নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
গুজবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার
গঠিত হচ্ছে বিশেষ তথ্য সেল : বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের রহস্য ৩ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব : দাবি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার
গুজবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামছে সরকার। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের রহস্য উদঘাটনের জন্য গঠন করা হচ্ছে বিশেষ তথ্য সেল। আর এই সেলের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের গুজবের রহস্য ৩ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারানা হালিম বলেন, ফেসবুকে মিথ্যা কোনো পোস্ট দিলে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই জানানো হবে এটি গুজব। এ জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে তথ্য অধিদফতরের অধীনে 'গুজব শনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র' স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, এই তথ্য সেল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ৮ ঘণ্টা করে ৩ শিফটে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আমরা একটি নম্বর দেয়ারও চেষ্টা করছি। এই নম্বরটি সব সাংবাদিকদের কাছে থাকবে। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়েই আপনাদের কাছে গুজব সংক্রান্ত সংবাদ পৌঁছে দিতে চাই।

এদিকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিবিসি বাংলাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গুজবের প্রবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ সেল তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই সেলের মূল দায়িত্ব্ব হবে গণমাধ্যমে এবং ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবের মতো সামাজিক

যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব গুজব ছড়ানো হয় তার উৎস অনুসন্ধান করা এবং তথ্য যাচাই-বাছাই করে আসল ঘটনা জনসাধারণকে জানিয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ চক্র, বিশেষভাবে সামপ্রদায়িক চক্র, যুদ্ধাপরাধী চক্র, ক্রমাগতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। তার মতে, এটা সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, অবিশ্বাস তৈরি করছে এবং সংঘর্ষের উস্কানি দিচ্ছে। তিনি বলেন, এজন্যই সরকার মনে করছে গুজবের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং সচেতন করার প্রয়োজন রয়েছে।

এসব গুজবের বিষয়ে প্রয়োজনবোধে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকেও জড়িত করা হবে বলে জানান হাসানুল হক ইনু।

এই গুজব-বিরোধী সেলকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এরকম কোনো আশঙ্কা নেই।

তার মতে, কোনো ব্যক্তি যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশন ছড়ায়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী তার দায়িত্ব নেবে না।

সরকার যাকে গুজব বলবে, ফেসবুক-টুইটার ব্যবহারকারীরা তাকে কেন সত্যি বলে মনে নেবে, বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো বিষয়টা নির্ভর করবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ওপর।

কোনো একটি বিষয়ে মিথ্যাচার করা হলে সরকার, কর্তৃপক্ষ বা কোনো সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে গুজব পল্লবিত হয়। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলেই মানুষ তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তথ্যমন্ত্রী জানান, আপাতত তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সেল গঠিত হবে এবং পরে এতে বিশেষজ্ঞরাও যোগ দেবেন।

এদিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা গুজবের কারখানা হয়ে যায়। এই মাধ্যমের প্রতি আসক্তির কারণে যে স্ট্যাটাসই আসুক তারা সত্য বলে ধরে নেয়।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক একটি সেল আছে এবং ৩শ'রও বেশি পেজ, তারা খুব অ্যাক্টিভ। নির্বাচনের আগে মিথ্যা, অসত্য গুজব এবং প্রচারণার প্রবণতা বেড়ে যাবে। কাজেই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে বাকরোধ বা কণ্ঠরোধ করা নয়, আমাদের দায়িত্ব কোন্টি অসত্য সেটি তুলে ধরা। সে কাজ করার জন্য এই বিশেষ তথ্য সেল গঠন করা হবে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডিতে (তথ্য অধিদফতর), প্রয়োজন হলে নিমকোতে (বাংলাদেশ গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট) বেশ কিছু তরুণ লোকবল আছে তাদের ইনক্লুড করে একটি টিম করবো যারা ২৪ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে থাকবে।

তথ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে যে সংবাদগুলো গুজব সেগুলো চিহ্নিত করবে এবং সব সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল, রেডিও এবং সব সংবাদ মাধ্যমে ৩ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে স্বপ্রণোদিত হয়ে পিআইডি থেকে প্রেসনোট দেবে যে এই সংবাদগুলো গুজব, ভিত্তিহীন এবং অসত্য।

সমপ্রতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর কোনো কোনোটিতে কয়েকজন ছাত্রকে খুন এবং কিছু ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে দাবি করা হয়। যদিও পরে এসব দাবি সরকারের পক্ষ থেকে স্রেফ গুজব বলে জানানো হয়।

ঐ আন্দোলন চলার সময় ফেসবুকে ও আলজাজিরা টিভি চ্যানেলে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ খ্যাতিমান ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম এবং মডেল ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে গ্রেফতার করে। পরে নওশাবা আহমেদ জামিনে মুক্তি পেলেও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলম এখনও কারাগারে রয়েছেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.