নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
সাগরতীরে গড়ে তোলা হচ্ছে বে টার্মিনাল আগামী জুন থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি
এফএনএস
অচিরেই বঙ্গোপসাগর তীর ঘেঁষে শুরু হচ্ছে বে টার্মিনাল তৈরি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ৬৮ একর জমি বুঝে পেয়েছে। আর ওই জমি পেতে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা। প্রথম ধাপে ৬৮ একর জমিতে নির্মিত হবে একাধিক ইয়ার্ড। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর বর্তমানে চালু থাকা এফসিএল কন্টেইনার বা কন্টেইনার খুলে খোলা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থানান্তর করা হবে। আমদানিকারকরা আগামি বছরের জুন থেকেই বে টার্মিনাল থেকে এফসিএল পণ্য সরবরাহ নিতে পারবেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পতেঙ্গা থেকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছন হয়ে রাসমনি ঘাট পর্যন্ত সাগরতীর ঘেঁষে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় বে টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে। মূলত পণ্যবাহী জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারার বিশাল সুবিধা কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ শুরু হয়। বিগত ২০১৪ সালে ৯০৭ একর জমিতে বে টার্মিনাল গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জমি বুঝে নিতে বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ৪ বছর সময় লেগে যায়। বর্তমানে ৯০৭ একর জমিতে বে টার্মিনাল গড়ে তোলা হলেও পর্যায়ক্রমে সাগর থেকে পাওয়া আরো কয়েক হাজার একর জমি ওই বে টার্মিনালে যুক্ত হবে। ফলে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বর্তমান আকারের চেয়ে অনেক বড় হবে ওই বে টার্মিনাল।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সর্বোচ্চ ১৮০০ একক ধারণক্ষমতার কন্টেইনারবাহী জাহাজ ঢুকতে পারে আর বে টার্মিনালে একসাথে ৫ হাজার একক কন্টেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। এখন জোয়ার-ভাটার ওপর ভিত্তি করে জাহাজগুলো বন্দরে জেটিতে ভেড়ার সুযোগ পায়। কিন্তু অবস্থানগত সুবিধার কারণে বে টার্মিনালে দিনে-রাতে জাহাজ জেটিতে ভিড়তে ও ছেড়ে যেতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯টি জাহাজ ভিড়তে পারে আর বে টার্মিনালে একসাথে ৩০-৩৫টি জাহাজ ভিড়তে পারবে। শুধু তাই নয়, বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছতে একটি জাহাজকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়। তার বিপরীতে বে টার্মিনাল জেটিতে ভিড়তে লাগবে মাত্র এক কিলোমিটার। তাছাড়া বে টার্মিনালে পণ্য জাহাজ থেকে নামিয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে চলে যেতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের আয়তন ৩৩০ একর আর বে টার্মিনালের আয়তন ৩ গুণ বড় ৯০৭ একর। এখন বন্দর জেটিতে সাড়ে ৯ মিটার গভীর এবং ১৯০ মিটারের বড় জাহাজ ঢুকতে পারে না। ফলে বহির্নোঙর থেকে পণ্য লাইটার বা স্থানান্তর করে ছোট জাহাজে পণ্য জেটিতে আনতে হয়। কিন্তুবে টার্মিনালে ১০-১২ মিটার গভীরতার জাহাজ সরাসরি প্রবেশ করতে পারবে। তাতে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে।

সূত্র আরো জানায়, এফসিএল কন্টেইনার ভর্তি পণ্য বে টার্মিনাল থেকে সরবরাহ করা গেলে দিনে অন্তত ১৬ হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্দরের ভেতর প্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব হবে। ১৬ হাজার ট্রাক, সাথে চালক-সহকারী এবং কর্মরত শ্রমিকদের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে সরাতে পারলে বন্দরের বিশাল স্থান খালি হবে। তাতে বন্দরের সক্ষমতা এখনকার চেয়ে অনেক গুণ বাড়াবে। পাশাপাশি বন্দরভিত্তিক ওসব ট্রাকের কারণে নগরবাসীকেও আর যানজট সইতে হবে না। কারণ ওসব ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য নিয়ে টোল রোড দিয়ে সরাসরি মহাসড়কে চলে যেতে পারবে।

এদিকে বন্দরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বার্থ অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও টার্মিনাল অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী জানান, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে এই বে টার্মিনাল। বন্দরের কি গ্যান্ট্রি ক্রেন বাড়ানোর চেয়েও ভালো হতো যদি এই টার্মিনাল দ্রুত চালু করা যেতো। কারণ কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ হলেও ইয়ার্ডের পেছনে প্রচুর খালি স্থান না থাকায় খুব বেশি সুফল মিলবে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম সামশুজ্জামান রাসেল জানান, অবস্থানগত কারণে বিশাল সম্ভাবনাময় এই বে টার্মিনাল। কন্টেইনার, খোলা ও ট্যাংকার সব ধরনের জাহাজ জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর না করে সরাসরিই বে টার্মিনালে ভিড়তে পারবে। পণ্য আমদানিতে প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও জেটি না থাকায় সক্ষমতা ফুরিয়ে যাচ্ছে। ওই চাপ সামাল দিতে দ্রুত বে টার্মিনাল নির্মাণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারণ যত দ্রুত এই টার্মিনালে জেটি নির্মাণ করা যাবে, অন্য কোনো স্থানে সেভাবে সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ জানান, আগামি বছরের মাঝামাঝি থেকে এফসিএল কন্টেইনার বে টার্মিনাল থেকে সরবরাহ দেয়া হবে। ওই লক্ষ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। জমি বুঝে পাওয়ার পরপরই সেখানে ইয়ার্ড নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৯
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫০৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.