নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩০ ভাদ্র ১৪২৪, ২২ জিলহজ ১৪৩৮
অভয়নগরে বিসিআইসি'র ইউরিয়া সার কালোবাজারে বিক্রি
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বিসিআইসি'র ডিলাররা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে নির্ধারিত এলাকায় না পাঠিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে অধিক দামে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাব ডিলাররা চাহিদা মতো সার পাচ্ছেনা। যে জন্য তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ইউরিয়া সার কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে সরবরাহ করতে না পারায় বিভিন্ন সময় রোষানলে পড়তে হচ্ছে তাদের। এসব অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিসে জানালেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না তারা। অপরদিকে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের নজরদারি না থাকায় ডিলাররা কালোবাজারে বিক্রি করছে ইউরিয়া সার।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সম্প্রতি জলাবদ্ধতার কারনে দীর্ঘদিন চাষাবাদ করতে পারিনি তারা। এখন পানি কমে যেতে শুরু করেছে। চাষাবাদ শুরু করবার জন্য জমি প্রস্তুত করে সারের অভাবে তা করতে পারছেন না তারা। ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। এদিকে সাব ডিলাররা জানান, ডিলার কর্তৃক উত্তোলনকৃত ইউরিয়া সার সংশ্লিষ্ট এলাকার সাব ডিলারদের কাছে পৌছে দেয়ার কথা থাকলেও ডিলাররা তা না করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কালোবাজারে বিক্রি করছেন। কিছু কিছু ডিলার আবার সঙ্কট দেখিয়ে বস্তা প্রতি এক থেকে দেড়শ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন। এ চিত্র অভয়নগর উপজেলাব্যাপী থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন মাথা ব্যাথা । সরেজমিনে দেখা গেছে, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ, সুন্দলী, চলিশিয়া, পায়রা, শ্রীধরপুর, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন এলাকার সাব ডিলারদের ঘরে কোন ইউরিয়া সার নেই এবং এ সব এলাকায় ডিলারদের শো-রুম বা গুদাম থাকার নিয়ম থাকলেও তার কোনো অস্বিত্ব পাওয়া যায়নি। সাব ডিলারদের কাছে অল্প কিছু সার যা আছে তার দাম জানতে চাইলে তারা ৯শ' থেকে হাজার টাকা দাম হাকিয়ে দেন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এত বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা অকপটে জানান, ডিলারদের কাছে সার কিনতে গেলে প্রথমে তারা জানিয়ে দিচ্ছেন সার নেই। পরবর্তীতে ভিন্ন কৌশলে যোগাযোগ করা হলে তারা বস্তা প্রতি ৯শ' থেকে সাড়ে ৯শ' টাকা দাম হাকিয়ে দিচ্ছেন এবং কোনো প্রকার মেমো দিচ্ছেন না। সাব ডিলাররা উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ৯শ' থেকে সাড়ে ৯শ' টাকায় সার কিনে কত টাকা বিক্রি করব আপনারাই বলেন? তারা আরও জানান, ইউরিয়া সার না থাকলে অন্য কোনো সার বিক্রি হয় না। কৃষকরা এক বস্তা ইউরিয়া সারের সাথে আরও ৫ বস্তা অন্যান্য সার কিনে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাব ডিলার জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী সরকারের কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। প্রত্যেক ডিলারের সাথে তার মাসিক চুক্তি রয়েছে। যে কারনে খাতা কলমে এরাইভেল ও স্টক এবং বিক্রির খাতাপত্রে অফিসে বসে স্বাক্ষর করে দেন তিনি। বিনিময়ে মাসিক টাকা পান এবং ডিলারদের কালোবাজারে সার বিক্রির ব্যাপারে প্রত্যক্ষভাবে কৃষি কর্মকর্তা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় ১৩ জন বিসিআইসি ডিলারের গুদাম রয়েছে এবং সে গুদামে অভয়নগরের চাহিদার যথেষ্ট পরিমান সার মজুদ রয়েছে অথচ সিন্ডিকেট তৈরি করে ইউরিয়া সারের সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার প্রদত্ত ভর্তুকি মূল্যের থেকে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে করে একদিকে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকির বিনিময়ে কৃষকের মাঝে সার বিতিরণ ব্যবস্থা ভেস্তে যাচ্ছে। কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারের সকল প্রকারের নিয়মনীতি রক্ষা করে তাদের মাঝে সার বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর জেলা প্রশাসক ও অভয়নগরের ইউএনও'র নিকট দাবি করেছেন। সচেতন মহল অভয়নগরের সার সংরক্ষণ ও বিতরণ মনিটরিং কমিটির সমালোচনা করে বলেন, মনিটরিং কমিটি যদি বিষয়গুলী না দেখে এবং কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে সার মনিটরিং কমিটি থাকার প্রয়োজন আছে কি? সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। অভয়নগরে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮৮৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.