নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩০ ভাদ্র ১৪২৪, ২২ জিলহজ ১৪৩৮
মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর 'গণহত্যা' চলছে, 'জাতিগত নিধনযজ্ঞ' চলছে_এসব কথা এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা দুনিয়া বলছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিয়ানমারের বর্তমান হত্যাযজ্ঞকে 'এথনিক ক্লিনজিং'-এর 'টেঙ্টবুক এঙ্ামপল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ পাঠ্য বইয়ে জাতিগত নিধনযজ্ঞের বর্ণনায় আদর্শ উদাহরণ হতে পারে এটি। এর আগে ওআইসি মহাসচিবসহ অনেকেই একে গণহত্যার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর এই নিষ্ঠুর অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও সুইডেন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু টনক নড়ছে না মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির কিংবা সেখানকার সেনানায়কদের। তারা লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছে। রোহিঙ্গারা নিজেরাই নাকি তাদের বাড়িঘরে আগুন লাগাচ্ছে। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলছেন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া এবং নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ পলায়নরতদের গুলি করে মারার তথ্য-প্রমাণ ও স্যাটেলাইট চিত্র তাদের হাতে রয়েছে। বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি জোনাথন হেড বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে পুলিশের সামনেই রাখাইন বৌদ্ধদের আগুন লাগাতে এবং লুটপাট চালাতে তিনি নিজে দেখেছেন।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে?

রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বসবাস করে আসছে। আগে এর নাম ছিল আরাকান। ষাটের দশকে সামরিক শাসন আসার আগে পর্যন্ত মিয়ানমার পার্লামেন্টে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বও ছিল। সত্তরের দশকে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয় এবং তার পরপরই শুরু হয় দেশটি থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন ও নিধনযজ্ঞ। নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে। প্রথম রোহিঙ্গাদের বড় ঢেউ আসে ১৯৭৮ সালে। ১৯৯২ সাল নাগাদ চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। অত্যাচার, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়ে পালিয়ে আসার এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এরপর ২০১৬ সালের অক্টোবরে আসে আরো প্রায় এক লাখ। সামপ্রতিক সেনা অভিযানের কারণে এসেছে প্রায় আরো তিন লাখ। অর্থাৎ মিয়ানমারে থাকা ১০ লাখ রোহিঙ্গার তিন-চতুর্থাংশকেই তারা দেশছাড়া করেছে। বিশ্ববিবেক কি এর পরও চুপ করে থাকবে? থাকবে না কিংবা থাকতে পারে না বলেই আজ বিশ্ববিবেক কিছুটা হলেও সরব হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের একচোখা শাসকগোষ্ঠীর তাতে টনক নড়ছে না। তাই তাদের বাধ্য করতে হবে অবিলম্বে নিধনযজ্ঞ বন্ধ করতে।

শুধু বিশ্বের প্রতি তাকিয়ে থাকলেই হবে না, যেহেতু বিপুল শরণার্থী নিয়ে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি, তাই নিজের গরজেই আমাদের বৈশ্বিক ফোরামে আরো সরব হতে হবে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শরণার্থী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে যাতে ফিরিয়ে নেয়া হয়, সেই লক্ষ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৯২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.