নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
ধুনটে ভুয়া প্রকল্পের অর্থ ছাড়সহ কাজ না করেই টিআর কাবিটা কাবিখার কোটি টাকা লোপাট
বগুড়া থেকে এম. এ. রাশেদ
বগুড়ার ধুনটে নাম সর্বস্ব ভুয়া প্রকল্প ও বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে টিআর, কাবিটা, কাবিখা প্রকল্পের কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নিয়োজিত লোকজন ভুয়া বিল ভাউচারে সরকারী বরাদ্দের বিপুল অংকের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে সাধারন ও বিশেষ

কোঠায় দুই কিস্তিতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের সাড়ে ৫২ লাখ টাকার সরকারি মূল্যের ১২৫ দশমিক ৪৭৩ মেঃ টন চাল। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের অনুকূলে ১ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৫ টাকা । টিআর প্রকল্পের অনুকুলে ২ কোটি ২৯ লাখ ১১ হাজার ৪৭০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে শত ভাগ কাজ করার নির্দেশ থাকলেও কাজ না করেই কাগজ কলমে শত ভাগ কাজ দেখিয়ে ভুয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ অর্থ উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, 'বিল কাজুলী পোস্ট অফিসের কোন অস্তিত্ব এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি'। অথচ 'বিল কাজুলী পোস্ট অফিসের আসবাব পত্র ক্রয়' দেখিয়ে টি আর প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া ৪০ হাজার উত্তোলন করা হয়েছে। এবিষয়ে ধুনট উপজেলা পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার বাবুল আকতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিলুকাজুলী পোষ্ট অফিস নামে ধুনট উপজেলায় কোন পোস্ট অফিস নাই।

'কোনাগাঁতি হাফেজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ' দেওয়া টিআর প্রকল্পের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইসমাইল হোসেন জানান, কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না । তবে পিআইও অফিস থেকে তাকে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। গোশাইবাড়ি দি মর্নিং সান উচ্চ বিদ্যালয় নামের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে আত্মসাত করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে বিভাবে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়। 'মানিক পোটল পাকা রাস্তার মসজিদ থেকে চিথুলিয়া ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের' নামে কাবিটা প্রকল্পের ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে কাজ না করেই পুরো টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি গোশাইবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হাই বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য কত টাকা বরাদ্দ এবং কত টাকার কাজ করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানে না। সালাম নামের তার এলাকার এক ব্যক্তি মাস্টাররোলে স্বাক্ষর নিয়েছে। ধুনট সদর ইউনিয়নের 'উল্লাপাড়া আজিজুলের দোকান থেকে হলহলিয়া নদী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৪৯৯ টাকা। 'একই রাস্তার উল্লাপাড়া বাবুলের দোকান থেকে আজিমুদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত' রাস্তা সংস্কার দেখিয়ে কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৩ লাখ টাকা মুল্যের ৮ মে. টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আজিজুল হক, রেজাউল করিম ও রুপালী খাতুন বলেন, এ রাস্তায় কোন মাটি কাটা হয়নি। রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় গ্রামবাসীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই রাস্তার দুই প্রকল্প কমিটির সভাপতি ধুনট সদর ইউনিয় সংরক্ষিত নারী সদস্য ফুলেরা খাতুন বলেন, প্রকল্প দুটিতে কত টাকা বরাদ্দ এবং মাটি কাটা হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। তার নিকট থেকে পিআইও অফিসের লোকজন শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। এলাকায় রাস্তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি । অথচ 'বিলকাজুলী দুলাল শীলের বাড়ি থেকে পরশের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন' দেখিয়ে ৭৪ হাজার ৬০১ টাকা ও 'চালাপাড়া আলীম ডাক্তারের ওষুধের দোকান থেকে বুজুর আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের' নামে আরো ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আর্তসাৎ করা হয়েছে।

সোনামুখি পাকা রাস্তার চৌকিবাড়ী হতে আমিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের নামে কাটিবা প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে কোন কাজ না করেই। একই এলাকার চৌকিবাড়ী জসিম মন্ডলের বাড়ি হতে রফিক মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ নিয়ে কোন কাজ করা হয়নি। ওই দুটি প্রকল্পের চৌকিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পে দুটিতে ৬০/৭০ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে। বাকী টাকা কোথায় গেছে এবিষয়ে মুখ খোলেনি।

'বিলকাজুলী নোটাগাড়ি কালভার্ট থেকে চন্দ্রনাথ সরকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের নামে'

বরাদ্দ দেওয়া সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৮ মে. টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে কোন কাজ না করেই। ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চালাচলকারী স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ শত শত মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মাঠপাড়া স্কুলের শিক্ষার্থী তামান্না আকতার, বিথি খাতুন ও ঋতু খাতুন জানান, এ রাস্তায় মাটির কাজ না করায় প্রতিদিন কাপড় চোপড় ভিজে স্কুলে যেতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত) পিআইও আব্দুল আলীম অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকরে প্রকল্প সমুহের শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার দাবি করেছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া সুলতানা বলেন, ভয়া প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ ছাড় করা সহ টিআর , কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের বেশ কিছু অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন ।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২০
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৩২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.