নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
উলিপুরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ স্ট্যান্ড রিলিজসহ বিভাগীয় তদন্ত
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তার খাম খেয়ালির কারণে উপজেলার ২শ ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সস্নিপের প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত যাওয়াসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় সংস্কারের প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ। দুর্নীতির ঘটনায় স্ট্যান্ড রিলিজসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষক সমাজের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এ উপজেলায়

যোগদানের পর থেকেই শিক্ষা অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তার অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন উপজেলার সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে উলিপুর উপজেলার ২শ ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে ৪০ হাজার টাকা করে সস্নিপের কাজের জন্য ৯৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের বাজেট মোতাবেক সস্নিপের কাজ সমাপ্ত করে ভাউচার, ভ্যাট কর্তনসহ আবেদন করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন কাজ শেষ করে টাকার জন্য আবেদন করলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষক ও এসএমসির সভাপতির অনুকূলে সোনালী ব্যাংক লিঃ উলিপুর শাখার ০০১০০৫৭৯৩ হিসাব নম্বরে চেক প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন উক্ত হিসাব নম্বরে কোন টাকা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রধান শিক্ষকগণ ব্যাংকের হিসাব নম্বরে টাকা নেই কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে শিক্ষকগণ জানতে পারেন সময় মত বিল অনুমোদন না করায় বরাদ্দকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। শিক্ষা কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অবহেলার কারণে সস্নিপের কাজ শেষ করেও টাকা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ। ।

এছাড়া একই অর্থ বছরে সাহেবের আলগা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, মোক্তারপাড়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, চর রামনিয়াসা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় ও জুয়ান সাতরা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের জরুরি সংস্কারের জন্য ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ আসলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলোর কাজ সম্পন্ন করার নিদের্শ দেন। কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধানগণ পুরো টাকা পাননি। এছাড়া উপজেলার ৮৭টি বিদ্যালয়ের রুটিন মেরামতের জন্য ৯ হাজার টাকা করে ৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা এবং ১০টি বিদ্যালয়ের টয়লেট সংস্কারের জন্য ২০ হাজার করে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকাসহ মোট ২১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ৩১ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিভাগীয় উপপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন উলিপুর উপজেলা সঃ প্রাঃ বিঃ প্রধান শিক্ষক সমিতি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় স্ট্যান্ড রিলিজসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ দায়সারাভাবে পালন এবং বদলি ও ডেপুটেশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে এ উপজেলা থেকে অন্যত্র বদলি করলেও ওই সময় নানা তদবীর করে এই উপজেলায় থেকে যান।

উপজেলা সঃ প্রাঃ বিঃ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহেল কাফী জানান, শিক্ষা কর্মকর্তার নিদের্শনা অনুযায়ী আমরা উপজেলার সকল প্রধান শিক্ষকগণ সস্নিপের কাজ সম্পন্ন করে বিল ভাউচার দাখিল করলে দীর্ঘ সময়ের পর তিনি চেক প্রদান করেন। কিন্তু ততদিনে অর্থ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাকা ফেরত চলে যায়। সস্নিপের টাকা না পাওয়ায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহিদুল ইসলাম ফারুক জানান, শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম সাহেব হজ পালন করার জন্য ১০ আগষ্ট থেকে ছুটিতে আছেন। এ অবস্থায় তার বদলি আদেশ অফিসে এসেছে। সস্নিপের টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকগণ মার্চ মাসে বিল দাখিল করলেও অজ্ঞাত কারণে তা সময়মত অনুমোদন না করায় এ ঘটনা ঘটে। ২১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার দুর্নীতির বিষয় তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ডিডি মহোদয় ১০ সেপ্টেম্বর তদন্ত করেছেন। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম হজ পালনের কারনের সৌদিআরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২০
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৬২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.