নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১০ আগস্ট ২০১৯, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ৮ জিলহজ ১৪৪০
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা
ঢাকায় কমলেও জেলায় বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষ প্রতিনিধি
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভার সন্ধান প্রধানত শহরে পাওয়া গেলেও মানুষের ভ্রমণসঙ্গী হয়ে যানবাহনে করে তা ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে সারাদেশে। দেশের প্রতিটি জেলাতেই ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলেছে। আর এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনি প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মাত্রা যাতে করে ভয়াবহ রূপ না নেয় সেজন্য নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

সে অনুযায়ী সরকারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কারও মধ্যে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা গেলে ঢাকার বাইরে যাওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে ঘরমুখো মানুষের স্রোতে সরকারের পদক্ষেপ

কতটা পালন হচ্ছে তা বুঝার উপায় নেই। তবে রাজধানী ও বাইরের জেলাগুলোর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার যে গতি ছিল তা কিছুটা কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই কমার হার শতকরা ৫ ভাগ। এদিকে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও রোগমুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। তথ্যমতে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সরকারের এমন পরিসংখ্যানের পরেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক কাটেনি। জ্বর হলেই ছুটছেন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসকের কাছে। আর আক্রান্তদের সময় কাটছে হাসপাতালের বিছানায়। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। চলতি মাসের প্রথম ৭ দিন হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ৮ম দিনে তা কমে যায়। বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি হয় ২ হাজার ৩শ' ২৬ জন। আগের দিন যা ছিল ২ হাজার ৪শ' ২৪ জন। সে হিসেবে ১ দিনে রোগী কমলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় হয়নি বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার সানিয়া তাহমিনা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই পরিচালকের মতে, নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে যদি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা নিধন করা যায়, তাহলে ১০ দিনের মধ্যে ৪০ শতাংশ মশা কমে যাবে। তবে গত দুদিনের বৃষ্টিতে জমা পানিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যে পরিমাণ বৃষ্টি হলে মশার লার্ভা স্রোতে ভেসে যেত, সে পরিমাণ হয়নি। তাই নিজ বাসা বাড়িতে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন ডাক্তার সানিয়া তাহমিনা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২ হাজার ৩শ' ২৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। তারও আগের ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪শ' ২৮ জন। গত বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে বলে হিসাব দেখিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেই হিসেবে বলা যায়, গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯শ' ৪৭ জন। আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন মোট ১ হাজার ১শ' ৫৯ জন। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১শ' ৬৭ জন। এদিকে ঈদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস, ট্রেন, লঞ্চে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে আক্রান্ত রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় হাসপাতালগুলো। এর মধ্যেই জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্গুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে অপরিহার্য উপাদান কীট। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

তবে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালে ঈদের ছুটিকালীন ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে গত বৃহস্পতিবারও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরে বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গুর আরডিটি ক্রয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি টাকায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ কীট কিনতে পারবে। পরবর্তীতে রোগীর উপসর্গ দেখে পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়লে তারা বিনামূল্যে টেস্ট করাবে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলো নির্ধারিত দামে ডেঙ্গু টেস্ট ফি নেবে। ঈদে ঢাকার বাইরে গিয়ে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের সেবার সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে। এর মধ্যেই পর্যাপ্ত কীট আমদানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহযোগিতায় ৬৪টি জেলার সিভিল সার্জন, সংশ্লিষ্ট আরএমও, মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪ জেলা সদর হাসপাতালে ঈদে রোগী বাড়ার আশঙ্কায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত এনএস১ কীট সরবরাহ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৪
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৮৮০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.