নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
৭১'এর মুক্তিযুদ্ধ । আজ ১৩ সেপ্টেম্বর
সাপাহারবাসীর জন্য এক স্মরণীয় ও শোকাবহ দিন
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রতি বছরের ন্যায় সাপাহারবাসীদের কাঁদাতে ও ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল বীভৎস দিনটি স্মরণ করিয়ে দিতে আবারো ফিরে এলো সেই ১৩ সেপ্টেম্বর। আজকের এই দিনে উপজেলার বেশ কয়েকজন স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধা শত্রু সেনাদের কবল থেকে সাপাহারবাসীকে মুক্ত করতে গিয়ে তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন ও বেশ কয়েকজন আহত হন। তাই প্রতি বছর এই

দিনে অনেক সন্তান হারা মা, ভাই হারা বোন তাদের সেই নিহত সন্তান ও স্বজনদের কথা স্মরণ করে নীরবে চোখের পানি ফেলেন ও মাঝে মধ্যে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

এলাকার কয়েকজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের নিকট থেকে জানা যায়। ১৯৭১ সালে দেশে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হলে দেশের অন্যান্য এলাকার মত তৎকালীন স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকারদের সহযোগিতায় সাপাহার উপজেলাও পাকিস্তানী বাহিনীর দখলে চলে যায়। বর্তমান উপজেলা সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এলাকাকে তারা তাদের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলে আর এখান থেকেই তারা প্রতি দিন এলাকার চিহ্নিনিত রাজাকারদের দেয়া নির্দেশ মত বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সাধারণ নিরীহ মানুষের ধনসম্পদ লুট,পাট মা বোনদের ইজ্জত হরণ করে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে। যুদ্ধের প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলে সেপ্টম্বর মাসে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত অবস্থায় পাকিস্তানী বাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার সাপাহারবাসীকে মুক্ত করতে সাপাহার উপজেলার ও পার্শ্ববর্তী মহাদেবপুর উপজেলার ৮০ জন মুক্তি যোদ্ধার একটি সংগঠিত দল সাপাহারের শক্তিশালী তৎকালীন পাকিস্তানী মিলিটারী বাহিনী লেঃ শওকত আলীর ওই শক্তিশালী ঘাঁটিটি চিরতরে উৎখাত করে সাপাহারবাসীকে নরপিচাশদের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য গোপনে এক বৈঠক করে দৃঢ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় তারা। শেষে সময় ও সুযোগ বুঝে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে মুক্তি যোদ্ধার সজ্জিত দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি উপদলকে সাপাহার-মধইল রাস্তার মধইল ব্রিজে বাইরের শত্রুদের গতিবিধি দেখার জন্য রাখা হয় আর মূল দলটি ওই বিদ্যালয়ের উত্তর পূর্ব দিকে একটি ধানক্ষেতে অবস্থান নেয়। ঠিক এসময় দেশের রাজাকার আলবদর মারফত মুক্তি যোদ্ধাদের আক্রমণের সংবাদ পৌঁছে যায় শত্রু শিবিরে। তাৎক্ষণিক তারাও যুদ্ধের প্রস্ততি গ্রহণ করে। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে ভোর রাতে আক্রমণ চালায় ধানক্ষেতে অবস্থান নেয়া দলটি। পাইলট মাঠ থেকে শত্রু সেনারাও পাল্টা আক্রমণ চালাতে শুরু করে। ঘন্টাকাল এক টানা যুদ্ধের পর মুক্তি যোদ্ধার দলটি যখন পাক সেনাদের প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছিল ঠিক তখনই ভোরের আভাস পেয়ে মধইল ব্রিজে অবস্থান নেয়া মুক্তি যোদ্ধার উপদলটি সেখান থেকে সরে পড়ে আর সে মহূর্তে পত্নীতলা উপজেলা সদর ও মধইল বাজার এলাকা থেকে অসংখ্য পাক সেনারা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাপাহারে প্রবেশ করে। নতুন শত্রু সেনার অনুপ্রবেশে শত্রুবাহিনীর শক্তি দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায় এবং তারা এক সময় স্বল্পসংখ্যক মুক্তি যোদ্ধার দলটিকে ধরাশায়ী করে ফেলে । এসময় শত্রু সেনার গুলির আঘাতে যুদ্ধের মাঠেই শাহাদাৎ বরণ করেন মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান, আইয়ুব আলী, আব্দুল হামিদ সহ ১৫ জন। আহত হন মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলী, এস এম জাহিদুল ইসলাম, দলনেতা আহম্মদ উল্লাহ, সোহরাব হোসেন, নুরুল ইসলাম সহ অনেকে। এ ছাড়া শত্রুদের হাতে জীবিত ধরা পড়েন ৮জন। এসময় শত্রু সেনারা যুদ্ধের মাঠ থেকে সাপাহারের তিলনা গ্রামের আবু ওয়াহেদ গেটের, মহাদেবপুর উপজেলার এসএম জাহিদুল ইসলাম সহ ৮ জন মুক্তি যোদ্ধাকে ধরে এনে মধইল স্কুলের ছাদে তুলে ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা করে লাথি মেরে লাশ ছাদ থেকে মাটিতে ফেলে দেয়। অপর ২ জনকে মহাদেবপুর এনে একটি কূপে ফেলে দিয়ে জীবন্ত কবর দেয় আর দুজনকে নাটোর জেলাসদরে ধরে এনে তৎকালীন তাদের তৈরী রাজবাড়ীর জেলখানায় বন্দী করে রাখে। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া এস এম জাহিদুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রতিবেদকের সামনে হাউ, মাউ করে কেঁদে ফেলেন ও ঘটনার বর্ণনা দেন। তাই আজকের এই দিনে সাপাহারে অনেকে দিনটির কথা স্মরণ করে অঝোরে তাদের চোখের পানি ফেলেন ও ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর দিনটি ঘুরে এলেও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দিনটি স্মরণে কোন স্মরণসভা কিংবা দিবসটি উদযাপন করা না হলেও সাপাহারের সাংবাদিকগণ তাদের স্ব-স্ব পত্রিকায় দিনটি স্মরণে দিবসটির বর্ণনা লিখে ঘটনাবলীর স্মরণ করে থাকেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২০
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.