নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
জাতীয় উন্নয়নে সুনেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিক বোধের গুরুত্ব!
আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত বাংলা দৈনিক 'আনন্দবাজার' পত্রিকা গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সম্পাদক সমীপেষু কলামে রাজ শেখ দাস, কলকাতা-১২২ থেকে যে বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন তার শিরোনাম করা হয়েছে 'সব তিনিই মেটাবেন'?

লেখকের বক্তব্যটি যেমন চমৎকার তেমনি বিষয়টির ভাবার্থের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব ও কার্যক্রমের সঙ্গে যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়ায় আমার আজকের এ লেখার মূল উদ্দেশ্য।

লেখার শুরুতে 'রেড' চিহ্নে চিহ্নিত করা হয়েছে সরকার ও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তারপর লেখকের বক্তব্য, এক সপ্তাহব্যাপী সিরিয়াল ইন্ডাস্ট্রির অচলাবস্থার অবসান ঘটল মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে। সকাল-দুপুর সন্ধ্যায় মেগাসিরিয়ালে মগ্ন রাজ্যবাসী ধন্য ধন্য করল মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক দক্ষতার। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে গেল। প্রথমত, সাড়ে ৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যে কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য কেন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়? পাহাড়, জঙ্গলমহল, ভাঙড়, যাদবপুর, ছাত্রভর্তি, বাস ভাড়ার জট, রেশনের বিলি বন্দোবস্ত, বেসরকারি হাসপাতালের দৌরাত্ম্য, ডেঙ্গি থেকে টলি-টেলিউডের অচলাবস্থা হরেক রকম সমস্যা সমাধানের জন্য কেন দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি উঠে এলেন না? প্রযোজক শিল্পী থেকে কলাকুশলী প্রায় সকলেই শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় কীভাবে? রাজ্যবাসীর এক বড় অংশ আজ বোকা বাঙ্রে পানে চেয়ে বিনোদন তৃপ্ত হয়। সিরিয়াল বন্ধ সমস্যার চটজলদি সমাধান যদি হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে, তিনি খুব সহজেই দর্শকদের নয়নের মণি হয়ে উঠেন। এ কম প্রাপ্তি নয়! তারপরও লেখক বলতে চেয়েছেন, বাস্তবতার বাইরেও ট্রেনে, বাসে, চায়ের দোকানে বসা একাধিক জনসাধারণ এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে দেখেছি। আসলে এটাই এখন সকল দেশের রাজনীতি।

২৪ আগস্ট পিতা-পুত্র মিলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরেছি। রাজনৈতিক জনমত সহজেই শুনেছি। বেশির ভাগ জনমত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। জনতার অভিমত, দলীয় লোকজনের মধ্যে দুর্নীতি থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা সর্বোপরি নাগরিক সুবিধা প্রদানে তার বিকল্প নেতা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নেই বলে জানতে পারলাম।

শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় সকল শিক্ষা জাতীয়করণ (প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক), শিক্ষার্থীদের টিফিন প্রথা, ছাত্রছাত্রীদের ফ্রি সাইকেল প্রদান, বৃত্তি, উপবৃত্তি প্রদান, মেয়েদের ১৮ বছর পর বিয়ে সাদির খরচ (৪৫ হাজার টাকা প্রদান) প্রদানসহ বিচিত্র সহযোগিতা ও অনুদান-প্রদান ছাড়াও সাধারণ নাগরিকদের দু'টাকা কেজি মূল্যে চাল প্রদান গরিব, গৃহস্থ সকল স্তরের মানুষদের রেশনিং ব্যবস্থার সুযোগ প্রদান, গরিব মানুষদের গৃহনির্মাণ, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সমব্যবহার, মসজিদ মাদরাসা জাতীয়করণ বা আর্থিক সাহায্য দান, ইদগা ময়দানে প্রাচীর নির্মাণে অর্থ দান, নির্দিষ্ট সংখ্যক মসজিদের ইমাম সাহেবদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা। তারপরও কেন্দ্রীয় সরকারকে জিজ্ঞাসা করেন, 'কালো টাকা কোথায় গেলো'? কলাম -৩০ আগস্ট ২০১৮। অর্থাৎ মমতা সর্বত্রই জনগণের পক্ষে।

পশ্চিমবঙ্গের বশিরহাট মহাকুমাস্থ বালতি অঞ্চলের পাটনিঘাটা (বয়ারঘাটা) নামক বাজারে বসে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তির বক্তব্য শুনছিলাম। তার প্রথম বক্তব্যটা ছিল আপনাদের বাংলাদেশে আবার তো ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বহু মানুষ তো ভারতে এসেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যার কথা বললে তিনি বলেন, ওতো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত! দেশের অবস্থার কথা বলতে যেয়ে বলেন, বাংলাদেশ ভারত অপেক্ষা (জিডিপি) অর্থাৎ মাথাপিছু আয়ে তো ফার্স্ট। তারপর অনেক কথা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নাটকীয়ভাবে বহু কাজ করেছেন, মানুষের উপকারও করেছেন। সর্বোপরি জাতীয়ভাবে যা করেছেন সেটাও মন্দ কী? তারপরও জনমত কী বলে? কেউ ভালো বলে, কেউ মন্দ বলে। একচেটিয়া সুনাম কোথাও নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ, জাতি এবং এদেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য যা যা করেছেন ঃ

বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, ২) মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছেন ৩) মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ৪) প্রতিবন্ধী ভাতা ৫) বিধবা ভাতা ৬) ফেয়ার প্রাইজ কার্ড ৭) বৈশাখী ভাতা ৮) স্বপ্নের পদ্মা সেতু ৯) ফ্লাইওভার নির্মাণ ১০) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ ১১) বিনামূল্যে বই বিতরণ ১২) গরিব শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান ১৩) সমতার ভিত্তিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ১৪) একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ১৫) নারীর ক্ষমতায়ন ১৬) ছিটমহল সমস্যার সমাধান ১৭) মেট্রোরেল ব্যবস্থা ১৮) মাদক ও জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে সফলতা ১৯) ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা ২০) স্যাটেলাইট বঙ্গবঙ্গু-১ সফল উৎক্ষেপণ ২১) ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র ২২) কমিউনিটি ক্লিনিক ২৩) বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ ২৪) বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ২৫) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ২৬) রফতানি আয় বৃদ্ধি ২৭) মাতৃকালীন ছুটি ২৮) শিশু মৃত্যুহার রোধ ২৯) পোশাক রফতানিতে বিশ্ব জয় স্থান অধিকার ৩০) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ৩১) খাদ্য উবৃত্ত ৩২) রাজস্ব বৃদ্ধি ৩৩) তথ্যপ্রযুক্তির পরিবর্তন।

এসবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিস্ময়কর উন্নতির সোপান। তারপরও সকল মানুষের নিকট প্রধানমন্ত্রী কি প্রিয়? সবার নিকট প্রিয় না হওয়ার কারণ বহুবিধ। এক রাজনৈতিক মতাদর্শ দুই দলীয় মানুষের দুর্নীতি তিন জাতীয় চরিত্রে চৌর্যবৃত্তির প্রভাব পড়ে যে যখন ক্ষমতায় থাকেন, তার ওপর।

এই যেমন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা চুরির ফলে স্থানীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ হওয়ার কারণে নতুন করে বিদ্যুতের লোডশেডিং, ব্যাংক থেকে সোনা ও টাকা চুরি, পাথর চুরি, শিশু-কিশোরদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দেশের প্রশাসনের উচ্চ স্তরের ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক, জ্ঞানীজন, গুণীজন সবাই যে আইন ভঙ্গ করে চলছেন প্রমাণ তো হাতেনাতে মিললো। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণে আমরা কি জানতে পেলাম? জানতে পারলাম সারাদেশে পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণে তিন হাজার পরীক্ষার্থী নতুন করে কৃতকার্য হয়েছেন। তবে দুঃসংবাদ যেটি সেটি হলো_

ক. যারা পাস করেছেন তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ অকৃতকার্য হয়েছেন। খ. যারা অকৃতকার্য হয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ জিপিএ-৫ ও পেয়েছেন। গ. অধিক সংখ্যক পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। তারপরও বলতে হয় অকৃতকার্যরা সবাই যদি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোতে আবেদন করতেন তাহলেই বা কী রেজাল্ট আসতো?

দেশের খুঁটিনাটি সব বিষয়ই যদি প্রধানমন্ত্রী (বাংলাদেশ) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দেখভাল করতে হয় তাহলে পররাষ্ট্র বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও দেশের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় নিয়ে তারা মাথা ঘামাবেন কখন বা মাথা ঘামানোর সময়ই বা কোথায়?

আমি পত্রিকায় লেখালেখি করি তাই সবাই বলতে চান, যশোর জেলার শার্শা উপজেলাস্থ বাগআঁচড়া কলেজ রোডের দুরবস্থা নিয়ে কিছু লেখালেখি করা যায় না? বললাম বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর চিঠিপত্র কলামে লিখেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ইলিয়াছ কবির বকুলকে জানিয়েছি কিন্তু এ পর্যন্ত (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮) কোনো সাড়া মেলেনি।

তাহলে এ বিষয়টি নিয়ে কী প্রধানমন্ত্রীকে লিখতে হবে? মশা মারতে যদি কামান দাগতে হয়...? এবং এতো ছোট সমস্যার সমাধানের কথাও কী প্রধানমন্ত্রীকে বলা যায়?

এমনি নানাভাবে দেশ নেতৃত্ব দ্বয়ের জনমত কোথাও কোথাও সমালোচিত হলেও দেশ পরিচালনায় দু'দেশের দুই নেত্রী হয়তোবা আরো বেশি রাজনীতিতে সুনাম অর্জনসহ দেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতেন। যদি দেশের অধিকাংশ নাগরিক সচেতন এবং সৎ হতেন।

আমরা অনেকেই এপার বাংলা ছেড়ে যখন ওপর বাংলায় যাই তখন ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের মমতার নেতৃত্ব ও উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হই কিন্তু সে দেশেরই একজন গ্রাম্য সচেতন নাগরিক বললেন, ভারত অপেক্ষা বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু আয় বেশি। তারপরও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাখাতে সরকারের বিনিয়োগ বেশি। এটাতে আমরা একটু পিছিয়ে কি-না জাতীয়ভাবে সেটাও ভাবতে হবে বৈকি। কারণ শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। শিক্ষাখাতের সকল দুর্নীতি দূর করার পদক্ষেপ নেয়াটাও জরুরি। বিষয়টির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৯
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪৯৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.