নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১০ আগস্ট ২০১৯, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ৮ জিলহজ ১৪৪০
৩০ মণের 'বাহাদুর'র দাম ১৪ লাখ ও 'বাহুবলী' ১৩
জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
রাজধানীর সড়কেই বেশিরভাগ পশুরহাট দুর্ভোগে নগরবাসী
জাহাঙ্গীর খান বাবু
কোরবানির ঈদের আর মাত্র বাকি একদিন ফলে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। চলছে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা

সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কোরবানির পশু খুঁজতে হাট থেকে হাটে ছুটছেন ক্রেতারা। অপরদিকে বিক্রেতারাও একটু ভালো লাভের আশায় দুদিন আগে থেকেই হাটে হাটে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে পশুর হাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে সড়ক-মহাসড়ক পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে এই সুবিধা নিয়ে একশ্রেণীর দালাল ও ফরিয়ারা নিজেদের উদ্যোগেই হাটের পরিবর্তে আশপাশের এলাকায় কোরবানির পশু নিয়ে হাট জমাচ্ছেন। ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কমলাপুর কোরবানির পশুর হাটে তোলা হয়েছে সাড়ে ৩০ মণ ওজনের ষাঁড়, বিক্রেতা তার নাম দিয়েছেন 'বাহাদুর'।

সঙ্গে আছে বিশাল দেহের 'বাহুবলী'। তার ওজন সাড়ে ২৭ মণ। হাটে আসা সব ক্রেতা ও বিক্রেতার নজর কাড়ছে ষাঁড় দুটি। ৩০ মণের 'বাহাদুর'-এর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। আর সাড়ে ২৭ মণের 'বাহুবলি'-এর দাম ১৩ লাখ। ষাঁড় দুটিকে আনা হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের 'এফ এন্ড এফ এগ্রো ফার্ম' থেকে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফিরোজ হাসান অনিক বলেন, শুধুমাত্র কোরবানিতে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সন্তানের মতো করে তাদের লালন-পালন করেছি। আমার খামারের সবচেয়ে বড় এ দুটি গরু। বাহাদুরের ওজন ১ হাজার ২২০ কেজি আর বাহুবলীর ওজন ১ হাজার ৭০ কেজি। এর মধ্যে বাহাদুরের দাম ১৪ লাখ টাকা চাচ্ছি। আর সাড়ে ২৭ মণের 'বাহুবলী'র দাম চাচ্ছি ১৩ লাখ লাখ।

এফ এন্ড এফ এগ্রো ফার্মের এই উদ্যোক্তা জানালেন, তার খামারের বয়স সাত বছর। এবার এই খামারটিতে ৪৭টি গরু কোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ৩৬টি খামারেই বিক্রি হয়ে গেছে। ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা হয়েছে ৮ গরু ও ১টি সাদা মহিষ। খামারটিতে সর্বনিম্ন সাড়ে তিন লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ টাকায় গরু পাওয়া যাচ্ছে।

গরু দুটির জন্য এখন পর্যন্ত ক্রেতারা কত টাকা দাম বলেছেন, জানতে চাইলে ফিরোজ হাসান অনিক বলেন, বাহাদুরের দাম আমরা ১৪ লাখ টাকা চেয়েছি, এখন পর্যন্ত সাড়ে ৮ লাখ টাকা বলেছেন ক্রেতারা। তবে ১৩ লাখ টাকা হলে বিক্রি করব বলে প্রত্যাশা আছে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। 'বাহুবলী'র দাম চাওয়া হয়েছে ১৩ লাখ, ১২ লাখ হলে বিক্রি করে দেবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে 'বাহুবলী' ও 'বাহাদুর'কে দেখতে প্রতিদিনিই কমলাপুর হাটে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তাদের বেশ কয়েকজনকে গরুর সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা গেছে। তারা বলছেন, বিশাল আকারের গরু দুটি অনেকটা হাতির মতো। এটাকে 'স্মৃতি' হিসেবে রাখার জন্য ছবি তুলে রাখছি। কারণ, কোরবানি হাট ছাড়া এত বড় গরু সচরাচর দেখা যায় না।

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র ৩ দিন বাকি। কিন্তু রাজধানীতে এখনো জমে উঠেনি কোরবানির পশুর হাট। প্রচুর পরিমাণ কোরবানির পশু থাকলেও হাটে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার।

এমনিতেই অনেকটা ক্রেতা শূন্য পশুর হাট আর এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার টানা বৃষ্টির কারণে গতকাল শুক্রবার বিক্রেতারা কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন তাদের পশু বিক্রি নিয়ে।

