশা করছি।

আবরার ফাহাদের হত্যাকা- নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। কারও রাজনৈতিক দর্শন, চিন্তা বা বক্তব্য নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু শুধু ফেসবুকে কমেন্ট করার কারণে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পেটানো হবে, পেটাতে পেটাতে তাকে তারই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেরে ফেলা হবে এমন কলঙ্কজনক ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে আর একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ছাত্রলীগ যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এটা কারও অজানা নয়। কিছু শিক্ষার্থীকে অন্যায় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ক্যাডার বানিয়ে বাকিদের ওপর নির্যাতন চালানোর সংগঠনে পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগ। বলা যায়, সারা দেশে এরাই এখন ক্ষমতার প্রধান ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী। অপরাধ করার ক্ষমতাই তাদের যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অন্তর্দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ, ছাত্রী হয়রানি, ধর্ষণ, প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি না মানা, হলের সিট দখল করে রাখা, শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়া থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নেই, যাতে ছাত্রলীগ জড়ায়নি। চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, অস্ত্রবণিক থেকে শুরু করে অন্ধকার জগতের হেন শক্তি নেই, যারা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছে না! তারা যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাতে আক্রান্ত হচ্ছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, কর্মজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এসব কর্মকা- দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত ভীতসন্ত্রস্ত করছে। অথচ দেশের ইতিহাসের অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে ছাত্রলীগের নাম উচ্চারিত হয়। এক সময় দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদানও ছিল। সেই ছাত্রলীগ নিয়েই আজ সর্বত্র আতঙ্ক। এ অবস্থায় ছাত্রলীগ আর ছাত্রদের অধিকার রক্ষা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের সহায়ক হয়ে নেই। সন্ত্রাস-দুর্নীতি-অপরাধের লাঠিয়াল হিসেবে তাদের দ্বারা কল্যাণকর কিছু করা আর কিছু সম্ভব কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন ওঠে বেপরোয়া ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করবে কে? এদের কি কোন অভিভাবক নেই? তাদের কাছে কি জিম্মি হয়ে থাকবে এ দেশের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ? এর সমাধান কোন পথে?

বলাবাহুল্য, ছাত্রলীগের এ সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ না হলে ছাত্ররাজনীতি তো বটেই, গোটা সমাজ এবং জাতীয় রাজনীতিকেও চরম মূল্য দিতে হবে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছাত্রলীগকে বেপরোয়া করে তুলেছে। ভবিষ্যতে তাদের দ্বারা বড় বিপর্যয় ঘটার আগেই সরকারের উচিত রাশ টেনে ধরা। এবং এটাও মনে রাখতে হবে যে, এখনই এর লাগাম টেনে না ধরলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

আমরা আবরার হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করি। দোষীরা যেন কোনো ধরনের অনুকম্পার আশ্রয় না পায় সেদিকে নজর দিতে হবে। শুধু সংগঠন থেকে বহিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, হত্যা একটি ফৌজদারি অপরাধ, হত্যার অভিযোগে আবরার হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে, এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

যে ছেলেটি খুন হয়েছে সে হতে পারতো আপনার-আমার ছেলে। যারা খুনি তারা হতে পারতো আমার-আপনার সন্তান। তার মানে আমরা এমন এক সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে আমাদের সন্তানরা খুন হচ্ছে, আমাদের সন্তানরাই খুনি হচ্ছে। আহারে, বুয়েটে এখন মেধাবি ছাত্রছাত্রীই নয়, খুনিরাও পড়াশোনা করে, বাস করে। গোটা সমাজ রাজনীতি, প্রশাসনকে কি এ প্রাণহানি ঘুম ভাঙাতে পারবে? আজ আমি খুনিদের বিচার চাই, আজ আমরা সু-সন্তান তৈরির সমাজ-পরিবেশ চাই। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকেও জবাবদিহি করতে হবে আজ।

নজরুল ইসলাম লিখন : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪৬৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.