নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০
হায়দ্রাবাদ ট্র্যাজেডি
মো. ইয়ামিন খান
হায়দ্রাবাদ রাজ্যের নিজামদের নিজাম-উল-মূলক বলা হতো। এক সময়ে হায়দ্রাবাদ মোগল সামাজ্যভুক্ত হয়। ১৭১৩ থেকে ১৭২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দাক্ষিণাত্যের মোগল সুবেদার হিসেবে কামরুদ্দীন খান দীর্ঘদিন হায়দ্রাবাদ শাসন করে যেতে থাকেন। ১৭০৭ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর যখন দুর্বল সম্রাটরা রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন তখন ১৭২১ খ্রিস্টাব্দে কামারুদ্দীন খান মোগল সাম্রাজ্য থেকে পৃথক হয়ে হায়দ্রাবাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং স্বাধীন নিজাম উপাধি নিয়ে হায়দ্রাবাদ রাজ্য শাসন করতে থাকেন। হায়দ্রাবাদে স্বাধীন বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ২২৯ বছর পর্যন্ত টিকে ছিল। হায়দ্রাবাদে উর্দু ছিল একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তাদের জাতীয় সঙ্গীত ও পৃথক সেনাবাহিনী ছিল। ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের পদানত হওয়ার পর ব্রিটিশদের অনুমতিক্রমে নিজামরা ব্রিটিশদের নতজানু হয়ে স্বাধীন রাজ্য চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মূর্তিপূজক হিন্দু ভারত স্বাধীন হওয়ার পরপরই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উপর আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে মূর্তিপূজক হিন্দু ভারত সরকার। হায়দ্রাবাদ, জুনাগড় ও কাশ্মীর ছাড়া সকল রাজ্যই ভারতের অন্তর্গত হয়েছিল। এই তিনটি বেয়ারা রাজ্যকে কিভাবে উদরস্থ করা যায় তার জন্য নতুনভাবে কোমর বেঁধে নামে ভারত। কেননা, হিন্দু ভারত সরকার তার রাজনৈতিক গুরু কৌটিল্য যিনি চানক্য নামেও পরিচিত ছিলেন তার মতাদর্শে বিশ্বাসী যে কৌটিল্য ছিলেন তৎকালীন মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধান অমাত্য যার মতাদর্শ হচ্ছে, ক্ষমতা অর্জনের লোভ ও অন্য দেশ বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা কখনও মন থেকে মুছে ফেল না। সব সীমান্তবর্তী রাজাকে শত্রু বলে মনে করবে। চানক্যের এই উপদেশকে শিরোধার্য করে মূর্তিপূজক হিন্দু ভারত তার আগ্রাসী নীতি অবলম্বন করে। জুনাগর ও কাশ্মীরকে ভারতভুক্তির পর সর্বশেষ ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার হয় স্বাধীন হায়দ্রাবাদ। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারত হায়দ্রাবাদে নানা রকম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিজাম তা শক্ত হাতে দমন করেন। ১৯৪৮ সালের জুলাই মাসে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ঘোষণা করলেন, যখন প্রয়োজন মনে করবো তখন হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করা হবে। এক পর্যায়ে ভারত বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যার অংশ হিসেবে কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় করা হয়, হায়দ্রাবাদের রাজনীতিকে কলুষিত করা হয়, শিক্ষাঙ্গন, সাংস্কৃতিক জগৎ, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুগত লোক তৈরি করা হয়, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অনুগত দালাল সৃষ্টি করা হয় এবং হিন্দু মৌলবাদীদের দিয়ে নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড উস্কে দেয়া হয়। কংগ্রেসের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দু মহাসভা, আরএসএস ও আর্য সমাজ এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তেলেঙ্গগনায় কম্যুনিস্ট বিদ্রোহ দমনের অজুহাতে অপারেশন পোলো নামে মূর্তিপূজক হিন্দু ভারতীয় সৈন্যবাহিনী হায়দ্রাবাদে আক্রমণ চালায়। তাদের সর্বগ্রাসী আক্রমণ শুরুর আগেই সেনাপ্রধান আল ইদরুসকে কিনে নিয়েছিল ভারত। আল ইদরুস দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলো অরক্ষিত রেখেছিল, সেনাবাহিনীকে করে রেখেছিল অপ্রস্তুত। মূর্তিপূজক হিন্দু ভারত সেনাপ্রধানের সহায়তায় হায়দ্রাবাদে তার বিপুল সেনাশক্তি, পদাতিক বাহিনী ও বিমান বাহিনীসহকারে শুরু করলো সামরিকভাবে আক্রমণ। প্রথমে ট্যাংক বাহিনী আক্রমণ শুরু করে। এরপর বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ করে বিভিন্ন বিমানবন্দর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে আর্য সমাজ ও অন্যান্য হিন্দু মৌলবাদী সংগঠনগুলো হায়দ্রাবাদে প্রায় দুই লাখ মুসলিমদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। মূর্তিপূজক হিন্দু ভারতীয় সৈন্যবাহিনী মুসলিম নিরীহ নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, শিশুদের হত্যা করেছে, বিমান দিয়ে বোমা বর্ষণ করে শহর বন্দর গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। তাদের এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর একটি মাত্র উদ্দেশ্য তা হচ্ছে হায়দ্রাবাদের শেষ নিজামকে ক্ষমতাচ্যুত করা। অনেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতীয় বাহিনী রাজধানীর দিকে ধাবিত হয় এবং হায়দ্রাবাদ ভারতের দখলে পরিণত হয়। হায়দ্রাবাদ হিন্দু ভারতের পদানত রাজ্যে পরিণত হওয়ার পর একে অন্ধ্র, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র এই তিন রাজ্যে বিভক্ত করা হয়। প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ইসলামের মূলভিত্তি তওহীদ সম্পর্কে কেননা, একজন মুসলিম মুমিন, উম্মতে মোহাম্মদী হওয়ার শর্ত হচ্ছে তওহীদ, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়া। অর্থাৎ আল্লাহ ও তার রাসুলের ওপর সর্বব্যাপী ঈমান আনা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলল্লাহ (সা.)