নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১
বেতাগীতে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাদানে অভিভাবকদের মন কেড়েছে আঁচল
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
শিশুদের সুরক্ষার জন্য সাঁতার কেন্দ্রের পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ দিবাযত্ন কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের নাম দেয়া হয়েছে আঁচল। আঁচল শিশুদের নিরাপদে রাখতে তাদের বেঁচে থাকা ও বিকাশে একটি সমন্বিত কার্যকরী কৌশল। যেখানে শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধন করা হয়। বরগুনার বেতাগী উপজেলার ১টি পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নে ১২০টি আঁচল কেন্দ্র রয়েছে। ১ থেকে ৫ বছরের শিশুকে এসব কেন্দ্রে রেখে সুরক্ষা দেয়া এবং সচেতন করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

কেন্দ্র পরিচালনায় যিনি এ কাজ করেন তাকে 'আঁচল মা' বলা হয়। তাঁর সঙ্গে একজন সহকর্মী থাকেন। আঁচল মা হিসেবে যাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে যারা ছড়াগান, গল্পবলা, কবিতা আবৃত্তি এসব

সবকাজে পারদর্শী এবং হাসি মুখি, প্রাণবন্ত ও উচ্ছল ধরনের যাদের অনেকেই নারী। প্রতিটি আঁচলে প্রশিক্ষিত 'আঁচল মা' (যত্নকারী) সপ্তাহে ৬ দিন শিশুদের ছড়া, ছড়াগান, আবৃত্তি, গল্প বলা, ছবি আঁকা শিখিয়ে থাকেন। শিশুদের রং-পেনসিল খাতা দেয়া হয়। এর ব্যতিরেকে প্রত্যেক শিশুর জন্য আঁচল কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ যেমন- টিফিন বঙ্, পানির জগ, গ্লাস, মগ, সাবান, তোয়ালে এবং শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলার সামগ্রী। আয়োজনও করা হয় খেলাধুলা। ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করা, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাতধোয়াসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও শিশুদের শেখানো হয়।

'আঁচল মা' শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সুরক্ষার কাজটি পরম মাতৃস্নেহে করে থাকেন। দুপুর ১ টার পরে কেন্দ্র থেকে বাবা-মা এসে শিশুদের নিয়ে যায়। বেতাগী পৌর এলাকার একজন 'আঁচল মা' মন্দিরা বলেন, সাধারণত সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত সময়ে বাবা- মা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় এ অঞ্চলে শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে থকে। আমরা ওই হিসাব করে শিশু সুরক্ষায় এরকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।' মোকামিয়ার সামিয়া (৭), আহম্মেদ জুবায়ের (৮), মো. কামাল (৭), মো: সানা উল্লা (৭), কাজিরাবাদের অলি উল্লাহ (১০), মোমেনা (১০), সুরাইয়া (৯) হসিয়ম (৮) এসব শিশুদের শারীরিক, বুদ্ধির, সামাজিক, আবেগীয় এবং নৈতিকতা ও মূল্যেবোধের বিকাশ হয়েছে। ভাষাগত দক্ষতাও অর্জন করছে। এ কার্যক্রম বাস্তাবয়ন করছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রিচার্স, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। অস্ট্রেলিয়ার দ্যা জজ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের কারিগরি সহায়তায় এতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের দ্য রয়াল ন্যাশনাল লাইফবোর্ট ইনস্টিটিউশন।

জানা গেছে, সব বয়েসী মানুষের মধ্যে ১ থেকে ৪ বছর বয়সের শিশুদের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ৫ থেকে ৯ বছরের শিশুদের তুলনামূলক কম ঝুঁকি। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমেছে। সকাল ৯ টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেটে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া, সাপের কামড়, বিষপান, পানিতে ডুবে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা থেকে শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে। মায়েরাও স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, পাশাপাশি তাদের মাঝে পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধসহ নানা বিষয় সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে পানিতে ডুবে যাওয়াজনিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাচ্ছে। শিশু তাহরাতের মা মোসা. ফারজানা আক্তার বলেন, শিশুরা দীর্ঘ সময় আঁচল কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে আমি নিশ্চিন্তভাবে সাংসারিক কাজ করতে পারছি। শিশুরাও অনেক কিছু শিখতে পারছে। বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওয়াব হোসেন নয়ন জানান, এখানকার শিশুরা আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ। আরো বেশি শিশুকে আঁচল কেন্দ্রে আনার জন্য আরো আঁচল কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাই।

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রিচার্স, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) আঞ্চলিক সন্বয়কারী মো. মোতাহের হোসাইন জানান, শিশুদের জন্য ইনজুরি ঝুঁকিমুক্ত ও আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা আঁচল কর্মসূচির লক্ষ্য। যাতে শিশুদের শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধির বিকাশ, ভাষার বিকাশ, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশ, নৈতিকতা ও মূল্যেবোধের সার্বিক বিকাশে সহায়তা করতে পারে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৩৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.