নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩০ ভাদ্র ১৪২৪, ২২ জিলহজ ১৪৩৮
সুনামগঞ্জে হুমকির মুখে শিশু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওড়পাড়ে গড়ে উঠা শত শত সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখা-পড়া করছে দরিদ্র পরিবারের হাজার হাজার শিশু শিক্ষার্থীরা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হাওড়পাড়ের দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রামে গড়ে উঠায় এক গ্রামের সাথে অন্য গ্রামের সড়ক পথের কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। ফলে বর্ষার সময়ে ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন থাকে হুমকির মুখে। শিক্ষার্থীরা বর্ষার ৬ মাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে হাতে বেয়ে মেঘ, বৃষ্টি ও হাওড়ের বড় বড় ঢেউ উপেক্ষা করে স্কুলে যাতায়াত করছে প্রতিদিন। আর বাকি ৬ মাস কাদাযুক্ত মাঠ, ঘাট, ফসলি জমিনের আইল দিয়ে কোনো রকমে পায়ে হেঁটে। জানা যায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টাংগুয়ার হাওর পাড়ে ছিলাইন তাহিরপুর গ্রামে স্থাপিত জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্ষার সময় হাওড়পাড়ের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারপাশে পানিতে থৈ থৈ করে। এই স্কুলে আশপাশের ৪টি গ্রামের ২৯০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। আর শিক্ষার্থীদের বর্ষায় হাওড় পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করার জন্য নৌকা ছাড়া অন্য কোনো যোগাযোগ মাধ্যম নেই। ঐসব শিক্ষার্থীদের মা, বাবারও সার্মথ্য নেই নৌকা কিনে দেয়ার। তার পরও অনেক মা, বাবা নিজের সন্তানদের শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষিত করার জন্য ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা কিনে দেয়। আর শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বইঠা হাতে নিয়ে নৌকা বেয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে। আর যাদের অভিভাবকরা নৌকা কিনতে পারেন না তারা স্কুলে যেতে পারে না। তাই হাওড় পাড়ের এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকে কম। তাই বার বার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাদিউজ্জামান তার এ বিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় নৌকা দেয়ার দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা ও উপজেলা পরিষদসহ সবার কাছে লিখিতভাবে জানালেও কোনো সুফল পাচ্ছে না। তাই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমার স্কুলে ২৯০ জন শিক্ষার্থী আছে। হাওড় পাড়ের ৪টি গ্রামের সকল ছাত্রছাত্রীরা বর্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে পায়ে ঠেলে স্কুলে আসছে প্রতিদিন। নৌকার কারণে অনেকেই স্কুলে আসে মা-বাবারাও দিতে চায় না ভয়ে। একটি ভালো ও বড় নৌকা হলে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা ও হাওড় পাড়ের মা, বাবারা তাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া-আসা নিয়ে সারাক্ষণ উৎদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হবে না। কিছুটা হলেও মনে সান্ত্বনা ও সাহস পাবে। তাই আমি একটি নৌকার জন্য বারবার দাবি জানালেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। তা ছাড়াও আমার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেননি সমাজের বিত্তবানরাও। কিন্তু বর্ষায় সময়ে শত শত শিক্ষার্থীর মা, বাবার মতো আমিও সারাক্ষণ আতংকের মধ্যে থাকি কখন জানি দুর্ঘটনার শিকার হয় আমার শিশু শিক্ষার্থীরা। জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম ও শিক্ষার্থীদের মা, বাবাগন জানান, ভরা বর্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে হাওড়ের সাথে জীবন সংগ্রাম করেই স্কুলে এসে শিক্ষা গ্রহণ করছে হাওড় পাড়ের আমাদের সাহসী সন্তানরা। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বর্ষায় সময় একটি বড় ও ভালো নৌকার খুবই প্রয়োজন যাতে করে আমাদের সন্তানরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম জাহান রাবি্ব জানান, জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় নৌকার হলে ভালো হয় বর্ষায় শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে যোগাযোগের স্বার্থে। একটি নৌকার কেনার জন্য আবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবার দেয়া হয়েছে জানি। এই বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ও অবগত আছেন। আমরা চেষ্টায় আছি সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, হাওরপাড়ের প্রতিটি স্কুলেই শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে। তাদের জন্য বড় নৌকা হলে ভালো হয়। জয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সব বিদ্যালয়ের জন্য আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করব। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের এখন কোনাে ফান্ড নেই। তারপরও এ বিষয়ে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭৪৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.