নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১
বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
রাজধানীতে দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিশোরদের 'গ্যাং কালচার'। স্কুল-কলেজের গ-ি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে আদনান কবির নামে এক কিশোরকে হত্যার পর এই 'গ্যাং কালচারের' বিষয়টি সামনে আসে। এরপর এসব গ্রুপের ব্যাপ্তি বেড়েছে। ১৫-২০ বছর বয়সী কিশোরদের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ২০ জন করে সদস্য থাকে। তবে এখন শুধু ঢাকায় নয়, গ্যাং কালচার চালু হয়েছে দেশের আনাচে-কানাচেও।

মূলত কিশোর বয়সে একটা 'নায়কোচিত' চিন্তা-ভাবনা থেকেই গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশে। দিনকে দিন আশঙ্কাজনক হারে দেশজুড়ে- হত্যা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে এসব উঠতি বয়সীরা। কিশোর অপরাধের নৃশংসতার মাত্রা তাদের মূল্যবোধ ও মানবিকতাবোধকে নতুন করে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। প্রতিটি এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠছে আলাদা আলাদা কিশোর গ্যাং। কোনো কোনো এলাকায় একাধিক গ্রুপ গড়ে উঠেছে।

শুধু তাই নয়, নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা স্ট্যাটাস দেয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমোতে তারা একে অপরের সঙ্গে ভাববিনিময় করে। রাজধানীতে এ ধরনের শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশত খবর অনুযায়ী, গত তিন বছরে কিশোর গ্যাংয়ের প্রায় ৪শ' সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে চলতি বছর ১৮৫ জন এবং গত দুই বছরে ১৯০ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করে তারা। ঢাকার শিশু আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের নথি অনুযায়ী গত ১৫ বছরে রাজধানীতে কিশোর গ্যাং কালচার ও সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে ৮৬টি খু'নের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সর্বশেষ রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে ১১০ জনকে আটক করে পুলিশ। যার মধ্যে ১০৩ জনের আগের কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদেরকে সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে, বাকি ৭ জনকে ছাড়া হয়নি তাদের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায়।

কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা আগেও ছিল, এখনো আছে। আগে তারা বখাটেপনা বা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত। এখন হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর বড় কারণ পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ না থাকা। আগে গ্রামের মুরুবি্বদের সবাই ভয় পেত। এখন নগরায়নের ফলে মুরুবি্বদের কিশোররা ভয় পায় না, উল্টো মুরুবি্বরাই তাদের ভয় পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। তারা এখানে খুব একটা মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় কিশোরদের হাতে এখন মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট। তারা ইন্টারনেটে মারামারির গেম খেলছে, হরর ফিল্ম দেখছে, এগুলো তাদের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে।

কিশোর-তরুণদের এই ভয়ঙ্কর গ্যাং কালচার বন্ধ করতে শুধু প্রশাসনের একক প্রচেষ্টা থাকলে চলবে না। সন্তানরা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে এগুলো অভিভাবকদের দেখার দায়িত্ব। ব্যস্ত জীবনে অভিভাবকরা সময় না পাওয়ার অজুহাতে সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২২৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.