নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩০ ভাদ্র ১৪২৪, ২২ জিলহজ ১৪৩৮
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ২ টার্গেট
সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ
সফিকুল ইসলাম
প্রথমত, রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত, মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো ও তাদের সম্মানের সাথে বসবাস নিশ্চিত করা। এই ২টি লক্ষ্য স্থির করেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ইস্যুটিকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল টার্গেট হচ্ছে এই ২টি। পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটই হবে তার ফোকাস পয়েন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান আপাতত মানবিক। তাই বাংলাদেশে তাদের জায়গা দেয়া হয়েছে। কিন্তু মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গারা তাদের নিজ আবাসভূমে ফিরে যাবে, সম্মানের সাথে বসবাস করবে। এজন্য যা করণীয়, তার সবই করবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার।

সূত্রমতে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নিন্দা ও প্রতিবাদ শেখ হাসিনার সরকারকে বলীয়ান করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক নিন্দার বার্তা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যাশা সরকারের। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ ও তাদের মায়ানমারে ফেরত নিতে বিশ্ব জনমত ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, শেখ হাসিনার এই দুই কৌশল চূড়ান্ত রূপ নেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের পর। এই অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতেই সোচ্চার থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এবার এটিই তার ফোকাস পয়েন্ট। পাশাপাশি বিশ্ব নেতাদেরও সোচ্চার করতে এ সময় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন তিনি। সেখান থেকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে ফল আসবে এমনই প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সূত্র জানায়, জাতিসংঘেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সমর্থ হবেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গেছেন সেখানকার প্রকৃত চিত্র নিজ চোখে দেখে আসতে, যা তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরবেন। সেখান থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তও সংগ্রহ করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বেশকিছু স্থিরচিত্র জাতিসংঘে নিয়ে যাবেন বলেও জানা গেছে। বিশ্ব নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এগুলো তুলে ধরবেন তিনি।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত চিঠি বিনিময় করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে। পাশাপাশি ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকের সাথে যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র সরাসরি দেখাতে গতকাল বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের কঙ্বাজারে নিয়ে যান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ সময় বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। নির্যাতনের মুখে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি। এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে মায়ানমারের ওপর চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রগুলোকে এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল করানো জরুরি সেসব রাষ্ট্রের সকল রাষ্ট্রদূতরাই এখানে আছেন। মায়ানমারের এই আচরণে মানবতার যে ক্ষতি হচ্ছে তা আজকে কূটনীতিকগণ দেখে যাবার পর বিশ্ববাসী আরও জোরালোভাবে বুঝতে পারবেন। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা ছিলেন। এসময় সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হক। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার যখন সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করছে ঠিক, সেই সময়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে একটি মহল। এদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সর্বদা সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের নেতারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কোনো চক্রান্ত করেই শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে উৎখাত করা যাবে না। বিএনপি ও জামায়াত শিবিরচক্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করতে দেশ-বিদেশে নানা চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে হাত মিলিয়েছে। গোপন বৈঠক করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, কোনো ষড়যন্ত্র করে সরকার পরিবর্তন করা যাবে না। সরকার পরিবর্তন হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচন অবশ্যই হবে, তবে ২০১৯ সালের একদিন আগে হবে না। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে কে সরকারে থাকবে বা থাকবে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্থাপন করেছেন। এখন তার টার্গেট মায়ানমারেই রোহিঙ্গাদের আবাস নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা করেন। এই সমস্যারও সমাধান তার হাত দিয়েই হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত সাময়িক। বাংলাদেশে তাদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে না। রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করে তাদের নিজ আবাস ভূমি রাখাইনে বসবাস, অধিকার ও স্বীকৃতি আদায় করে দেয়াই হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য। এজন্য কূটনীতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মায়ানমারের ওপর চাপও রয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৬৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.