-এর ওপর ঈমান আনা যার অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা, আইনদাতা, বিধানদাতা, আদেশদাতা, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইন-কানুন, দন্ডবিধি, বিচারব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, আন্তর্জাতিকসহ জীবনের সর্বাঙ্গনে জীবনের প্রতিটি বিভাগে যেখানে আল্লাহর কোনো হুকুম আছে সেখানে আর কারো হুকুম মানা যাবে না। এটাই হচ্ছে কালেমার অঙ্গীকার, ইসলামের মূলমন্ত্র। এককথায় সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটাই হচ্ছে আল্লাহর হুকুম । আদম (আ.) থেকে আখেরি নবী মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত দুই লাখ চবি্বশ হাজার নবী রাসুলগণ এই তওহীদ, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। আল্লাহর এই তওহীদ জাতীয় জীবনে মেনে নেয়ার পার্থিব জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি-নিরাপত্তা এবং আখেরাতে জান্নাত আর না মানার ফল পার্থিব জীবনে সীমাহীন অশান্তি আর আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি জাহান্নাম। আজ মুসলিম নামক জনসংখ্যাটি রাজতন্ত্র (রাজা, বাদশাহ, সম্রাটের শাসন), একনায়কতন্ত্র (একনায়ক বা ডিক্টেটরের শাসন), সমাজতন্ত্র সাম্যবাদ (জনগণের একটি বিশেষ শ্রেণির শাসন) এবং গণতন্ত্র (জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন) সহমানবরচিত জীবন ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বলেছেন, যারা আল্লাহর নাযেলকৃত বিধান মোতাবেক শাসনকার্য বিচার ফয়সালা করে না তারা কাফের, জালেম, ফাসেক। (সুরা মায়েদা: ৪৪, ৪৫, ৪৭) আল্লাহ আরও বলেছেন, তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ না করো, তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের প্রতিফল হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা, অপমান এবং আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা বাকারা ৮৫) প্রকৃত ইসলাম ত্যাগ করে ইবলিসের কু-প্ররোচনায় বিকৃত ইসলাম এবং মানুষের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়ার পরিণতি হিসেবে মহান আল্লাহ এই মুসলিম নামধারী জনসংখ্যাটিকে পৃথিবীর অন্যান্য জাতির গোলামে পরিণত করে দিয়েছেন। যার অংশ হিসেবে আল্লাহ মূর্তিপূজক হিন্দু ভারতীয় সৈন্যবাহিনীকে দিয়ে হায়দ্রাবাদকে দখল করালেন, সেখানকার মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করালেন। এখনও আল্লাহর লোমহর্ষক শাস্তির অংশ হিসেবে ইহুদি খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধরা ইরাক-আফগানিস্তান-চেচনিয়া-বসনিয়া-লিবিয়া-প্যালেস্টাইন-লেবানন-কাশ্মীর, আসামসহ ভারতের সর্বত্র এবং মায়ানমারে এই জাতিটাকে নির্বিচারে হত্যা করছে, মা-বোনদের ধর্ষণ এবং বাড়ি ঘরে অগি্নসংযোগ ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। আখেরাতেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহর শাস্তি হলো দুনিয়া ও আখিরাতে। এই ঘুমন্ত মুসলিম জনসংখ্যাটি যদি হায়দ্রাবাদ ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে তওবা করে শেরক ও কুফর তথা মানুষের সার্বভৌমত্ব বাদ দিয়ে জাতীয় জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, প্রকৃত তওহীদ মেনে নেয়, তাহলে এই জাতি তার হারানো গৌরব আবার ফিরে পাবে, ১৩০০ বছর আগে মোনাফেক আমীর ওমরাহদের বন্ধ করা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার কঠিন, সর্বাত্মক সংগ্রাম জিহাদ আবারো শুরু হবে। তাদের জাতীয় চরিত্র, সঠিক আকিদা আল্লাহর রাসুল (সা.) এর হাতে গড়া বিশ্ববিজয়ী উম্মতে মোহাম্মদীর মতোই হবে। তখন আবারো এই জাতি হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ট জাতি। শেষ যামানায় হিন্দুস্থানে একটি বড় যুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কিছু ভবিষ্যৎবাণী হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের একটি দল ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ সেই মুজাহিদদের বিজয় দান করবেন। তারা হিন্দুস্থানের শাসকদের শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ সেই মুজাহিদদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। যুদ্ধ শেষে মুসলিম বাহিনী সিরিয়াতে আসবে এবং ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) এর সাক্ষাৎ পাবে (আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিস)।

মো. ইয়ামিন খান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০২১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.