এদিকে গরুর হাট ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন রাস্তায় মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বেশ কিছু রাস্তা ইতোমধ্যে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পশুর হাট থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের আশা, এবার হাটে পর্যাপ্ত গরু উঠবে। এর দুটি কারণ দেখিয়েছেন তারা- প্রথমত, দেশে প্রচুর গরু উৎপাদন হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, দেশের বিশাল এলাকায় এবার বন্যা হয়েছে। সে কারণে ওইসব এলাকার মানুষ খাদ্য ও অবকাঠামোগত সমস্যায় গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিক্রেতা ও ইজারাদাররা বলছেন, গতকাল শুক্রবার কেনাকাটা শুরু হয়েছে। এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে পশুর দাম কিছুটা বেশি। অপরদিকে বিক্রেতারা বলছেন, মানুষ দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।

রাজধানীর বেশির ভাগ পশুর হাট মানছে না ইজারার শর্ত। জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার শর্তে হাটের ইজারা নিলেও তা মানছে না কেউ। প্রধান সড়ক, এমনকি ফুটপাতেও রাখা হয়েছে গরু-ছাগল। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী।

মোহাম্মাদপুরের বছিলা পশুর হাট। বছিলা সড়কের পুলিশ লাইনসের খালি জায়গা হাট বসানোর জন্য ইজারা দিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেন। অথচ প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বসানো হয়েছে হাট। এতে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। একই অবস্থা তেঁজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক কলেজ মাঠ হাটের। মাঠ ছাড়িয়ে হাট বসেছে সড়ক ও ফুটপাতের ওপর। এতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর। এছাড়াও, ভাটারা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরসহ অন্তত ৮টি হাটের পাশে সড়ক বিভাজকের ওপরও গরু রেখেছেন অনেক ব্যবসায়ী। যা পরিষ্কারভাবে ইজারার শর্ত ভঙ্গ। যদিও তা মানতে নারাজ ইজারাদাররা। সচেতনতার অভাব ইজারার শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে বলে মনে করছেন উত্তর ঢাকার মেয়র আতিকুল ইসলাম। তার মতে, এখন আর সড়কের পাশের হাট উঠিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। তবে, দুর্ভোগ হলে ব্যবস্থা নেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দনিয়া, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে পশুর হাট। এ পশুর হাট মহাসড়ক থেকে এলাকার মধ্যে বিস্তৃত হয়ে এসেছে। এছাড়া রাজধানীর শনির আখড়ায় প্রবেশের মূল সড়কেও বসেছে পশুর হাট। এতে গাড়ি, এম্বুলেন্স ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনির আখড়া প্রবেশের মুখে দু'পাশে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে মানুষের চলাচলে তীব্র সমস্যা দেখা দিয়েছে। আলেয়া নামের এক নারী জানান, মেয়েটা দুই দিন ধরে অসুস্থ। শনির আখড়ার পাশেই মাতুয়াল হাসপাতাল। তাকে হাসপাতালে নিবো বলে কোনো রিকশা শনির আখড়ার প্রধান সড়কে যেতে পারছে না।

আলেয়া জানান, সড়কের প্রবেশ গেটে গরু বেঁধে রেখেছে। মানুষই ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছে না। গাড়ি কিভাবে যাবে? আর বাচ্চাটাকে ভিড়ের মধ্যে কোলের মধ্যে নিয়ে যাওয়াটাও সমস্যা। লোভের কারণে বাজার কমিটি এভাবে মানুষকে ভোগান্তি দিচ্ছে।

শাহাবুদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তি জানান, একটা এলাকায় প্রবেশের প্রধান রাস্তা বন্ধ। ভাবেন কতটুকু মানবিক তারা। প্রশাসনের লোক দাঁড়িয়ে আছে অথচ এদের সড়ানো হচ্ছে না। আল্লাহ না করুক কোনো আগুন লাগলে বা ইমারজেন্সি এম্বুলেন্স কিভাবে এলাকায় যাবে? ইজারাদারদের বিবেক দেখে অবাক আমরা। অতিবিলম্বে প্রধান সড়ক খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

হানিফ নামের এক গরু ব্যবসায়ী জানান, শনির আখড়ায় গরু রাখার কোনো জায়গা নেই। অনেকে গরু রাখার জায়গা না পেয়ে রাস্তায় রাখছে। আমরা নিরুপায়। নীলফামারী থেকে দুটি গরু এনেছি বিক্রির জন্য। এখন আমরা এখানে গরু না রাখলে কোথায় যাবে।

এদিকে এ বিষয়ে ইজাদারদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৪৯০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.