নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৩ আশ্বিন ১৪২০ , ২১ জিলকদ ১৪৩৪
নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদা মাটি এখন সাদা সোনা
নেত্রকোনা থেকে বাসস
নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলায় রয়েছে সাদা মাটির খনি। গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এ উপজেলা থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টন সাদা মাটি উত্তোলন করে তৈরি হচ্ছে সিরামিকের বিভিন্ন পণ্য। দুর্গাপুরের সাদা মাটি দিয়ে তৈরি সিরামিকের তৈজষপত্র বিদেশে রফতানী করে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে দেশের সিরামিক কোম্পানীগুলো। বর্তমান সরকারের আমলে সিরামিকের তৈষসপত্র বিদেশে রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমানও বেড়েছে। পাহাড় ঘেরা নদী বিধৌত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদে পরিপূর্ণ সোমেশ্বরী নদীর তীরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত উপজেলা দুর্গাপুর। গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, ভালু, রাজবংশী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিদের সহবস্থান এখানকার জীবন-যাপনকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিজয়পুরের পাহাড়, টিলা ও সমতল ভূমিতে আছে বিপুল পরিমাণ সাদামাটি। যাকে এলাকার লোকেরা 'সাদা সোনা' বলে থাকেন।

জানা যায়, বিজয়পুরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, ভালু, রাজবংশী সমপ্রদায়ের লোকেরা সমপ্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। পাহাড়ের উপর এদের বসবাস হলেও সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার মান তেমন উন্নত নয়। তাদের অনেকে সাদা মাটি উত্তোলনে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার পারিশ্রমিকে কাজ করে। উত্তোলিত সাদা মাটি ঢাকাসহ সারা দেশে যাচ্ছে সিরামিক কোম্পানীগুলোতে। প্রতি বছর কোটি কোটি টন সাদা মাটি উত্তোলন করছে সিরামিক কোম্পানীগুলো। এ জন্য তারা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করছে।

অপার সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দুর্গাপুরের বিজয়পুরে সাদা মাটি উত্তোলন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক। যাদের দু'বেলা দুমুঠো ভাত জুটত না তারা এখন সাদা মাটি উত্তোলনে শ্রমিকের কাজ করে ঠিক মত খেতে পারছে। তাদের কাছে সাদা মাটি এখন সাদা সোনা হিসেবেই পরিচিতি।

দুর্গাপূরের বিজয়পুর গ্রামের মনিরুজ্জামান জানান, দুর্গাপুরের সাদা মাটি অর্থাৎ সাদা সোনা উত্তোলন করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখানে স্থানীয়ভাবে মৃত্তিকা ভিত্তিক কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে এলাকাবাসী আরও উপকৃত হতো। এলাকার শত শত লোকের কর্মসংস্থানসহ বিজয়পুরে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠার পাশাপাশি এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হতো।

দুর্গাপুর উপজেলা বিপিনগঞ্জ গ্রামের রিছিল হাজং জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিজয়পুরের সাদা মাটি উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারী মনিটরিং ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার ফলে এ ধরনের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের অনেক বেকার নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সমপ্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক কয়েকটি পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের সিরামিক শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে এবং সিরামিকের তৈষসপত্র বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।

দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুল হোসেন আকুঞ্জি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকার কর্তৃক এখানে সাদা মাটি দিয়ে তৈরি মৃত্তিকাভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং সাদা মাটির খনি থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী মাটি উত্তোলন করে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিরামিক শিল্পে ব্যবহারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত